প্রেম দিবসে নৈশ ভোজের জন্য কী ভাবে ঘর -টেবিল সাজাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
প্রেম দিবসে শুধু কি দামি উপহার দিয়ে প্রিয় মানুষের মন জয় করা যায়? এমন দিনে থাক তার চেয়েও বেশি কিছু। না জানিয়েই চমক দিন তাঁকে। ঘণ্টা ২-৩ সময় বার করতে পারলে, বাড়িতেই তৈরি করা যাবে রোম্যান্টিক আবহ। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সেই মানুষটি আয়োজন দেখে আনন্দে আত্মহারা হবেন। কেমন ভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
১। বাড়ি একটু সাজিয়ে নিতে হবে। প্রথমেই খাওয়ার টেবিল এবং বসার জায়গা পরিষ্কার করে ফেলুন। এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে টেবিলে সুন্দর একটা টেবিল ক্লথ বিছিয়ে দিন। সোফার ঢাকা বদলে, কুশনগুলিতে নতুন কভার পরিয়ে দিন।
২। ঘর সাজানোর জিনিস সরাসরি কিনে আনতে পারেন, না হলে চটজলদি জিনিস বাড়ির দোরগো়ড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য একাধিক অ্যাপ নির্ভর পরিষেবাও রয়েছে। ঘর সাজানো এবং খাওয়ার জিনিস যা যা প্রয়োজন এনে ফেলুন। সবটাই যে রাঁধতে হবে, এমন নয়। এখন এমন অনেক হিমায়িত খাবার পাওয়া যায়, যা গরম গরম ভেজে নিতে পারেন।
৩। প্রেম দিবসের অন্দরসজ্জা কিন্তু টাটকা গোলাপ বা প্রিয় মানুষটির পছন্দের ফুল ছাড়া অসম্পূর্ণ। তাই টাটকা ফুলের ছোঁয়া থাক ঘরের আনাচ-কানাচে। খাওয়ার টেবিলে স্বচ্ছ কাচের শৌখিন পাত্রে জলের উপর জারবেরার মতো একটি দু'টি ফুল ভাসিয়ে, ভাসমান মোমবাতি দিয়ে রাখুন। প্রিয় মানুষটি এসে পড়লেই সেটি জ্বালিয়ে দেবেন।
৪। হৃদয় হরণ করতে হলে হৃদয় দিয়ে সাজান ঘর। হার্ট মোটিফের চেন, কুশন, ঘর সজ্জার আলো, দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখার জন্য যুগলের কার্টুন— এমন কত কিছুই পাওয়া যায় আজকাল। সেই সব দিয়ে ঘরটি চটজলদি সাজিয়ে ফেলুন।
বেলুন, আলো, ফুল, মোমবাতি দিয়ে কী ভাবে সাজাবেন ঘর? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
৫। মোমের আলো আর এসেনশিয়াল অয়েলের সুবাস আনবে রোম্যান্টিক আবহ। নানা রকম আকৃতির মোমবাতি পাওয়া যায়। কোনওটি পিলারের মতো, কোনওটি থাকে কাচের জারে। আবার হৃদয় আকৃতির মোমও হয়। এমনই কিছু দিয়ে খাওয়ার টেবিল, বসার জায়গার টেবিলটি সাজিয়ে ফেলুন। অয়েল ডিফিউজ়ারে ল্যাভেন্ডার, রোজ় বা পছন্দের কোনও গন্ধের তেল কয়েক ফোঁটা ঢেলে দিন। এসেনশিয়াল অয়েলের প্রাকৃতিক সুবাস মৃদু, কিন্তু সুন্দর।
৬। নৈশভোজ যখন, খানাপিনা নিয়ে ভাবতেই হয়। যদি ওয়াইনে আপত্তি না থাকে তা হলে ভাল কোনও ওয়াইন এনে, ওয়াইন গ্লাস-সহ টেবিলে সাজিয়ে দিন। প্রেম দিবসের সঙ্গে থাক ডার্ক চকোলেট, চকোলেটের আস্তরণ দেওয়া ফল। হার্টের আকারের বিটের টিকিয়া বানিয়ে নিতে পারেন, আবার হার্ট আকৃতির কুকি কাটার দিয়ে পছন্দের যে কোনও ফল কেটে থালায় সাজিয়ে দিতে পারেন। তবে যদি ওয়াইন বা মদ্যপানে আপত্তি থাকে, তা হলে বানিয়ে ফেলতে পারেন ভার্জিন মোহিতো, পিনা কোলাডার মতো মকটেলও।
৭। নৈশাহারে থাক পছন্দের পদ। কিনে নয়, প্রিয়জনকে একটি বা দু’টি রান্না নিজে রেঁধেই খাওয়ান। এতে প্রমাণও হয়ে যাবে, কাছের মানুষটির ভাললাগা, প্রিয় খাবার সম্পর্কে ঠিক কতটা জানেন। স্টার্টার থেকে মূল খাবার এবং শেষপাতের মিষ্টির আয়োজনে বাহুল্য না থাকলেও, তাতে আন্তরিকতা থাকাটা খুব জরুরি।
৮। রোম্যান্টিক আবহ তৈরি হোক মনের কথায়। প্রেমপর্বে ভালবাসার কথা বার বার বলা হলেও, সাংসারিক জীবনে তা আর বলা হয়ে ওঠে না। মনের কথা ছোট্ট একটি বোর্ডে বা স্লেটে লিখে স্ট্যান্ডের সাহায্যে বসা বা খাওয়ার জায়গায় এমন ভাবে রাখুন, যেখানে সঙ্গীর চোখ পড়বেই। আর এমন দিনে সুন্দর একটি কার্ডে মনের কথা উজাড় করে দিলে, সঙ্গীর মুখের হাসিও প্রশস্ত হবে।