একসঙ্গে একাধিক নায়িকার সঙ্গে প্রেম, এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বাগ্দান পর্ব সারার পর অন্য নায়িকাদের সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এবং পরে প্রেমিকার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গেই প্রেম— বলি অভিনেতা অক্ষয় কুমার তাঁর রঙিন জীবন নিয়ে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন।
নব্বইয়ের দশকে রবীনা টন্ডনের সঙ্গে অক্ষয়ের সম্পর্ক ছিল আলোচনার শীর্ষে। কিন্তু বলিপাড়ায় পা রাখার আগেই প্রেমপর্ব শুরু করে ফেলেছিলেন অক্ষয়।
আশির দশকের শেষের দিকে পূজা বাত্রার সঙ্গে নাকি সম্পর্কে ছিলেন অক্ষয়। সেই সময় পূজা ছিলেন সুপারমডেল। মুম্বইয়ের বড় বড় পার্টিতে যাতায়াত ছিল তাঁর। একাংশের দাবি, পূজার সাহায্য নিয়েই নাকি বলিউডে কেরিয়ার তৈরির সুযোগ পেয়েছিলেন অভিনেতা।
গুঞ্জন শোনা যায়, বলিপাড়ার পার্টিতে অক্ষয়কে নিয়ে যেতেন পূজা। বলিউডের প্রযোজক-পরিচালকদের সঙ্গে অক্ষয়ের আলাপও করিয়ে দিতেন তিনি। সেখান থেকেই নাকি অক্ষয়ের সঙ্গে বলিউডের চেনাশোনা হয়ে যায়।
বড়পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েই পূজার সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন অক্ষয়। ১৯৯১ সালে ‘সৌগন্ধ’ নামের ছবির মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন তিনি। তখন থেকেই পূজার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। সম্পর্ক ভেঙে যায় তাঁদের।
প্রেম ভেঙে গেলেও পেশার খাতিরে অক্ষয় এবং পূজার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। ২০১৭ সালে পূজা অভিনীত ‘মিরর গেম’ ছবির স্ক্রিনিংয়ে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অক্ষয়। পূজাকে ছবির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সঙ্গে পোজ় দিয়ে ছবিও তুলেছিলেন অভিনেতা।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘মোহরা’ ছবির শুটিংয়ের সময় রবীনার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল অক্ষয়ের। তিন বছর সম্পর্কেও ছিলেন তাঁরা। এমনকি, দুই পরিবারের সম্মতি পেয়ে রবীনার সঙ্গে বাগ্দানও সেরে ফেলেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু অন্য নায়িকাদের সঙ্গেও নাকি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন অক্ষয়। রবীনার সঙ্গে সম্পর্কে থেকে বার বার তাঁকে ঠকিয়েছিলেন বলিউডের ‘খিলাড়ি’।
১৯৯৮ সালে রবীনার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল অক্ষয়ের। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার নামোল্লেখ না করে রবীনা জানিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর অভিনেতা-প্রেমিকের সঙ্গে রেখা এবং সুস্মিতা সেনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জেনে গিয়েছিলেন। অক্ষয় যে তাঁকে সম্পর্কে ঠকাচ্ছেন তা জানা সত্ত্বেও বার বার ক্ষমা করে দিয়েছেন রবীনা।
রবীনার দাবি, অক্ষয় একাধিক নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। নায়িকাদের ডেট করার কিছু দিন পর তাঁদের মুম্বইয়ের এক মন্দিরে নিয়ে যেতেন অক্ষয়। সেই মন্দিরে গিয়ে সকলকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন অভিনেতা।
রবীনাকে বিয়ের জন্য নাকি শর্ত দিয়েছিলেন অক্ষয়। রবীনা যে দিন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন, সে দিন দুই তারকার চারহাত এক হবে বলে জানিয়েছিলেন অক্ষয়। সেই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না রবীনা।
রবীনা অভিনয় ছাড়ার প্রস্তাবে রাজি না হলে অক্ষয় তাঁর বাবা-মায়ের সামনে কান্নাকাটি করেছিলেন। ছেলের চোখে জল সহ্য করতে পারেননি অক্ষয়ের বাবা-মা। সেই সময় অক্ষয়কে শান্ত করতে তাঁরা বলেছিলেন, ‘‘চিন্তা কোরো না সোনা। এক জন ছেড়ে গিয়েছে তো কী হয়েছে? তোমার জন্য অন্য মেয়ে নিয়ে আসব আমরা।’’ সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছিলেন রবীনা।
‘খিলাড়ি’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর অক্ষয় এবং আয়েশা ঝুলকার জুটি দর্শকের নজরে পড়েছিল। বড়পর্দার আড়ালেও সেই জু়টি কম চর্চিত ছিল না। বলিপাড়ার একাংশের দাবি, আয়েশার সঙ্গেও নাকি প্রেম করেছিলেন অক্ষয়। তবে, সেই সম্পর্ক ছিল ক্ষণস্থায়ী।
‘ইনসাফ’, ‘জানোয়ার’, ‘ম্যাঁয় খিলাড়ী তু অনাড়ী’, ‘ধড়কন’-এর মতো বহু হিন্দি ছবিতে অক্ষয়ের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে শিল্পা শেট্টিকে। একসময় দু’জনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চর্চাও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কিন্তু অক্ষয় নাকি সেই সম্পর্কেও ঠকিয়েছিলেন।
১৯৯৪ সালে ‘ম্যাঁয় খিলাড়ী তু অনাড়ী’ ছবির সেটে শিল্পার প্রেমে পড়েন অক্ষয়। একই সময়ে রবীনার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল অভিনেতার। শোনা যায়, শিল্পার প্রেমের পড়ার ফলেই রবীনার সঙ্গে অক্ষয়ের সম্পর্কে চিড় ধরে।
বলিপাড়ার গুঞ্জন, শিল্পার সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তাও এগোতে শুরু করেছিল অক্ষয়ের। কিন্তু সেই সম্পর্কে ঢুকে পড়েছিলেন অন্য নারী। শিল্পার সেই সময়ের প্রিয় বান্ধবী ছিলেন বলি অভিনেত্রী টুইঙ্কল খন্না। প্রেমিকার প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন অক্ষয়।
বলিউডের জনশ্রুতি, টুইঙ্কলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই শিল্পার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল অক্ষয়ের। অবশেষে প্রেম-বিচ্ছেদের পালা শেষ করে সংসার পাতেন অভিনেতা।
২০০১ সালে টুইঙ্কলকে বিয়ে করেন অক্ষয়। কিন্তু পুরনো স্বভাব আর যায় কোথায়! বিয়ের পরেও নাকি সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তেন অক্ষয়।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, অক্ষয়ের সঙ্গে মাত্র চারটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া জোনাস। তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতা শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনেই আটকে থাকেনি, তা উপচে পড়েছিল পর্দার আড়ালেও।
কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে যে, প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে অক্ষয়ের পরকীয়ার কথা কানে যেতেই নাকি রেগে আগুন হয়ে গিয়েছিলেন টুইঙ্কল। প্রিয়ঙ্কাকে মারধর করতে নাকি শুটিং সেটেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যবশত তখন সেটে ছিলেন না প্রিয়ঙ্কা।
টুইঙ্কল নাকি অক্ষয়কে শর্ত দিয়েছিলেন যে, প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখলে সন্তানদের নিয়ে সংসার ত্যাগ করবেন তিনি। স্ত্রীর মান ভাঙাতে সেই শর্তেই রাজি হন অক্ষয়।
বলিপাড়ার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বরসাত’ ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল অক্ষয়ের। অর্ধেক ছবির শুটিংও শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রিয়ঙ্কা সহ-অভিনেত্রী হওয়ায় মাঝপথেই ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন অক্ষয়। পরে আবার ববি দেওলকে নিয়ে সিনেমার শুটিং শুরু হয়।
বলিউডের একাংশের দাবি, ক্যাটরিনা কইফের সঙ্গেও নাকি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন অক্ষয়। দুই তারকা বড়পর্দায় জুটি বেঁধে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কেও ভাটা পড়ে।
বলিউ়ডের জনশ্রুতি, ‘এয়ারলিফ্ট’ ছবিতে অভিনয়ের সময় সহ-অভিনেত্রী নিমরত কৌরের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল অক্ষয়ের। যদিও এ সব ‘রটনা’ বলে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছিলেন নিমরত। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্কাই ফোর্স’ ছবিতেও অক্ষয়ের বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল নিমরতকে।
সব ছবি: সংগৃহীত।