Royal Breakfast

রাজার মতো প্রাতরাশ কি একেই বলে? ১৩০ বছর আগের এক ভোরে দুই ভারতীয় রাজা কী খেয়েছিলেন?

রাজায় রাজায় যেমন যুদ্ধ হয়, তেমনই রাজায় রাজায় সৌজন্য বিনিময়ও হয় বিপুল জাঁকজমক সহকারে। বিশেষ করে ভারতীয় রাজাদের মধ্যে সেই জাঁক ছিল আলাদা মাত্রার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৭
মহারাজাদের প্রাতরাশ কেমন হত?

মহারাজাদের প্রাতরাশ কেমন হত? ছবি: সংগৃহীত।

কথায় আছে, নৈশাহার হবে ফকিরের মতো আর প্রাতরাশ করতে হয় রাজার মতো! কিন্তু রাজার মতো প্রাতরাশ কেমন হওয়া উচিত, কেউ ভেবে দেখেছেন কি? ১৩০ বছর আগের এক ভোরে এ দেশেরই এক রাজপ্রাসাদে তার আদর্শ উদাহরণ তৈরি করেছিলেন দুই রাজা।

Advertisement

রাজায় রাজায় যেমন যুদ্ধ হয়, তেমনই রাজায় রাজায় সৌজন্য বিনিময়ও হয় বিপুল জাঁকজমক সহকারে। বিশেষ করে ভারতীয় রাজাদের মধ্যে সেই জাঁক ছিল আলাদা মাত্রার। বন্ধু রাজাকে অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানালে আপ্যায়ক রাজা চাইতেন নিজের সংস্কৃতির সেরাটুকু তুলে ধরতে। যার ছাপ পড়ত ঢালাও খানাপিনায়। ১৮৯৭ সালে এ দেশের এক সংস্কৃতিমনস্ক শৌখিন রাজা নিজের রাজপ্রাসাদে দিন কয়েকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বন্ধু রাজাকে। অতিথি আপ্যায়নে যে ভোজের আয়োজন হয়েছিল, তার নৈশাহারের একটি মেনুকার্ড প্রকাশ্যে এসেছিল মাস কয়েক আগে। এ বার জানা গেল প্রাতরাশে কী খেয়েছিলেন তাঁরা।

মেনুর লম্বা তালিকা। আর তাতে যা যা ছিল, তা এ যুগে সারা দিনেও এক জন কিংবা দু’জন খেয়ে উঠতে পারবেন কি না সন্দেহ। মূলত তিন ধরনের খাবার সাজানো হয়েছিল টেবিলে। প্রাতরাশের সেই আয়োজন হয়েছিলেন বরোদার গায়কোয়াড় রাজ বংশের গ্রীষ্মাবাস মকরপুরা রাজপ্রাসাদে। আমন্ত্রক রাজার নাম তৃতীয় সওয়াজিরাও গায়কোয়াড়। তিনি ছিলেন বরোদার মহারাজা। আর তাঁর অতিথি হিসাবে হাজির ছিলেন গ্বালিয়রের মহারাজা মাধো রাও সিন্ধিয়া।

লাইব্রেরী থেকে উদ্ধার হওয়া সেই পুরনো মেনু কার্ড। যা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয়েছে।

লাইব্রেরী থেকে উদ্ধার হওয়া সেই পুরনো মেনু কার্ড। যা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

হিন্দুস্তানি রীতি (সেভাবেই লেখা আছে মেনুকার্ডে)

নানবালাই নানকোন ও নাঞ্জিলেভো শিরিন: পারস্য ঘরানার মিষ্টি ও সুগন্ধি নান বা রুটি জাতীয় পদ।

কোর্মে নারগোসো: ডিম ও মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি এক প্রকার রাজকীয় কোর্মা।

কোর্মে দুররাজ: তিতির পাখির মাংস দিয়ে তৈরি বিশেষ একটি পদ।

কালয়ে জিমিকন্দ: ওল দিয়ে তৈরি মশলাদার তরকারি বা কালিয়া।

কালয়ে গিলানি: পারস্যের গিলান অঞ্চলের রন্ধনশৈলীতে তৈরি মাংসের ঝোল বা কালিয়া।

দোপিয়াজে কোচক ও ভালান কোচকি: ছোট পেঁয়াজ বা সবজি দিয়ে তৈরি হালকা মশলার ‘দো-পেঁয়াজা’।

কাবাব গোলোশেখ ও মালাগিরি: চন্দন বা সুগন্ধি মশলা সহযোগে তৈরি অত্যন্ত নরম ও সুস্বাদু কাবাব।

আসগোনা নানকোন ও দুলমে কুলান: বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি পুরভরা রুটি ও নানা রকম সব্জি দিয়ে তৈরি তরকারি।

সিমানি গাজর: গাজর দিয়ে তৈরি এক রকম শাহী হালুয়া।

বরোদার মহারাজার গ্রীষ্মাবাস মকরপুরা রাজপ্রাসাদ।

বরোদার মহারাজার গ্রীষ্মাবাস মকরপুরা রাজপ্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত।

নাদিরশাহী ও তারাপসন্দ বিরিয়ানি: ভাল মানের বাসমতী চাল ও মাংস দিয়ে তৈরি এক রাজকীয় ঘরানার এক বিরিয়ানি।

কাঁকলা পোলাও মুরাসে আম্বারি শোরিন: আম ও সুগন্ধি মশলা দেওয়া রঙিন এবং অলঙ্কৃত এক ধরনের মিষ্টি পোলাও।

ফিরনি জামুর্দিশিরিন: পান্না রঙের পেস্তা সমৃদ্ধ ঘন দুধের ফিরনি।

ব্রাহ্মণী রীতির খাবারদাবার

মোতিচুর: ছোট ছোট দানার চিনির রসে ভেজানো লাড্ডু।

কেশরীভাত: জাফরান, ঘি ও চিনি দিয়ে তৈরি সুগন্ধি মিষ্টি ভাত।

মুগ ডাল: ঘিয়ে সাঁতলানো প্রথাগত মুগ ডালের নিরামিষ পদ।

শ্রীখণ্ডপুরি: মিষ্টি দইয়ের চাটনি (শ্রীখণ্ড) এবং গরম লুচি বা পুরি।

জিলিপি ও ঘেভর: জিলিপি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ঘেভর রাজস্থান এবং উত্তর ভারতীয় কড়া পাকের মিষ্টি।

পুরনপোলি: ডালের মিষ্টি পুর দিয়ে তৈরি মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী রুটি।

ফরাসি মিষ্টি

জেলি পানাশে: আনারস ও হুইপড ক্রিম দিয়ে তৈরি একটি ঠান্ডা ফরাসি ডেজার্ট বা জেলি।

Advertisement
আরও পড়ুন