নন স্টিক কড়াই মাজার ভুলেই নষ্ট হতে পারে। কী ভাবে এমন বাসন যত্নে রাখবেন? ছবি: সংগৃহীত।
কম তেলে সুস্বাদু রান্নার প্রয়োজন যত বেড়েছে ততই বাসনে বদল ঘটেছে। লোহার কড়াই, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের জায়গা বহুদিন হল দখল করেছে ননস্টিক কড়াই ও পাত্র। কম তেলে রাঁধা যায়, আবার রান্নার সময় তরকারি কড়ার গায়ে লেগে যায় না বলেই এর জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট।
ননস্টিক বাসনে টেফলনের আস্তরণ থাকে যা বাসন পুরনো হলে বেরিয়ে আসতে পারে। টেফলন হল এক ধরনের ফ্লিউরোপলিমার, যা অতিরিক্ত গরম হলে বা তাতে হাতা-খুন্তির ঘষা লাগলে তা থেকে ফ্লুওরাইড বেরিয়ে মিশতে পারে খাবারে। এই ফ্লুওরাইড মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। এ ছাড়া ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। সেই কারণেই নন স্টিকের বাসন একটু সাবধানেই ব্যবহার করা প্রয়োজন। এই ধরনের পাত্র বা কড়াইয়ের আস্তরণ উঠতে শুরু করলে সেটি বাদ দেওয়াই ভাল। কিন্তু দাম দিয়ে কেনা জিনিস চট করে নষ্ট হলে মন খুঁতখুঁত করবেই। জেনে নিন কোন কৌশল মানলে এমন বাসনের মেয়াদ বাড়বে।
বাসন মাজার কৌশল
ননস্টিকের একটি কড়াইয়ে একাধিক রান্না হবে। তাই অনেকে একটি রান্নার পরে গরম কড়াইটি জল দিয়ে ধুয়ে নেন, তার পরে কাপড় দিয়ে মুছে পরের রান্না বসান। এই অভ্যাস নতুন নয়। এই ভাবেই লোহা বা অ্যালুমিনিয়ামের কড়াই বা পাত্র এতদিন ব্যবহার করে এসেছেন মা-ঠাকুরমারা। তবে ননস্টিকের ক্ষেত্রে এমন কৌশল ভুল। পাত্রটিকে ঘরের তাপমাত্রায় রেখে আগে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। তার পরে সেটি মাজতে হবে। গরম পাত্র দ্রুত ঠান্ডা করতে বা মাজার জন্য বেসিনে বার করে দিলে, তাপের আচমকা তারতম্যের প্রভাবে সেটির স্থায়িত্ব নষ্ট হতে পারে।
ঘষাঘষি নয়
হাঁড়ি-কড়া যেমন শক্ত জিনিস দিয়ে ঘষে মাজা হয়, সেই ভাবে ননস্টিক কড়াই মাজলে একদিনেই এর আস্তরণ উঠে যাবে। কড়াইয়ে ঘষাঘষি করা চলবে না। বরং নরম স্ক্রাবার এবং বাসন মাজার তরল সাবান জলে গুলে তা দিয়ে আলতো করে সেটি মেজে নিন।
আর কোন শর্ত বাসনটি ভাল রাখার জন্য জরুরি
· ননস্টিক প্যান বা কড়াই গরম করার সময় একটু তেল ব্রাশ করে নিন। এতে খাবার কড়াই থেকে তোলা সহজ হবে। কড়াইয়ে কম ঘষা লাগবে।
· ননস্টিকের কড়াইতে লোহা, স্টিলের ধারালো খুন্তি ব্যবহার করা যায় না। কারণ, ঘষাঘষিতে টেফলনের আস্তরণ সহজেই উঠে যাবে। কাঠের, সিলিকনের খুন্তি এতে ব্যবহার করা যায়।
· উচ্চ তাপমাত্রায় এর আস্তরণ গলতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কম এবং মধ্যম আঁচে রান্নার জন্যই এই বাসন উপযোগী।
· এতে সস্ জাতীয় খাবার বিশেষত টম্যাটো সস্ বা অ্যাসিড জাতীয় উপাদান সরাসরি রান্না না করাই ভাল।