Extramarital affair

দুই নারীর হাতের তরবারি ‘ডিভোর্স ডাস্ট’! পরকীয়া বুঝতে মহিলারা তার ব্যবহারও করতে বলছেন!

মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বামীর উপর নজরদারির জন্য ঝানু গোয়েন্দার থেকেও বেশি কাজের হতে পারে এই বস্তুটি। যদিও তার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১১

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যা চকচকে তা সোনা নয়, তবে ফাঁদ হতে পারে! আর সে কথা শুধু ঠেকে নয় ফেঁসে শিখছেন কিছু পুরুষ। সঙ্গীকে ফাঁকি দিয়ে অন্য নারীর সঙ্গসুখ চেয়ে তাঁরা এমন বিপদে পড়ছেন, যে পরিস্থিতি গড়াচ্ছে আদালতে। প্রকাশ্যে আসছে পরকীয়া। হচ্ছে ডিভোর্সও। আর এই সব কিছুর মূলে যে বস্তুটি, সেটি নিছকই এক প্রসাধনী সামগ্রী। গ্লিটার্স। তবে ইদানীং তার অন্য একটি নামও জনপ্রিয় হয়েছে— ডিভোর্স ডাস্ট।

Advertisement

ডিভোর্স ডাস্ট কী?

মহিলারা সাজগোজের জন্য যে সমস্ত প্রসাধনী ব্যবহার তার মধ্যে একটি— গ্লিটার্স। চকচকে না বলে একে 'চিকচিকে' বললে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়। সাধারণত মেক আপ করার পরে এই ধরনের গ্লিটার্স গালে, চোখের পাতায় ব্যবহার করেন মেয়েরা। আবার কেউ কেউ গায়েও ব্যবহার করেন গ্লিটার্স। কারণ, তাতে আলো পড়লে, প্রতিফলনে শরীরের গড়ন স্পষ্ট হয় আরও, দেখতে ভাল লাগে। অনেকটা স্নানের পর ত্বকের ভেজা উজ্জ্বল ভাবের মতো আকর্ষণ তৈরি হয় গ্লিটার্সে। তবে এ জিনিসের আরও একটি গুণ বা দোষ আছে। এটি সহজেই স্থান বদল করে। আর তার পরে বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সরানো যায় না। আর এখানেই গ্লিটার্স শুধু প্রসাধনীর গণ্ডিতে আটকে না থেকে হয়ে ওঠে বাড়তি কিছু। কখনও সখনও মিথ্যে সম্পর্কের লাল সঙ্কেতও।

প্রতারণার সঙ্কেত

ধরা যাক, যাঁর সঙ্গে আপনার সঙ্গী দেখা করতে গেলেন, তাঁর মুখে বা গায়ে রয়েছে গ্লিটার্স। দু’জনে ঘনিষ্ঠ হলেই তার স্থান বদল ঘটবে। এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের মুখে, গায়ে, পোশাকে ছড়িয়ে পড়বে। যথাস্থানে নজর পড়লে বাকিটা অনুমেয়।

গোয়েন্দা গ্লিটার্স

মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বামীর উপর নজরদারির জন্য ঝানু গোয়েন্দার থেকেও বেশি কাজের হতে পারে এই বস্তুটি। যদিও তার জন্য নিজের সঙ্গীর নয়, সঙ্গী যাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন বা স্বামী যাঁর সঙ্গে পরকীয়া করছেন, তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন!

দরকার ভগিনীত্ব বা সিস্টারহুড!

বিষয়টি খানিক ‘নারীবাদী’। আরও ভাল ভাবে বললে ভগিনীত্ব বা সিস্টারহুডের ক্ষেত্রে একজন নারীকেই ভাবতে হবে অন্য নারীর জন্য। পুরুষ নন, বরং তাঁর কামনার নারীই হবেন সেই নারীর রক্ষাকর্তা, যিনি অজান্তে ওই পুরুষের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। ‘ডিভোর্স ডাস্ট’ হবে ওই দুই নারীর হাতের তরবারি।

শুরুর কথা

এই ‘ট্রেন্ড’-এর শুরু এক টিকটক ভিডিয়ো থেকে। যে ভিডিয়োর ক্যাপশন ছিল, ‘ম্যারেড মেন হেট গ্লিটার্স’। অর্থাৎ বিবাহিত পুরুষেরা গ্লিটার্স মোটেই পছন্দ করেন না। কেন করেন না, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল ভিডিয়োতে। তার পর থেকেই বিষয়টি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ‘ডিভোর্স ডাস্ট’ শব্দবন্ধটি এখন এতটাই প্রচলিত যে, ইন্টারনেটে এটি লিখে খোঁজ করলে নানা ধরনের উজ্জ্বল, ঝকমকে প্রসাধনী সামগ্রীর বিজ্ঞাপন এসে হাজির হতে পারে পর্দায়। যদিও এই বিষয়টির একটি উল্টো দিকও রয়েছে।

মুদ্রার ও-পিঠ!

ডিভোর্স ডাস্ট যেমন উপকার করতে পারে, তেমনই এ জিনিস ভুল বোঝাবুঝির কারণও হতে পারে। বাস, মেট্রো, ট্রেনের ভিড়ে দুর্ঘটনাবশত গ্লিটার্স তার স্থান বদল করলে, আর তাকে পরকীয়ার অকাট্য প্রমাণ ভেবে নিলে মুশকিল। তাই সম্পর্কের পালে হাওয়া কোন দিকে তা বুঝতে শুধু এক চিমটে গ্লিটার্স নয়, আরও নানা দিকে নজর রাখা জরুরি।

Advertisement
আরও পড়ুন