Skincare for Beginners

ত্বকচর্চা শুরু করবেন ভাবছেন? বিভ্রান্তি কাটিয়ে ধাপে ধাপে শিখুন, প্রথমে কী কী কেনা উচিত জানেন?

কোথা থেকে ত্বকচর্চা শুরু করবেন, তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে থাকেন। এই বিভ্রান্তির আগুনে ঘি ঢালে সমাজমাধ্যমের নানা রিল ও ছবি। আদপে কোনটি অনুসরণ করবেন, তা বুঝতে পারেন না। বরং সহজ, নিয়মিত এবং নিজের ত্বকের উপযোগী একটি রুটিনই সবচেয়ে কার্যকর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০১
ত্বকচর্চা শুরুর সজপাঠ।

ত্বকচর্চা শুরুর সজপাঠ। ছবি: সংগৃহীত।

ত্বকচর্চার শখ ষোলআনা, এ দিকে কোথা থেকে শুরু করবেন, সেটাই বুঝতে পারেন না। এমন বিভ্রান্তিতে কেবল আপনি একা নন, অনেকেই রয়েছেন। এর ফলে ত্বকচর্চা শুরুই করা হয় না। তার মধ্যে এই বিভ্রান্তির আগুনে ঘি ঢালে সমাজমাধ্যমের নানা রিল ও ছবি। আদপে কোনটি অনুসরণ করবেন, সেটি বুঝতে পারেন না। ভাল ত্বকের জন্য জটিল কিছুর দরকার পড়ে না। বরং সহজ, নিয়মিত এবং নিজের ত্বকের উপযোগী একটি রুটিনই সবচেয়ে কার্যকর।

Advertisement

ধাপে ধাপে ত্বকচর্চা শুরু

১. ত্বকের পরিচর্যা শুরু করার আগে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেকের ত্বকের ধরন ভিন্ন। এক জনের জন্য যা কার্যকরী, অন্য জনের ক্ষেত্রে তা না-ও কাজ করতে পারে। তাই নিখুঁত ত্বক পাওয়ার পিছনে না ছুটে স্বাস্থ্যকর ত্বক তৈরি করার লক্ষ্য থাকা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সহজ ভাবে শুরু করা এবং নিয়মিত চর্চা করা। কারও ত্বক তৈলাক্ত, কারও বা শুষ্ক, কারও আবার মিশ্র ধরনের ত্বক। কেউ কেউ আবার স্পর্শকাতর ত্বকের অধিকারী, কারও ত্বকের কোনও বিশেষ সমস্যাই নেই। এত কিছু দেখেশুনে তবেই ত্বকচর্চা শুরু করা উচিত।

কী ভাবে শুরু করবেন ত্বকচর্চা?

কী ভাবে শুরু করবেন ত্বকচর্চা? ছবি: সংগৃহীত

২. ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়ার পর সঠিক সামগ্রী বেছে নিতে হবে। যেমন, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-ভিত্তিক ক্লিনজ়ার, তেলহীন ময়েশ্চারাইজ়ার বেছে নিতে হবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমি, ভারী প্রসাধনী (হায়ালুরোনিক অ্যাসিড-সহ) ব্যবহার করতে হবে। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য নিতে হবে সুগন্ধিহীন, ন্যূনতম উপাদান দিয়ে বানানো জিনিস। মিশ্র প্রকৃতির ত্বকের এক এক এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রসাধনী প্রয়োজন। এ ভাবেই বুঝে বুঝে সামগ্রী বেছে নিতে হবে।

৩. এ বার তিন ধাপের সহজ রুটিন শিখে নিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে কী কী করবেন, তার একটি তালিকা দেওয়া হল—

ক্লিনজ়িং: এটি ত্বকচর্চার প্রথম ধাপ। সারা রাতে মুখে জমে থাকা ময়লা, তেল, মেকআপ পরিষ্কার করতে হবে ক্লিনজ়ার দিয়ে। মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যাতে ত্বক শুষ্ক না লাগে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমি ক্লিনজ়ার, আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-ভিত্তিক ক্লিনজ়ার বেছে নেওয়া উচিত। ৩০ সেকেন্ড ধরে মুখে মাসাজ করা দরকার ক্লিনজ়ার।

ময়েশ্চারাইজ়িং: তেলচিটে ত্বকেও জলাভাব দেখা দিতে পারে। হালকা ভিজে ত্বকে ক্রিম মেখে নিন। মুখের নীচ থেকে উপরের দিকে আলতো চাপে মাসাজ করে নিতে হবে।

সানস্ক্রিন: ত্বকচর্চার সবচেয়ে জরুরি ধাপ। রোদ ত্বকের আগাম বার্ধক্য, দাগ এবং ক্ষতির প্রধান কারণ। তাই প্রতি দিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্যবহার করতে হবে, এমনকি মেঘলা দিনেও।

ত্বকচর্চায় সানস্ক্রিনের প্রয়োজনীয়তা।

ত্বকচর্চায় সানস্ক্রিনের প্রয়োজনীয়তা। ছবি: সংগৃহীত

৪. রাতের বেলাও ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত। যাতে সারা দিনের ধুলোময়লা, দূষণের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা যায়। তা ছাড়া ঘুমোনোর আগে ত্বকচর্চা করলে সারা রাত ত্বক পুষ্টি পায়। মেকআপ থাকলে দু’ধাপে ক্লিনজ়িং প্রয়োজন। তার পর ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে শুতে হবে।

৫. ক্লিনজ়িং, ময়েশ্চারাইজ়িং এবং সানস্ক্রিন দিয়েই শুরু হবে প্রাথমিক ত্বকচর্চা। তার পর ধীরে ধীরে ত্বকের ধরনধারণ বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারেন। পরবর্তী ধাপের জন্য আরও তিনটি জিনিস কিনতে পারেন—

টোনার: নতুনদের জন্য টোনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটি ত্বককে হাইড্রেট করতে এবং পরের প্রসাধনী শোষণে সাহায্য করতে পারে। অ্যালকোহলমুক্ত, হালকা টোনার ব্যবহার করাই ভাল। ক্লিনজ়িংয়ের পর ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করার আগে প্রয়োগ করতে পারেন।

সিরাম: সিরাম হল কনসেন্ট্রেটেড ট্রিটমেন্ট, যা নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়। ভিটামিন সি যুক্ত সিরাম যেমন ত্বক উজ্জ্বল করে। নায়াসিনামাইড যেমন ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বককে আর্দ্র রাখে। শুরুতে যদিও একটি সিরামই যথেষ্ট।

এক্সফোলিয়েটর: প্রতি সপ্তাহে ১-২ বার এক্সফোলিয়েশন করতে পারেন ত্বকে। এর ফলে ত্বকের মৃত কোষ ঝরে গিয়ে ত্বককে কোমল রাখবে।

Advertisement
আরও পড়ুন