বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় কমেডি শোয়ের বিচারক হিসাবে জনপ্রিয় হলেও একসময় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অর্চনাপূরণ সিংহ। অর্থের প্রয়োজনে নিম্নমানের কয়েকটি ছবিতেও বাধ্য হয়ে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। বিবাহবিচ্ছেদের পর এক রাতের শয্যাসঙ্গীরই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।
মুম্বইয়ের মডেলিংজগতে পা রেখে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অর্চনা। বহু বিজ্ঞাপনেও মুখে দেখিয়েছিলেন। তার মধ্যেই বিয়ে করে ফেলেছিলেন তিনি। তবে প্রথম বিয়ে বেশি দিন টেকেনি অভিনেত্রীর।
সংসার স্থায়ী না হওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অর্চনা। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, আর কোনও দিন বিয়ে করবেন না। কিন্তু চার বছরের ছোট তরুণের সঙ্গে এক রাতের ঘনিষ্ঠতার পরেই মন বদলাতে শুরু করেছিল অর্চনার।
অর্চনার চেয়ে চার বছরের ছোট পরমীত শেট্টি। বড়পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ পরমীত। এক বন্ধুর বাড়ির ডিনার পার্টিতে পরমীতের সঙ্গে প্রথম আলাপ হয়েছিল অর্চনার। ঘরের এক কোণে বসে বই পড়ছিলেন অভিনেত্রী।
প্রথম দেখায় অর্চনাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন পরমীত। অর্চনার হাত থেকে বই সরিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে মিষ্টি আলাপপর্ব জু়ড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরমীতের আচরণেও মন গলে গিয়েছিল অর্চনার।
এক সাক্ষাৎকারে অর্চনা বলেছিলেন, ‘‘আমার তখন সদ্য বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। পরমীতেরও সম্পর্ক ভেঙেছে। দু’জনের মধ্যে কেউই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে জড়াতে চাইনি।’’ প্রথম রাতেই শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন তাঁরা।
তবে রাত কেটে যাওয়ার পরেও অর্চনা-পরমীতের আলাপে ছেদ পড়েনি। পরের দিন সকালে অর্চনাকে ফোন করে পরমীত জানিয়েছিলেন যে, সম্পর্কে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চান না তিনি। এ ভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায়।
সম্পর্কের পরিণতির কথা না ভেবেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন অর্চনা এবং পরমীত। এক রাতের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। প্রেমের সম্পর্ককে বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন দু’জনে।
অর্চনা পেশায় অভিনেত্রী। তার উপর পরমীতের চেয়ে চার বছরের বড়। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল পরমীতের পরিবার। কিন্তু প্রেয়সীর হাত ছাড়তে রাজি ছিলেন না পরমীত। তাই বাড়ির অমতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।
বিয়ের কথা জানালে পাছে অর্চনার কেরিয়ারের ক্ষতি হয়, তাই সে কথা গোপন করে রেখেছিলেন তিনি। পরমীত এই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘রাত ১১টার সময় আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। রাত ১২টার মধ্যে আমরা পুরোহিতও খুঁজে পেয়ে যাই!’’
পরমীত আরও বলেছিলেন, ‘‘পুরোহিত প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি কি না। পাত্রীর বয়স নিয়েও সন্দেহ জেগেছিল তাঁর মনে।’’ সব কিছু জেনে নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের দু’জনকে পরের দিনের লগ্নে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুরোহিত।
বিয়ের দিন সইফ আলি খানের ছবি ‘পরম্পরা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন অর্চনা। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই যে তিনি বিয়ে করতে চলেছেন, সে কথা সেটে কাউকে ঘুণাক্ষরে টের পেতে দেননি অভিনেত্রী।
অর্চনা জানিয়েছিলেন, বিয়ে করার সময় অর্চনাকে তাঁর কেশসজ্জাশিল্পী ফোন করেছিলেন। মিথ্যা কথা বলে সেই ফোন রেখে দিয়েছিলেন তিনি।
অর্চনার দাবি, সেই সময় সমাজমাধ্যমের এত চল ছিল না বলে বিয়ের মতো বড় বিষয় সকলের নজরের আড়ালে রাখতে সফল হয়েছিলেন তিনি।
বিয়ের চার বছর পর পরমীতকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন অর্চনা। পরে পরমীতের পরিবারের তরফেও তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। এক রাতের শয্যাসঙ্গীকে যে জীবনসঙ্গী বানিয়ে ফেলেছেন সে কথা ভেবে আজও অবাক হয়ে যান অভিনেত্রী।
সব ছবি: সংগৃহীত।