Bob Dylan's House

বিক্রি হয়ে গেল বব ডিলানের সাধের বাড়ি! ১৪ বছর কাটিয়েছেন এখানে, স্মৃতির আবাসে মায়ার আবেশ

বিক্রি হয়ে গেল বব ডিলানের প্রিয় নিউইয়র্কের বাড়ি। তার আনাচকানাচে ছড়িয়ে ডিলানের স্মৃতি। কেমন অন্দরসাজ সে বাড়ির?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪০
Explore the New York Townhouse Where the Music Legend Lived for 14 Years

বব ডিলানের স্মৃতি জড়ানো বাড়িটি কেমন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাঙালির আড্ডা, কফি হাউসের ধোঁয়া এবং গিটারের কর্ডে বব ডিলান এক চিরন্তন আবেগের নাম। নানা সময়েই প্রেমে, বিপ্লবে, প্রতিবাদে বাঙালির মন জুড়ে গেয়েছেন ডিলান। যুদ্ধে, সন্ত্রাসে, বৈষম্যে, অভিমানে কলম ধরেছেন তিনি। গান বেঁধেছেন, সুর দিয়েছেন। আর খুব সহজেই তা বাঙালির আবেগকে জাপটে ধরেছে বার বার। বাঙালির কাছে তিনি যেন বিদেশি নন। ডিলান সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার পর গোটা বিশ্বের ডিলান-ভক্তদের সঙ্গেই আনন্দে আটখানা হয়েছিল বাঙালিও।

Advertisement
নিউ ইয়র্কে বব ডিলানের সাধের বাড়ি।

নিউ ইয়র্কে বব ডিলানের সাধের বাড়ি।

যিনি ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ থেকে ‘হার্ড রেইন’ হয়ে ‘নকিং অন হেভেনস ডোর’ গেয়ে মানুষকে কাঁদাতে পারেন, তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাসস্থান নিয়েও যে সকলের কৌতূহল থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। সম্প্রতি বব ডিলানের প্রাক্তন নিউইয়র্ক টাউনহাউস বিক্রি হয়ে গেল। ভারতীয় মুদ্রায় তার দাম উঠেছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। বিভিন্ন বিদেশি পত্র-পত্রিকায় বাড়িটি নিয়ে লেখা হয়েছে। বাড়িটির ঠিকানা হারলেমের বিখ্যাত ‘স্ট্রাইভার্স রো’। ১৯৮৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর এই বাড়িতেই থাকতেন বব। বাঙালির প্রিয় গায়কের টুকরো টুকরো নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বাড়িটির সঙ্গে।

বাড়ির বৈঠকখানায় কাঠের কারুকাজ।

বাড়ির বৈঠকখানায় কাঠের কারুকাজ।

১৮৯৩ সালে স্থপতি স্ট্যানফোর্ড হোয়াইট বাড়িটির নকশা করেছিলেন। পাঁচটি শয়নকক্ষ এবং আড়াইটি বাথরুম রয়েছে বাড়িটিতে। অন্দরসাজে শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নকশার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

ছাদ ও সংলগ্ন বারান্দাটি ছিল বব ডিলানের বড় প্রিয়।

ছাদ ও সংলগ্ন বারান্দাটি ছিল বব ডিলানের বড় প্রিয়।

বাড়িতে ঢোকার মুখেই রয়েছে কাঠের প্যানেলযুক্ত একটি বারান্দা। সেখানে টাইলসের নানা কারুকাজ রয়েছে। বারান্দা ছুঁয়ে যাওয়া যাবে বিশাল বসার ঘরে যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ ফুট। এখানে বসেই তো কত আড্ডা, কত গান! বসার ঘর পার হয়েই রান্নাঘর। সেখানকার সাজসজ্জা ঊনিশ শতকের কথা মনে করিয়ে দেবে। হেঁশেলজুড়ে কাঠের নানা কারুকাজ ও আসবাব রয়েছে।

বাড়ির প্রতি আনাচ কানাচ তৈরি হয়েছে নিখুঁত ভাবে। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলির সঙ্গে এখনকার সাজসজ্জার মেলবন্ধন ঘটেছে।

বাড়ির প্রতি আনাচ কানাচ তৈরি হয়েছে নিখুঁত ভাবে। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলির সঙ্গে এখনকার সাজসজ্জার মেলবন্ধন ঘটেছে।

রান্নাঘরের সঙ্গেই লাগোয়া খোলামেলা ছাদ। সেখানেও বসে গল্প-গানের ব্যবস্থা রয়েছে। খানাপিনার টুংটাং স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। রয়েছে ৫০ ফুটেরও বেশি চওড়া একটি পার্লার-ফ্লোর। আর রয়েছে নানা রকম আলোর সাজ। সেখান দিয়ে খাবার জায়গা ও বসার ঘরকে জোড়া হয়েছে। ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী পকেট ডোর, নকশাদার ফায়ারপ্লেস এবং বারান্দা।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী পকেট ডোর, নকশাদার ফায়ারপ্লেস এবং বারান্দা।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী পকেট ডোর, নকশাদার ফায়ারপ্লেস এবং বারান্দা।

তিন তলায় রয়েছে লম্বা শোয়ার ঘর এবং লাগোয়া বাথরুম। এই ফ্লোরে দাঁড়ালে দেখতে পাওয়া যায় অনেকটা দূর পর্যন্ত। শোনা যায় ডিলানের প্রিয় ছিল এই শয়নকক্ষ। হয়তো দেয়ালের গায়ে এখনও ইথার তরঙ্গে রয়ে গিয়েছে কিছু গুন গুন!

Advertisement
আরও পড়ুন