ছবি : সংগৃহীত।
মেয়েটি খুব ভাল। ছেলেটি অত্যন্ত ভদ্র। কারও বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে এই ধরনের বাক্য প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু কখনও কি মনে হয়েছে, ওই ভালমানুষি বা ভদ্রতাকে মেয়েটির বা ছেলেটির অন্য গুণের থেকে একটু বেশিই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে! বলিউডের অভিনেতা ভিকি কৌশল মনে করেন, ভদ্রতা বা ভালমানুষিকে সমাজ একটু বেশিই নম্বর দিয়ে ফেলে, যা উচিত নয়। কারণ ওই ভদ্রতা বা ভালমানুষির ভেক যে কেউ ধরতে পারে।
এক পডকাস্টে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভিকিকে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভদ্রতা করা বা ভালমানুষি দেখানো কি ভাল? উত্তরে ভিকি যা বলছেন, তাতে স্পষ্ট, তিনি আর যাই হোন ভালমানুষির পক্ষে নন।
একসময় বলিউড লাজুক এবং মুখচোরা বলেই চিনত ভিকিকে। তবে ভিকি বলছেন, ‘‘ভদ্রতা বা ভালমানুষিকে একটু বেশিই গুরুত্ব দেন সকলে। কিন্তু আমি মনে করি সবার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খাটে না। সবাইকে সব সময় ভদ্র থাকতে হবে এবং ভালমানুষি করতে হবে তার কোনও মানে নেই।’’ এই উপলব্ধি ভিকি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পেয়েছেন কি না সে বিষয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি অভিনেতা।
ভদ্রতা বা ভালমানুষির সমস্যা কোথায়?
পুরো ব্যাপারটাই সমাজের ঠিক করে দেওয়া এবং তার ভিত্তিতে এক এক জন এক এক ধরনের মুখোশ পরে থাকেন বলে মনে করেন অভিনেতা। আর তিনি মনে করেন, এই ভালমানুষির মুখোশটিও সময় বিশেষে বদলে বদলে যায়।
সরাসরি না বললেও খানিক ঘুরিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ভিকি। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি কোথাও শুনলাম ভালমানুষ হওয়া ভাল। তাই আমি ভালমানুষ হয়ে গেলাম। কোনও এক দিন শুনলাম মানসিক ভাবে কঠোর হওয়া ভাল। তখন আবার কঠোর হলাম। কেউ বলল, দুর্বল হওয়ার সুবিধা বেশি। তখন আমি দুর্বল হলাম... !’’
ভিকি মনে করেন, মানুষ ভিতরে যেমন, তেমনটা বাইরে দেখাচ্ছেন কি না, সেটাই আসল কথা। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা হয় না।
কিন্তু ভালমানুষ সাজার প্রয়োজন কী?
শিকাগোর এক মনোবিদ অ্যাম্বার লং তাঁর সমাজমাধ্যমে এ ব্যাপারে সবিস্তার আলোচনা করেছেন। তিনি বলছেন, ‘‘অনেকেই অশান্তি এড়াতে বা অসম্মান থেকে বাঁচতে ভালমানুষি করেন। কারণ, সমাজ ছোট থেকেই মনের মধ্যে এই ধারণাটি তৈরি করে দেয় যে তুমি ভাল হলে সবাই তোমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে। সবাই খুব বুঝে-শুনে তা করেন না। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগলে ধীরে ধীরে সেই খোলস খসে পড়ে।’’