তিনি বলিউডের ‘কিং খান’। অভিনেতা-প্রযোজক হিসাবে শাহরুখ খানের রাজত্ব যেমন বিস্তৃত, তেমনই তাকলাগানো তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ। শাহরুখ কেবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা নন, তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা।
শাহরুখ বিশ্বের একমাত্র অভিনেতা যিনি ‘বিলিয়নেয়ার ক্লাবে’ প্রবেশ করেছেন। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ অনুযায়ী বলিউডের বাদশার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১২,৪৯০ কোটি টাকা (প্রায় ১৪০ কোটি ডলার)।
তবে বলিউড সুপারস্টার হিসাবে শাহরুখ এমন একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন যা সিনেমার বাইরেও বিস্তৃত। শাহরুখ অন্য তারকাদের থেকে আসলে কোথায় আলাদা, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তা-ই ব্যাখ্যা করেছেন ‘সেলিব্রিটি ওয়েলথ ম্যানেজার’ দীপক হিরো ভাজিরানি। দীপক তারকাদের সম্পত্তির হিসাবনিকাশ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
নেটপ্রভাবী তথা বিষয়স্রষ্টা শরণ হেগড়ের সঙ্গে কথোপকথনের সময় দীপক মন্তব্য করেন, শাহরুখের সাফল্য আকস্মিক নয়। অনেক কৌশলে গড়া। তিনি বলেন, “শাহরুখ খান এক জন ব্যবসায়ী। তিনি খুব ভালো ভাবে পড়াশোনা করেন। ব্যবসা বোঝেন। এক যুগে কেবল এক জনই শাহরুখ খান থাকেন।”
আর্থিক দিক থেকে শাহরুখ অন্য তারকাদের থেকে কোথায় আলাদা? প্রশ্নের উত্তরে দীপক স্বীকার করেন, “আমি ওঁর (শাহরুখের) বিষয়আশয় পরিচালনা করি না। কিন্তু মনে হয় যদি করতে পারতাম। হয়তো একদিন হবে। আমার মনে হয় শাহরুখ খুব বৈচিত্রময়। তাঁর যে বাসভবন তিনি ১৮ কোটি টাকায় কিনেছিলেন, সেই মন্নতের বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি টাকা।”
মন্নত তো গেল রিয়্যাল এস্টেটের মধ্যে। কলকাতা নাইট রাইডার্সে কিং খানের মালিকানা সম্পর্কে বলতে গিয়ে দীপক বলেন, “তিনি যে টাকায় ক্রিকেট দল কিনেছিলেন, এখন তার দাম প্রায় ৪০-৫০ গুণ বেশি।”
দীপক আরও ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “শাহরুখ খুব বৈচিত্রময়। তিনি সব বুঝতে পারেন। আয়ের একাধিক উৎস আছে। এক জন সাধারণ মানুষ হিসাবে অনেকের কাছেই সেই সুযোগ থাকে না। সেই পথ নেই, সেই টাকাও নেই। তাই আমরা চাকরিতে আটকে আছি।”
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক-প্রযোজক কর্ণ জোহরও শাহরুখের সম্পত্তি নিয়ে একই রকম প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ২০০৭ সালে আইপিএল শুরু হওয়ার সময় শাহরুখ কী ভাবে কেকেআরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তা স্মরণ করে কর্ণ বলেন, ‘‘প্রথম বারের মতো একটি সত্যিকারের, আশ্চর্যজনক, মাস্টার পার্টনারশিপ করেছিলেন শাহরুখ।’’
কর্ণ আরও বলেন, “শাহরুখ কয়েক বছর আগে ক্রিকেট দল কিনেছিলেন। আজকে সেই দলের মূল্য দেখুন। কেন? কারণ, শাহরুখ কেকেআরকে আন্তরিক ভাবে ভালবাসেন। দল নিয়ে তিনি সক্রিয়। ওতপ্রোত ভাবে দলের সঙ্গে জড়িত।’’
কর্ণের কথায়, ‘‘শাহরুখ কেবল স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার জন্য বা নামের জন্য মালিকানা কেনেননি। তিনি দলের কৌশল তৈরি করেন, ভাবনাচিন্তা করেন, ব্যস্ত থাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেন কেকেআরকে। আর সে কারণেই কেকেআর শাহরুখের জন্য এত লাভজনক একটি উদ্যোগ এবং সে কারণেই এটি সম্ভবত তাঁর যে কোনও সিনেমার ব্যবসার চেয়ে অনেক বড়।”
আইপিএল শুরুর সময় কেকেআরের ৫৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছিলেন শাহরুখ। সে সময় কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির মূল্য ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই দলের দাম একেবারেই আলাদা।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি চুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে কেকেআরের আরও ৩৫ শতাংশ মালিকানা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন শাহরুখ। কিন্তু তার জন্য খরচ হতে পারে ৪,০০০ কোটি টাকা।
অন্য দিকে, বর্তমানে শাহরুখের বিখ্যাত বাসভবন ‘মন্নত’-এর সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে অভিনেতা এবং তাঁর পরিবার অন্যত্র থাকছেন কিছু সময় ধরে। এখন বান্দ্রার পালি হিলে একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকেন শাহরুখ। তার জন্য প্রতি মাসে ২৪ লক্ষ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয় তাঁকে।
শাহরুখ-পত্নী গৌরীও ইতিমধ্যেই পরিবারের কর্মীদের থাকার জন্য প্রতি মাসে ১.৩৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কাছাকাছি একটি অন্য ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘মন্নত’-এ আরও দুটি তলা যুক্ত করার জন্য মহারাষ্ট্র উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন চেয়েছিলেন গৌরী। প্রস্তাবটি মূল বাংলোর পিছনের ছ’তলা কাঠামোটি ৬১৬.০২ বর্গমিটার প্রসারিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
যেহেতু মন্নত একটি সুরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি, তাই কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য অনুমোদন প্রয়োজন। তার পরেই মন্নতের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কারের জন্য আনুমানিক ব্যয় হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা।সব
সব ছবি ফাইল থেকে।