শ্যাম্পুতে সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকা কি ভাল? ছবি: ফ্রিপিক।
শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে তার লেবেল পড়ে নেন ক’জন! নামী ব্র্যান্ড দেখে কিনে ব্যবহার করলেই হল। এই যে শ্যাম্পু করার পরেই চুল আরও রুক্ষ ও খসখসে হয়ে ওঠে, তার কারণ কিন্তু এই সোডিয়াম। শ্যাম্পুতে নুন থাকা মোটেই ভাল নয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকলেই চুল রুক্ষ হবে এবং স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে ফেলবে অচিরেই।
সব ত্বকের জন্য যেমন সমস্ত প্রসাধনী ঠিক নয়, তেমনটা প্রযোজ্য শ্যাম্পুর ক্ষেত্রেও। চুলের রকমফের অনুযায়ী শ্যাম্পুর বদলও স্বাভাবিক। তাই হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তেমন শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে কেনার আগে সোডিয়াম আছে কি না, তা দেখে নিতে হবে।
কেন সোডিয়াম যথাযথ নয়?
শ্যাম্পুতে কেন সোডিয়াম মেশানো হয় তার কারণ আছে। সোডিয়াম দুই ভাবে শ্যাম্পুতে থাকে— সোডিয়াম লরেট সালফেট এবং সোডিয়াম লরেথ সালফেট। এদের কাজ হল শ্যাম্পুর ঘন ও আঠালো ভাব নিয়ে আসা। শ্যাম্পুতে সোডিয়াম যত বেশি থাকবে তত বেশি ফেনা হবে। আর শ্যাম্পু করার পরে চুল ফুলে উঠবে। মাথার ত্বক থেকে ধুলো-ময়লা, অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে এই সোডিয়াম কাজে লাগে ঠিকই, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে বাধ্য।
সোডিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত শ্যাম্পু ঘন ঘন ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যাও হতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়, ফলে চুল ঝরার পরিমাণ বাড়ে। এটি মাথার ত্বককে শুষ্ক করে দেয়, ফলে চুলকানি ও খুশকির সমস্যাও বাড়ে।
কাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর?
চুলে নানা রকম রং বা হাইলাইট করান যাঁরা, তাঁদের জন্য সোডিয়াম যুক্ত শ্যাম্পু ক্ষতিকর। এতে চুলের রং তাড়াতাড়ি উঠে যাবে, চুলও রুক্ষ হতে থাকবে।
কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করালে সোডিয়াম আছে এমন শ্যাম্পু একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এতে কেরাটিন গলে গিয়ে গোটা থেরাপিই নষ্ট হয়ে যাবে।
প্রাকৃতিক ভাবে কোঁকড়ানো চুল হলে এমন শ্যাম্পু এড়িয়ে চলতে হবে।
মাথার ত্বকে র্যাশ আছে বা মাথায় সোরিয়াসিসের সমস্যা থাকলে সোডিয়াম ক্লোরাইড যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক হবে না।