আগামী ৯ এপ্রিল নির্বাচন হবে অসমের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ভোটগণনা ৪ মে। প্রত্যাশিত ভাবে এ বারও জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বর্তমানে এই আসন হিমন্তের ঘাঁটি বলা যেতে পারে।
কংগ্রেসে থাকার সময় থেকে জালুকবাড়ি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ২০০১ সাল থেকে জালুকবাড়ির বিধায়ক হিমন্ত। তখন তিনি ছিলেন কংগ্রেসে। পরে দল বদলে বিজেপিতে আসার পরেও তাঁর আসন বদল হয়নি। এ বারও সেই আসন থেকে ভোটে লড়ছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
গত শুক্রবার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন হিমন্ত। মনোনয়নের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রীর জমা দেওয়া হলফনামার হিসাব বলছে, হিমন্ত এবং তাঁর উদ্যোক্তা স্ত্রী রিনীকী ভূঁইয়া শর্মার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৫.১৬ কোটি টাকা।
৫৭ বছর বয়সি হিমন্ত হলফনামায় জানিয়েছেন যে, তাঁর কেবল অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। ২০২৬ সালে অস্থাবর ওই সম্পত্তির মূল্য ২.৩৬ কোটি। ২০২১ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে থাকা অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১.৭২ কোটি টাকা।
অন্য দিকে হিমন্তের হলফনামা বলছে, তাঁর স্ত্রী রিনীকীর ১৩.৫৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি এবং ১৯.২৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে স্বোপার্জিত এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত উভয় সম্পত্তিই অন্তর্ভুক্ত।
হলফনামা অনুযায়ী, অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ৯৫ লক্ষ টাকা ঋণ আছে, যা সম্পূর্ণই ব্যাঙ্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ। অন্য দিকে, তাঁর স্ত্রীর ঋণের পরিমাণ ১৫.৯১ কোটি টাকা।
হিমন্ত হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর হাতে নগদ ২.২৮ লক্ষ টাকা এবং চারটি ব্যাঙ্কে মোট ৬৮,০১,৯৪৩ টাকা জমা রয়েছে। অন্য দিকে তাঁর স্ত্রী রিনীকীর হাতে নগদ ৩.১৬ লক্ষ টাকা এবং চারটি ব্যাঙ্কে মোট ৭৪,৮৫,২৪৮ টাকা জমা রয়েছে।
মনোনয়নের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় বন্ড, ডিবেঞ্চার, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য খাতে কোনও বিনিয়োগের কথা জানাননি হিমন্ত। ফলে ওই ক্ষেত্রেও স্বামীকে ছাপিয়ে গিয়েছেন রিনীকী। বিভিন্ন জায়গায় ৫.১ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর।
হিমন্তের হলফনামার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনীকী কে? তাঁর কোটি কোটি টাকা সম্পত্তির উৎসই বা কী?
১৯৭৩ সালের ৩১ জুলাই গুয়াহাটিতে জন্ম রিনীকীর। রিনীকী সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা। তাঁর বাবা যাদবচন্দ্র ভূঁইয়া অসমের একজন নামী শিল্পপতি। রিনীকীর প্রাথমিক পড়াশোনা গুয়াহাটিতেই।
দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য কটন কলেজে ভর্তি হন রিনীকী। সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর গুয়াহাটির গভর্নমেন্ট ল কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে সুপরিচিত নাম রিনীকী। বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বড় মিডিয়া হাউসের প্রধান তিনি। ওই সংস্থার চেয়ারপার্সন এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিনীকী।
রিনীকী এক জন পেশাদার আইনজীবী এবং প্রাক্তন টেনিস খেলোয়াড়ও বটে। টেনিসে জাতীয় স্তরে অসমের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
রিনীকীর সংস্থার অধীনে রয়েছে ২টি নিউজ় চ্যানেল, ৩টি বিনোদন চ্যানেল এবং ১টি অহমিয়া সংবাদপত্র। সম্প্রতি সফল ভাবে ডিজিটাল নিউজ় প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণ করেছে রিনীকীর সংস্থা।
২০০১ সালে অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের সঙ্গে বিয়ে হয় রিনীকীর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কটন কলেজে পড়ার সময় থেকে একে অপরকে চিনতেন তাঁরা। দম্পতির দুই সন্তান— পুত্র নন্দিল বিশ্বশর্মা এবং কন্যা সুকন্যা শর্মা।
অতীতে বিতর্কেও জড়িয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস অভিযোগ করে যে, রিনীকী তাঁর মিডিয়া সংস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্পদ যোজনার অধীনে ১০ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছিলেন।
যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন রিনীকী। তিনি দাবি করেন, তাঁর সংস্থা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনও ভর্তুকির জন্য আবেদন করেনি বা কোনও ভর্তুকি পায়নি। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পুত্র তথা কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো প্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও দায়ের করেন তিনি।
সব ছবি: ইনস্টাগ্রাম এবং সংগৃহীত।