Asha Bhosle

দ্বিতীয় আশা কোনও দিন তৈরি হবে না

প্রিয় আশাজিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন কুমার শানু

শ্রাবন্তী চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৪
আশা ভোসলে।

আশা ভোসলে।

নিজের মা-বাবাকে হারিয়ে যে অনুভূতিটা হয়েছিল, আশাজি চলে যাওয়ার পর ঠিক সেই অনুভূতিটাই হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন পরিবারের কাউকে হারালাম। ওঁর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা খুব সুন্দর ছিল, আমাকে নিজের সন্তানের মতো ভালবাসতেন। একটা বড় প্রাপ্তি যে উনি আমার গান ভালবাসতেন, গায়কির প্রশংসা করতেন। রেকর্ডিং, স্টেজ শোয়ে ওঁর সঙ্গে কাটানো সময়গুলো চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে।

আশাজির সঙ্গে প্রথম বার প্লেব্যাক করেছিলাম আনন্দ-মিলিন্দের সুরে সলমন খানের ‘সূর্যবংশী’ ছবিতে ‘ম্যায়ঁ নহি কেহতা’। নব্বইয়ের গোড়ার দিকের ঘটনা। দিনটা এখনও মনে আছে। রেকর্ডিংয়ের দিন স্টুডিয়োয় প্রথম দেখা হয়েছিল, আমি ওঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলাম।

আমেরিকায় আমরা একবার দীর্ঘ সময় ধরে টুর করছিলাম। প্রথম দিন স্টেজে ওঠার ঠিক আগে আমি আশাজির হাত ধরে ওঁকে ‘অল দ্য বেস্ট’ বলার সময়ে খেয়াল করলাম, ওঁর হাত পুরো ঠান্ডা। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এত বছর স্টেজে শো করার পরেও হাত ঠান্ডা কেন! উনি বললেন, ‘শানু, যত দিন আমার হাত ঠান্ডা থাকবে তত দিন আমি একজন প্রকৃত আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে ভাবতে পারব। আর সেটা হওয়া মানে নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখা, যাতে শ্রোতাদের কখনও নিরাশ না করি।’ আশাজির ওই কথাটা আমি এখনও মনে রাখি। তাই আজও কোনও কিছু শুরু করতে গেলে আমার হাত ঠান্ডাই থাকে।

আশাজি চলে যাওয়ায় সঙ্গীতের একটা বিরাট অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। ওঁর মতো গলার রেঞ্জ কারও ছিল না, আর হবেও না। ক্লাসিক্যাল-ওয়েস্টার্ন দুটোতেই সমান দখল ছিল। দ্বিতীয় আশা ভোঁসলে কোনও দিন তৈরি হবে না। এমন কোনও গান ছিল না, যা উনি গাইতে পারতেন না। ওঁর সঙ্গে আমি অনেক গান গেয়েছি আর তাঁর মধ্যে বেশির ভাগই সুপারহিট। কোনও একটা বা দুটো গান বলা খুব কঠিন। তা-ও যদি বাছতেই হয়, তা হলে ‘সলামি’ (১৯৯৩) ছবির গান ‘চেহরা ক্যায়া দেখতে হো’, তার পর ‘খিলাড়ি’র (১৯৯২) ‘দেখা তেরি মস্ত নিগাহ’— এই দুটোর কথা বলব। আশাজি আর আমি লাইভ শো করলে ‘দেখা তেরি...’ গাইতেই হত।

ওঁর চলে যাওয়াটা যেমন ব্যক্তিগত ক্ষতি বলে মনে হচ্ছে, তেমনই জানি, বাকি শিল্পী, শ্রোতাদের জন্য বড় ক্ষতি হল।

অনুলিখন: শ্রাবন্তী চক্রবর্তী

আরও পড়ুন