প্রাক্তন স্ত্রীর খ্যাতি ও অখ্যাতি বিশ্বজোড়া। কম যান না স্বামীও। বিয়ে ও বিচ্ছেদ যেন জলভাত তাঁদের কাছে। হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। পেশাগত জীবনে চূড়ান্ত সফল হলেও ব্রিটনির ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই বিতর্কিত। তেমনই বিতর্কিত তাঁর প্রাক্তন দ্বিতীয় স্বামী কেভিন ফেডেরলাইন। কেভিন একজন র্যাপার, ডিজে। নামীদামি শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে ব্যাক আপ ডান্সার হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি।
কেভিন কর্মজীবনে খুব বেশি সফল না হলেও, ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ প্রায়শই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। শুধুমাত্র বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে যে কোটি কোটি টাকা রোজগার করা সম্ভব তার উজ্জ্বল উদাহরণ কেভিন ফেডেরলাইন। সে কারণে সমাজমাধ্যমে ‘ডিভোর্স কিং’ তকমা জুটেছে কেভিনের কপালে।
ব্রিটনির দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন কেভিন। পপ সম্রাজ্ঞী ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সঙ্গে ২০০৪ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। ব্রিটনির প্রথম বিয়ে টিকেছিল মাত্র ৫৫ ঘণ্টা। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে লাস ভেগাসে ২২ বছর বয়সি ব্রিটনি বিয়ে করেছিলেন জেসন আলেকজান্ডারকে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরমায়ু ফুরিয়ে যায় সেই বিয়ের। বিয়ের পর টানা তিন দিনও একে অপরের সঙ্গে কাটাতে পারেননি তাঁরা। ছোটবেলার বন্ধুকে বিয়ের পর তিন দিন গড়াতে না গড়াতেই পুলিশ এসে তুলে নিয়ে যায় জেসনকে। বিচ্ছেদ হয় অনতিপরেই। সেই বছরই কেভিনকে জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেন ব্রিটনি।
প্রথম বিয়ে ভাঙার কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় বিয়ে সারেন ব্রিটনি। প্রাক্তন গায়ক তথা ডিজেকে বিয়ে করার পর মাত্র তিন বছর সেই বিয়েতে থিতু হতে পেরেছিলেন গায়িকা। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। শন প্রেস্টন এবং জেডেন জেমস। সে বিয়ে ভেঙে যায় ২০০৭ সালে। যদিও ২০০৬ সাল থেকেই আলাদা থাকতে শুরু করেন দু’জনে। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচ্ছেদ হওয়ার পর মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ব্রিটনি মনোবিদের শরণাপন্ন হন।
গায়িকার দ্বিতীয় বিয়েও ভেঙে যাওয়ার পর স্বামী কেভিন তাঁদের দুই ছেলের যাবতীয় দায়িত্ব পান। আর এর পিছনেই রয়েছে কেভিনের ‘ডিভোর্স কিং’ খেতাব পাওয়ার কারণ। তারকা স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরণপোষণের জন্য মাসে মাসে ৪০ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা) করে পেতেন কেভিন। এ ছাড়াও ব্রিটনির সঙ্গে বিচ্ছেদের সময় ১০০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন তিনি।
পপ তারকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কেভিন বিয়ে করেছিলেন ভিক্টোরিয়া প্রিন্সকে। ব্রিটনির সঙ্গে আলাপের আগে কেভিন শার জ্যাকসন নামের এক তরুণীর সঙ্গে বাগ্দান সেরে ফেলেছিলেন। সেই বান্ধবীর গর্ভে কেভিনের এক পুত্র ও এক কন্যাও রয়েছে।
২০০২ সালের জুলাই মাসে কেভিন প্রথম বারের মতো বাবা হন। প্রাক্তন সঙ্গিনী শার এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। দু’বছর পর তাঁদের ছেলে কালেবের জন্ম হয়। ঠিক তার দু’মাসের মধ্যে শার ও কেভিন জুটির সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং কেভিন ব্রিটনির সঙ্গে বাগ্দানে রাজি হয়ে যান ।
২০০৮ সালে কেভিন ও ভিক্টোরিয়ার আলাপ হয় একটি বোলিং ম্যাচে। তাঁদের কন্যা জর্ডনের জন্মের পর ২০১৩ সালে লাস ভেগাসে বিয়ে সারেন দু’জনে। ভিক্টোরিয়াকে বিয়ের পর ব্রিটনির সন্তানদের নিয়ে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন কেভিন। ব্রিটনির দুই ছেলে এখন হাওয়াইয়ের ওহু দ্বীপে কেভিনের বর্তমান স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গেই থাকেন।
ওয়াশিংটনে জন্মানো ও বেড়ে ওঠা ভিক্টোরিয়া একজন প্রাক্তন ভলিবল খেলোয়াড় এবং শিক্ষক। তাঁরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত। ব্রিটনির সঙ্গে কেভিনের প্রেমের সম্পর্ক যতটা হাই প্রোফাইল ছিল, তাঁদের এই দ্বিতীয় বিয়ে ততটাই সাদামাঠা ছিল।
ব্রিটনির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর স্বামী কেভিন তাঁদের দুই ছেলের যাবতীয় দায়িত্ব পান। তার পরেই ব্রিটনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। বিয়ে ভাঙার পর ব্রিটনি এতটাই অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন যে ২০০৮ সালে আদালত তাঁকে কনজ়ারভেটরশিপের আওতায় এনে ফেলে।
আমেরিকার আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির মানসিক, শারীরিক এবং বয়সজনিত সমস্যা থাকলে তাঁকে কনজ়ারভেটরশিপের আওতায় আনা যায়। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির অর্থ, সম্পত্তি এবং অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকেন। ২০০৮ সালে আমেরিকার আদালত ব্রিটনির বাবা জেমসকে এই দায়িত্ব দেয়। ওই সময় মানসিক দিক থেকে ব্রিটনি দুর্বল অবস্থায় ছিলেন।
কেভিনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে ভাঙার ১৬ বছর পের তৃতীয় বিয়ে সেরেছিলেন ব্রিটনি। বয়সে অনেকটাই ছোট মডেল ও অভিনেতা স্যাম আসঘারির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন হলিউডের বিতর্কিত পপ তারকা। ১৪ মাসের মাথায় ভাঙন ধরে সেই ভালবাসায়। ২০২৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন স্যাম।
২০২৪ সালের মে মাসেই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে ব্রিটনি ও স্যামের। তার পরই আরও একটি অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন ব্রিটনি। ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’ নিয়ে নিজেকেই বিয়ে করে ফেলেছেন ব্রিটনি। নিজেকে বিয়ে করার খবর জানিয়ে বিকিনি পরা একাধিক ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ব্রিটনি। কখনও তাঁকে সুইমিং পুলের ধারে বসে থাকতে দেখা যায়। আবার কখনও বিলাসবহুল হোটেলের ঘরের ভিতর।
সব ছবি: সংগৃহীত।