গরমের মরসুমে বাগানে কোন সব্জি গাছ বসাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
শাকসব্জি বাজার থেকে কেনাই যায়। তবে নিজে যত্ন করে বড় করা গাছে ফলন হলে, তা আলাদাই তৃপ্তি দেয়। হোক অল্প, তবু বাগানের সব্জি খাওয়ার আনন্দ অন্য রকম। গরমের মরসুমে বসিয়ে ফেলতে পারেন বেশ কয়েকটি গাছ। তালিকায় রাখবেন কী কী?
লাউ
লাউ মোটামুটি গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা— সব সময়ই মেলে। লাউ যেমন উপকারী তেমনই সহজ চাষ করা। বর্ষায় গাছ ভাল হয়, তবে বেশ কিছু প্রজাতি আছে যা গরমেও চাষ করা যায়। লাউ চাষে ক্ষার এবং অম্লবিহীন মাটি লাগে। মূল গভীরে প্রবেশ করতে পারে না বলে অনুর্বর মাটিতে লাউ হয় না। লাউ চাষের জন্য মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণে গোবর সার দেওয়া দরকার। জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল না হলে গাছের গোড়ায় জল জমতে পারে। তাতেই শিকড় পচে যাবে। লাউগাছ ছোট থাকলে ১০-১২ ইঞ্চির টব ভাল। তবে বড় হলে আরও বড় টব দরকার। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য অন্তত ৬ ঘণ্টা রোদের দরকার। গরমকালে জলের দরকার হয় বেশি।
বেগুন
বেগুনও বছরভর চাষ হয় পূর্ব ভারতে। বর্ষার পরে বসালেই গাছ ভাল হয়, তবে গ্রীষ্মকালীন প্রজাতির চারা ব্যবহার করে এপ্রিলেও গাছ বসাতে পারেন। সেক্ষেত্রে বেশি তাপ থেকে গাছ বাঁচাতে হবে। দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটিই বেগুনের জন্য সব থেকে ভাল। নাইট্রোজেন, ফসফেট, পটাশ সার গাছের বেড়ে ওঠার জন্য জরুরি। এই গাছের জন্য ঝুরঝুরে এবং হালকা মাটির প্রয়োজন।
কাঁচালঙ্কা
মে মাসেই বসাতে পারেন কাঁচালঙ্কা। দোআঁশ বা বেলে- দোঁআশ মাটি এই গাছের জন্য ভাল। চারা বড় হলে ৫-৬ ঘণ্টা সূর্যালোকের প্রয়োজন হয়। গাছের গোড়ায় জল বসলে, শিকড়ের ক্ষতি হবে, তাই জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাটিও ভাল হওয়ার দরকার। লঙ্কা গাছ বড় হলে যদি কোনও একদিকে ঝুঁকে যায় তাহলে একটি লাঠি দিয়ে লঙ্কার গাছকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখুন। মাটি, সার ও জলের পরিমাণ খেয়াল রাখতে হবে নিয়মিত। তা হলেই সময়ান্তরে লঙ্কা ফলবে গাছে। গাছের পাতায় যদি পিঁপড়ে বা মাকড়সার উৎপাত হয়, তা হলে নিম তেল স্প্রে করতে পারেন। লঙ্কা গাছ ঠিকমতো বাড়লে বছরে অন্তত দু’বার লঙ্কা পাবেন।