মঞ্চে শিল্পীরা।
গত জুলাই মাসে শিশির মঞ্চে পাওয়া গিয়েছিল এক টুকরো বৃষ্টিভেজা শান্তিনিকেতনকে। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নিবেদিত এক অনুষ্ঠান— ‘বর্ষা... শান্তিনিকেতন’। অনুষ্ঠান শুরু হল সমবেত ‘বিশ্ববীণা রবে’ গান দিয়ে। প্রিয়ম মুখোপাধ্যায়, ঋতপা ভট্টাচার্য ও রঞ্জিনী মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে একে একে বর্ষার নানা রূপ ধরা পড়ল। চৈতালী দাশগুপ্ত তাঁর অতি পরিচিত ভঙ্গিতে পাঠ করলেন রানী চন্দর লেখা, কখনও বা আশ্রয় নিলেন রবীন্দ্রনাথে। গল্প, স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে দিলেন অনুষ্ঠান।
গানের শিল্পীদের সকলেরই বেড়ে ওঠা শান্তিনিকেতনে। তাই বর্ষাকে, রবীন্দ্রনাথের গানকে তাঁরা পেয়েছেন বড় নিবিড় করে। সান্নিধ্য পেয়েছেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিদেব ঘোষের মতো গুণিজনদের। প্রিয়মের কণ্ঠে ‘ওই যে ঝড়ের মেঘে’ বা ‘এই শ্রাবণের বুকের ভিতর’ গানগুলিতে লয় নির্বাচনে শান্তিদেব ঘোষের ছায়া দেখতে পাই। তেমনই কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব দেখি ঋতপার কণ্ঠে ‘কোথা যে উধাও’ বা ‘সখী আঁধারে’ গানে। মুক্ত ছন্দের গানেরও যে নির্দিষ্ট ছন্দ থাকে, তা বোঝালেন ঋতপা। তাঁর গানে মীড়ের প্রয়োগে কোথাও আধিক্য নেই। রঞ্জিনীর কণ্ঠে ‘আজ শ্রাবণের পূর্ণিমাতে’ বা ‘ছায়া ঘনাইছে’ মনকে শান্ত করে। দ্বৈতকণ্ঠের গান ‘এ কী গভীর বাণী’ বা ‘শ্রাবণের পবনে’ চমৎকার। ঋতপার ‘আমি শ্রাবণ আকাশে’ গানে লয় নির্বাচন প্রশংসার দাবি রাখে।
কোনও নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট না রেখে, গল্পের ছলে চৈতালী শোনান— ছায়া রঙ্গমঞ্চে রবীন্দ্রনাথ। সেখানে উঠে আসছে কণিকার গানের কথা, কখনও বা হলকর্ষণ, কখনও বৃক্ষরোপণের কথা। এস্রাজে দেবায়ন মজুমদার সঙ্গত করেন। ‘নীলাঞ্জন ছায়া’ গানে তাঁর বাজনা আলাদা পরিবেশ তৈরি করে। এ দিন শিশির মঞ্চে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনের বহু প্রাক্তনী। তাঁরা গলা মেলালেন ‘মরুবিজয় কেতন’ ও ‘আমাদের শান্তিনিকেতন’ গানে। যন্ত্রসঙ্গীতে দেবাশিস সাহা, দেবায়ন মজুমদার, স্বপন অধিকারী ও অমিতরঞ্জন রায় অনুষ্ঠানকে সম্পূর্ণ করলেন। অপূর্ব মঞ্চসজ্জা। কলকাতা যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতনের বর্ষা উপহার পেয়েছিল সে দিন।
অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠানের একটি অংশ।