Bosnian Coffee

কফিপ্রেমীদের নতুন পছন্দ বসনিয়ান কফি, ইউরোপের বলকানের পানীয় নিয়ে হঠাৎ এত উৎসাহ কেন?

কফিপ্রেমীদের আবেগে ভর করেই দুনিয়া জুড়ে ক্যাফে এবং নানা ধরনের কফির স্বাদের বাড়বাড়ন্ত। সেই আবেগে উসকানি দেওয়ার জন্য নানা দেশের নানা প্রদেশের কফি খাওয়ার ধরন তুলে আনা হচ্ছে শহুরে ক্যাফের টেবিলে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৮
কফির দুনিয়ায় নতুন ট্রেন্ড!

কফির দুনিয়ায় নতুন ট্রেন্ড! ছবি: সংগৃহীত।

যাঁরা কফি খেতে ভালবাসেন, তাঁরা নতুন কোনও কফির আগমন সংবাদ পেলেই উৎসাহী হয়ে পড়েন। কবে, কখন আর কার কার সঙ্গে সেই কফির স্বাদ নিতে যাবেন তার পরিকল্পনা চলতে থাকে নিরন্তর। যত ক্ষণ না সেই কফি সামনে সাজিয়ে বসা যাচ্ছে, তত ক্ষণ এক অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করতে থাকে মনে। কফিপ্রেমীদের এই আবেগে ভর করেই দুনিয়া জুড়ে ক্যাফে এবং নানা ধরনের কফির স্বাদের বাড়বাড়ন্ত। সেই আবেগে উসকানি দেওয়ার জন্য নানা দেশের নানা প্রদেশের কফি খাওয়ার ধরন তুলে আনা হচ্ছে শহুরে ক্যাফের টেবিলে। তার পরে তার স্বাদে মাতোয়ারা হচ্ছেন কফিভক্তেরা। এর আগে তুরস্কের ‘টার্কিশ কফি’ নিয়ে এমনই উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। আর এ বার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ‘বসনিয়ান কফি’ নিয়ে।

Advertisement

বসনিয়ান কফি কী?

বসনিয়ান কফি হল এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি কড়া স্বাদের কফি। এটি মূলত ‘জেজ়ভা’ নামের তামা বা পিতলের লম্বা হাতলওয়ালা পাত্রে তৈরি করা হয়। এর বিশেষত্ব হল ওই কফির উপরে জমা হওয়া সোনালি ফেনা, যাকে বলা হয় ‘কাজ়মাক’। কফিপ্রেমীদের কাছে কফির কাপে ভেসে থাকা ফেনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কেবল ওই ফেনাটুকুর জন্যই মানুষ বাড়ির সাধারণ কফি ছেড়ে ক্যাফেতে যান। কোনও কোনও ক্যাফেতে আবার সেই ঘন ফেনার উপরে নানা রকম শিল্পকলাও ফুটিয়ে তোলা হয়। বসনিয়ার কফির ‘কাজ়মাক’ সেই ফেনার এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা দেয়। আর তার কারণ লুকিয়ে এটি বানানোর পদ্ধতিতেই।

কী ভাবে বানানো হয় বসনিয়ান কফি?

জেজ়ভা অর্থাৎ যে পাত্রে বসনিয়ান কফি তৈরি করা হয়, সেটি দেখতে খানিকটা তুরস্কের কফিপাত্রের মতোই। যদিও কফি তৈরির পদ্ধতিটি ভিন্ন। তুরস্কের কফি বানানোর সময়ে কফির পাউডার এবং চিনি শুরুতেই জলের সঙ্গে মিশিয়ে তার পরে ফোটানো হয়। কিন্তু বসনিয়ান কফি বানাতে হলে প্রথমে ফোটানো হয় জল। জল ফুটে উঠলে সামান্য জল আলাদা করে রেখে ‘জেজ়ভা’য় দানাদার কফি পাউডার ঢেলে আবার বসানো হয় আঁচে। কফি ফুটে ফুলে উঠলে আগে থেকে সরিয়ে রাখা জল উপরে ঢেলে দেওয়া হয় বিশেষ পদ্ধতিতে। আর তাতেই তৈরি হয় এর লোভনীয় দেখতে ‘কাজমাক’ বা সোনালি ফেনা।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?

কফির অন্য রকম স্বাদ তো বটেই, তার পাশাপাশি বসনিয়ার কফি পরিবেশনের ধরনটিও বেশ আকর্ষণীয়। এই কফি পরিবেশন করা হয় একটি গোল তামার ট্রে-তে। তার উপর রাখা থাকে একটি ছোট হাতলবিহীন সেরামিকের কাপ। যাকে বলা হয় 'ফিলজান'। ওই কাপ বসানোর জন্য থাকে একটি কারুকাজ করা তামার পাত্র। পাশে চিনির কিউব পরিবেশন করা হয় একটি তামার পাত্রে। অথবা সুদৃশ্য তাম্রপাত্রে পরিবেশন করা হয় তুরস্কের এক টুকরো জনপ্রিয় মিঠাই। যার নাম ‘রাহাত লোকুম’। আসলে বসনিয়ানরা কখনওই কফিতে চিনি মেশান না। তাঁরা প্রথমে চিনির কিউব অথবা মিষ্টি খাবারে কামড় বসান। তার পরে চুমুক দেন কফিতে। এতে কফির তিক্ত স্বাদ আর চিনির মিষ্টত্বের এক সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়।

এটি কি নতুন কোনও ট্রেন্ড?

যদিও এই কফি শতাব্দীপ্রাচীন, তবে এ যুগে যে ভাবে ছুটে চলার প্রবণতাকে থামাতে স্লো লিভিং বা ধীরগতির জীবনযাত্রার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে, তাতে এই কফি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কারণ, যান্ত্রিক জীবনের তাড়াহুড়ো সামলাতে মানুষ ছুটতে ছুটতেই খানিক থেমে কালো কফি খেয়ে আবার দৌড়োতে অভ্যস্ত। বসনিয়ান কফি সেখানে মানুষকে শেখায় থামতে এবং প্রতিটি চুমুক উপভোগ করতে। আর সে জন্যই এটি বিশ্ব জুড়ে কফিপ্রেমীদের নতুন করে টানছে।

Advertisement
আরও পড়ুন