Clay Mask Benefits

আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে মুলতানি! রূপচর্চায় নিজেদের জমি শক্ত করতে ট্রেন্ডের প্রয়োজন পড়ে না মাটির

মুলতানি, বেন্টোনাইট, কাওলিনের মতো মাটি দিয়ে ত্বকচর্চা চিরকালীন প্রথা। মাটির মাস্ক বা ক্লে ফেসমাস্কের রমরমা কখনও কমেনি। কারণ রূপচর্চার জগতে নিজেদের জমি করতে কখনও ট্রেন্ডের প্রয়োজন পড়েনি এই মাটিগুলির।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৪
মাটির মাস্ক দিয়ে রূপচর্চা।

মাটির মাস্ক দিয়ে রূপচর্চা। ছবি: সংগৃহীত।

কেবল মুলতানি নয়, আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে উৎপন্ন মাটি (বেন্টোনাইট), কাওলিনাইট খনিজ-সমৃদ্ধ মাটি (কাওলিন), মরক্কোর শুষ্ক মাটি (রাসুল), তা ছাড়া ফ্রেঞ্চ গ্রিন থেকে পিঙ্ক মাটি— ত্বকের পরিচর্যায় মাটির ব্যবহার নতুন নয়। তবে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাটি প্রয়োগ করা হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরনো মাটিই রূপচর্চার জগতে পা রাখছে নতুন করে। কিন্তু মাটির মাস্ক বা ক্লে ফেসমাস্কের রমরমা কখনও কমেনি। কারণ রূপচর্চার জগতে নিজেদের জমি শক্ত করতে কখনও ট্রেন্ডের প্রয়োজন পড়েনি এই মাটিগুলির। গুণের মস্ত তালিকাই তার প্রাথমিক কারণ।

Advertisement

প্রাক়ৃতিক ক্লে মাস্ক বানাতে প্রয়োজন পড়ে গোলাপের পাপড়ি, নিমপাতা, হলুদগুঁড়ো, জবাফুলের নির্যাসের মতো উপকরণ। ফলে প্রত্যেকটির পুষ্টিগুণই ত্বকের ভিতরে গিয়ে পৌঁছোয়। মাটি এমনিতেই ত্বকের ভিতর থেকে দূষিত পদার্থ, অতিরিক্ত তেল, পরিবেশগত ধুলিকণা ইত্যাদি বাইরে বার করে দিতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ত্বকের আস্তরণের কোনও ক্ষতি হয় না। তাই ত্বকের ডিটক্সিফিকেশনের জন্য মাটির জুড়ি মেলা ভার।

ক্লে ফেস মাস্ক বানাতে কী কী প্রয়োজন পড়ে?

ক্লে ফেস মাস্ক বানাতে কী কী প্রয়োজন পড়ে? ছবি: সংগৃহীত

কোন ত্বকের জন্য কেমন ক্লে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত?

ব্রণপ্রবণ এবং তৈলাক্ত ত্বক: খনিজে ভরা মাটির সঙ্গে নিম বা তুলসির নির্যাস মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের প্রদাহ কমে এবং অতিরিক্ত তেল বা সেবাম উৎপাদন বন্ধ হয়। এই ভেষজগুলি অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল। এগুলি ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

মিশ্র ত্বক: গোলাপ এবং চন্দনকাঠ মেশানো ক্লে মাস্ক মিশ্র প্রকৃতির ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।

শুষ্ক ত্বক: অনেকেরই ধারণা মাটির প্রয়োগে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়। কিন্তু সঠিক উপাদান মিশিয়ে মাখলে উল্টে শুষ্কতার সমস্যা কমতে পারে। আর তাই মাটির সঙ্গে দুধের গুঁড়ো, মধু, অ্যালো ভেরা, ফুলের নির্যাস মেশানো যায়। এই সমস্ত উপকরণ মেশালে মাটির সংস্পর্শে এলেও ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হতে পারে না। ত্বক নরম হয় এবং ঔজ্জ্বল্য ফেরে।

মাটিকে ত্বকের এক্সফোলিয়েটর হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে জবা আর কেশর মিশিয়ে নিতে পারেন। স্ক্রাবের মতো ত্বকে আলতো করে এই প্যাক ঘষে নিলে মৃত ত্বকের কোষগুলি ঝরে পড়ে ত্বক কোমল হয়। ক্লে মাস্ক ত্বকে শুকিয়ে যাওয়ার সময়ে রক্তের চলাচল উন্নত হয়।

মাটি দিয়ে তৈরি মাস্ক বানানো, তার পর মুখে মাখা, শেষে ধুয়ে ফেলা— গোটা প্রক্রিয়াটি খানিক সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে। চোখের পলকে ত্বকচর্চা সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার ট্রেন্ডের একেবারে বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই প্রাচীন প্রথা। প্রকৃতির উপাদান, প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে ত্বকের পরিচর্যা সময়ের দাবি করে। বাজারজাত সাধারণ শিট মাস্ক তাৎক্ষণিক ঔজ্জ্বল্য এনে দেওয়ার জন্য কার্যকরী হতে পারে, কিন্তু ত্বকের চিকিৎসা বা পরিচর্যায় মাটির প্রাকৃতিক মাস্ক বেশি কার্যকর বলে মনে করেন অনেকেই।

Advertisement
আরও পড়ুন