US Boost Weapon Production

অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে গাড়িসংস্থার দ্বারস্থ পেন্টাগন, ইরান-তুরস্ক না চিন, ট্রাম্পের ‘টার্গেটে’ এ বার কোন দেশ?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গাড়ি-সহ প্রতিটি ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পসংস্থাকে হাতিয়ার নির্মাণের কাজে লাগিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৭ বছর পর ফের এক বার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু কেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০১
০১ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

মুখে শান্তির বাণী। আর পর্দার আড়ালে ভয়ঙ্কর সব হাতিয়ার নির্মাণ! সেই সঙ্গে বড় আকারের যুদ্ধের জন্য ফৌজ ও আপামর দেশবাসীকে প্রস্তুত করে তোলা। ইরান সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ-হেন দু’মুখো নীতিতে সরগরম আন্তর্জাতিক মহল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সামরিক বিশ্লেষকদের মনে উঠছে একটাই প্রশ্ন। তেহরানের পর এ বার কাকে ‘টার্গেট’ করবে আমেরিকা? চিন, তুরস্ক, কিউবা না কি রাশিয়া? তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় দুনিয়া জুড়ে বাড়ছে জল্পনা।

০২ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল মার্কিন যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগনের সূত্রকে উদ্ধৃত করে একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। সেখানে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আমেরিকার প্রথম সারির একাধিক গাড়িসংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক জন পদস্থ কর্তা। তাদের অবিলম্বে সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রনির্মাণের নিদান দিয়েছেন তাঁরা। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি ওয়াশিংটন।

০৩ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, জেনারেল মোটর্‌স এবং ফোর্ডের মতো সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একপ্রস্ত বৈঠক সেরেছেন পেন্টাগনের ফৌজি আধিকারিকেরা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গাড়ি নির্মাণকারীদের পাশাপাশি অন্যান্য ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্র উৎপাদনকারীরা হাতিয়ার ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করুক, চাইছে ওয়াশিংটন। গত সাড়ে আট দশকে এই ধরনের কোনও নীতি নিতে দেখা যায়নি যুক্তরাষ্ট্রকে।

Advertisement
০৪ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

গত শতাব্দীর ৩০-এর দশকে দেশের প্রায় প্রতিটা প্রকৌশলী সংস্থাকে হাতিয়ার নির্মাণের নির্দেশ দেয় মার্কিন প্রশাসন। পাশাপাশি, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বৃদ্ধির কড়া আদেশ পান প্রথাগত প্রতিরক্ষা কোম্পানির কর্তা-ব্যক্তিরা। ফলে ১৯৩৯ সাল আসতে আসতে পুরোপুরি যুদ্ধকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাব্যবস্থা। তাতে অবশ্য আখেরে লাভই হয়েছিল ওয়াশিংটনের। কারণ, ওই বছরই ইউরোপে লড়াই শুরু করেন নাৎজ়ি জার্মানির ফুয়েরার আডল্‌ফ হিটলার।

০৫ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

১৯৩৯-’৪৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলিকে হাতিয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করে আমেরিকা। এতে অর্থনীতি এতটাই মজবুত হয়েছিল যে, পরবর্তী বছরগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৮৭ বছর পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনায় সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। তবে কি নতুন কোনও শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার তোড়জোর শুরু করল ওয়াশিংটন? উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement
০৬ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর কাছে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পেন্টাগনের এক পদস্থ কর্তা। তাঁর কথায়, ‘‘সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিকল্প হিসাবে ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থাগুলির প্রয়োজন পড়তে পারে। সেই কারণেই এ ব্যাপারে তাদের নজর দিতে বলা হচ্ছে।’’ সূত্রের খবর, লড়াকু জেটের ইঞ্জিন নির্মাণকারী জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) অ্যারোস্পেস এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র নির্মাণকারী সংস্থা ওশকোশ-কেও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

০৭ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

এ ব্যাপারে রয়টার্সকে যাবতীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন পেন্টাগনের এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সামরিক শিল্পের আরও দ্রুত সম্প্রসারণ চাইছি। তাতে যুদ্ধের ময়দানে আমাদের সৈনিকেরা একটা নির্ণায়ক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, এর জেরে আর্থিক এবং বাণিজ্যিক ভাবে চূড়ান্ত মুনাফা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’’ যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে চলছে ট্রোলিং। সেখানে গাড়ি নির্মাণকারী শ্রমিকদের ‘এ বার তা হলে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করব’, এ কথা বলতে শোনা গিয়েছে।

Advertisement
০৮ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

হাতিয়ার নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের জোর দেওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা বলেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করলে পূর্ব ইউরোপে বেধে যায় যুদ্ধ। ওই সময় থেকে কিভকে লাগাতার হাতিয়ার সরবরাহ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে অস্ত্রভান্ডারে ভালই টান পড়েছে ওয়াশিংটনের। সেই ফাঁকফোকর দ্রুত পূরণ করতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

০৯ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

দ্বিতীয়ত, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লোকসান নেহাত কম হয়নি। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ আসতে আসতে একগুচ্ছ লড়াকু জেট, বেশ কয়েকটা মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার-বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম ড্রোন এবং কয়েক কোটি মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) রেডার হারিয়ে ফেলে মার্কিন ফৌজ। তেহরানের প্রত্যাঘাতে ধ্বংস হয়েছে তাঁদের গর্বের এফ-৩৫ লাইটনিং টু এবং এফ-১৫ ইগল যুদ্ধবিমানও।

১০ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

সামরিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের ধারণা, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালালেও কিছু দিনের মধ্যেই সেখানে ‘স্থল অভিযান’ বা ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ শুরু করার ছক কষছেন ট্রাম্প। সেখানে সাফল্য পেতে চাই বিপুল পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম। ফলে কোনও অবস্থাতেই অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি রাখতে চাইছেন না তিনি। আর তাই প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির পাশাপাশি গাড়ি নির্মাণকারী এবং ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিগুলিকে সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণের নির্দেশ দিচ্ছে পেন্টাগন।

১১ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

তবে অস্ত্রনির্মাণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমেরিকার একমাত্র ‘টার্গেট’ হিসাবে ইরানকে দেখলে ভুল হবে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, আগামী দিনে সিরিয়ার ‘দখলদারি’কে কেন্দ্র করে বড়সড় যুদ্ধে জড়াবে তুরস্ক ও ইজ়রায়েল। সেখানেও ইহুদিদের পাশে থেকে সংশ্লিষ্ট লড়াইয়ে অংশ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের মতো আঙ্কারার সামরিক শক্তিও নেহাত কম নয়। আর তাই আগাম প্রস্তুতি হিসাবে সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণে জোর দিচ্ছে আমেরিকা, বলছেন সাবেক সেনাকর্তাদের একাংশ।

১২ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

ইরানের লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়ে মলাক্কা প্রণালীর দিকে নজর দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে গত ১৩ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক সমঝোতা করে আমেরিকা। এর পোশাকি নাম ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারি’ চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর জেরে মলাক্কা প্রণালীতে বাড়তি নজরদারির অধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজ। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের এই সঙ্কীর্ণ জলপথটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পণ্য চলাচলের ‘লাইফলাইন’ বললে অত্যুক্তি হবে না।

১৩ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মলাক্কা প্রণালীতে নজরদারির জন্য ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় অবাধ প্রবেশাধিকার চেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ ব্যাপারে এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি জাকার্তা। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দু’তরফে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। অন্য দিকে, যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিবদ্ধ দু’টি দেশ জানিয়েছে, তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে ‘বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারি’ সমঝোতা হয়েছে। সেগুলি হল, সামরিক আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা ও অভিযানে সহযোগিতা।

১৪ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মলাক্কা প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, অবস্থানগত দিক থেকে সঙ্কীর্ণ জলপথটির কৌশলগতগত গুরুত্ব অপরিসীম। এর উত্তরে আছে মালয় উপদ্বীপ। দক্ষিণে সাবেক সুমাত্রা বা ইন্দোনেশিয়া। এই দু’য়ের মাঝ দিয়ে চলা সরু একফালি সামুদ্রিক রাস্তাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত পথ হিসাবে পরিচিত। বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশ পণ্যের আমদানি-রফতানি হয় এই রাস্তায়।

১৫ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ চিন সাগরকে সংযুক্ত করেছে মলাক্কা প্রণালী। গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের (পিপ্‌লস রিপাবলিক অফ চায়না) জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মলাক্কা দিয়েই বিশ্বের ৩৫ শতাংশ খনিজ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক রুটে সিংহভাগ জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্য ঘরের মাটিতে আনছে বেজিং। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রণালীর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার হাতে।

১৬ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

ফলে জাকার্তা-ওয়াশিংটনের সমঝোতাকে বেজিং কী চোখে দেখবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি, চলতি বছরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাবেক ফরমোজ়া তথা তাইওয়ান (রিপাবলিক অফ চায়না) আক্রমণ করতে পারে চিন, যাদের নিরাপত্তার ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। তাইওয়ানের লড়াইয়ে জাপানের নিরপেক্ষ থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ড্রাগনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধি করছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

১৭ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

২১ শতকের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবলমাত্র আমেরিকা হাতিয়ার নির্মাণে জোর দিচ্ছে, তা কিন্তু নয়। এই দৌড়ে শামিল হয়েছে একাধিক ইউরোপীয় রাষ্ট্র। উদাহরণ হিসাবে ব্রিটেনের কথা বলা যেতে পারে। সম্প্রতি, দেশবাসীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন দ্বীপরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান তথা এয়ার চিফ মার্শাল স্যর রিচার্ড কিংটন। শুধু তা-ই নয়, সামরিক খাতে ব্যয়বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। মোট জিডিপির ৩.৫ শতাংশ এতে খরচ করতে চাইছেন তিনি।

১৮ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

অন্য দিকে, গত বছর (২০২৫ সাল) থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ফ্রান্স। কিছু দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘‘পরমাণু হাতিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’’ পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে হাতিয়ার আমদানি বৃদ্ধি করেছে জার্মানি। তা ছাড়া দেশের বৃহত্তম অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’কে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশাল পরিমাণে জমি দিয়েছে বার্লিন প্রশাসন।

১৯ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

এ ছাড়া রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে পোল্যান্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার (রিপাবলিক অফ কোরিয়া) থেকে ইতিমধ্যেই হাজারখানেক চতুর্থ প্রজন্মের ‘কে২ ব্ল্যাক প্যান্থার’ ট্যাঙ্ক আমদানি করেছে তারা। পশ্চিম ইউরোপের এই প্রস্তুতি পুরোটাই মস্কোর বিরুদ্ধে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ফলে অত্যাধুনিক হাতিয়ার তৈরিতে পিছিয়ে নেই ক্রেমলিনও।

২০ ২০
Is US preparing large scale war as Pentagon boost weapons production by approaching automakers and other manufacturers

যদিও এগুলির অন্য যুক্তিও রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই চিনসফরে যাওয়ার কথা আছে ট্রাম্পের। সেখানে ড্রাগন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তাঁর। সেই বৈঠকের আগে বেজিঙের উপর চাপ বাড়াতে সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণে জোর দিচ্ছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত শান্তি বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি