Alternatives to mobile habits

পরীক্ষা শেষ, ছুটিতে খামোখা দৌরাত্ম্য বেড়েছে খুদের? অন্যত্র তাকে ব্যস্ত রাখবেন কী ভাবে

শিশু বাড়িতে থাকা মানেই সারা দিন ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘঁটি লেগেই রয়েছে। বারণ করলেও তারা মোবাইল হাতছাড়া করতে নারাজ। আর ছিনিয়ে নিলে তারা ভীষণ রেগে যায়। কী ভাবে বকাবকি না করেই ছুটির দিনগুলিতে মোবাইল থেকে দূরে রাখবেন খুদেকে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১০:০৫
Fun activities you can arrange for your kids to distract them from mobile phone

খুদেকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে পারেন কোন কোন উপায়ে? ছবি: সংগৃহীত।

বার্ষিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে, এখন ফলাফলের অপেক্ষা করছে শিশুরা। ফলে তারা বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই থাকছে। আর বাড়িতে থাকা মানেই সারা দিনই ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘঁটি বা দৌরাত্ম্য লেগেই রয়েছে। বারণ করলেও তারা মোবাইলি হাতছাড়া করতে নারাজ। আর ছিনিয়ে নিলে তারা ভীষণ রেগে যায়। শুরু করে নানা দুষ্টুমি। কী ভাবে বকাবকি না করেই এই ছুটির দিগুলিতে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখবেন খুদেকে?

Advertisement

১)‌ রান্না করা কেবল মেয়েলি কাজ, এই ধারণা এখন অনেকটাই বদলেছে। ছেলে-মেয়ে, দু’জনকেই যেন রান্নার মতো জরুরি কৌশল শেখানো হয়, সে ব্যাপারে এখনকার অভিভাবকেরা বেশ সচেতন। তবে অল্পবয়সি শিশুদের গ্যাসের সামনে যাওয়া উচিত নয়। গ্যাস ছাড়াই যেই রান্নাগুলি করে ফেলা যায়, সেগুলি শেখাতে শুরু করুন খুদেকে। স্যান্ডউইচ, স্যালাড, রকমারি চাট, শরবত হাতে ধরে শেখান। এক এক দিন এক একটা রান্না শেখান। এতে শিশুরাও ব্যস্ত থাকবে, তারা নতুন কিছু শিখতেও পারবে। ছুটির দিনগুলিতে শিশুকে বাজারে নিয়ে যান, সেখানে শাকসব্জি, মাছ চেনান। এতে তারা রান্নার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে পড়বে।

২) ছবি আঁকা থেকে গান গাওয়া, সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন সন্তানকে। সন্তান কোনও ছবি আঁকলে কী ভাবে ছবিটি আরও ভাল হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করুন। তার আঁকা ছবিগুলি বাঁধিয়ে ঘরের একটি দেওয়ালে সাজিয়ে রাখতে পারেন, এতে তারা আরও উৎসাহী হবে। হাতের কাজ, ক্রাফটের কাজও শিখতে পারে তাঁরা এই সময়। গানবাজনা শেখার সুযোগ করে দিন। তবে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়, সন্তান এই সব কাজে আনন্দ পাচ্ছে কি না, তা-ও দেখতে হবে।

৩) খুদের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পিকনিকের ব্যবস্থাও করতে পারেন বাড়িতে। পিকনিক সাধারণত বাইরে করলেই মজা বেশি হয়। তবে গরমের প্রকোপ থেকে বাঁচতে বাড়িতেই ব্যবস্থা করুন পিকনিকের। এ ক্ষেত্রে খুদে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলায় ব্যস্ত থাকবে। তবে পিকনিকের ব্যবস্থা হলে খাবারের আয়জনও রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাকি রান্নাবান্না নিজে করে নিলেও একটি পদ বানানোর সময় খুদের সাহায্য নিতে পারেন। এতেও তার মনোযোগ ফোন, টিভির থেকে সরবে।

খুদের তৈরি ক্যানভাসে করতে পারেন অন্দরসজ্জা।

খুদের তৈরি ক্যানভাসে করতে পারেন অন্দরসজ্জা।

৪) অন্য সময় পড়াশোনার চাপে শিশুরা বাইরে গিয়ে খেলাধুলো করার সুযোগ কম পায়। তবে ছুটির দিনগুলিতে বিকেল হলেই শিশুকে নিয়ে পার্কে চলে যান। পার্কে গিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠবে খুদে। কেউ বেছে নিতে পারে ফুটবল, কেউ ক্রিকেট, কেউ আবার ক্যারাটে। পাশাপাশি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাঁতারের মতো নতুন কিছু শিখতে চাইলেও এ ক্ষেত্রে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। ছুটির সময়ে এই সব খেলাতেই গুরুত্ব দিন বেশি। এতে শরীরচর্চাও হয়ে যাবে।

৫) রোজ নিয়ম করে শিশুর জন্য একটি করে গল্পের সেশন করুন। ওই সময় একটি করে গল্প পড়ে শোনান শিশুকে। গল্পের বই ছাড়াও শিশুকে এই সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। শহর কলকাতার বিভিন্ন অলিগলির সঙ্গে নানা কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। এক দিন শহর ঘুরতে বেড়িয়ে শিশুকে সেই সব কাহিনি শোনাতে পারেন। তার জন্য অবশ্য নিজেকে খানিকটা পড়াশোনা করতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন