(বাঁ দিকে) অশোক যাদবকে উইকেট নেওয়ার পর অভিনন্দন জানাচ্ছেন শুভমন গিল (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলের নতুন চমক গুজরাত টাইটান্সের অশোক শর্মা। শনিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে গুজরাতের জোরে বোলার চমকে দিয়েছেন বলের গতিতে। এ বারের প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত অশোকই দ্রুততম বলটি করেছেন।
গুজরাতের হয়ে খেললেও অশোক আসলে রাজস্থানেরই ক্রিকেটার। আগে রাজস্থান রয়্যালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সে থাকলেও আইপিএলে অভিষেক হয়েছে এ বারই। শনিবারের ম্যাচে ২৩ বছরের বোলারের একটি বলের গতি ছিল ১৫৪.২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এবারের আইপিএলে অশোকের এই বলই এখনও পর্যন্ত দ্রুততম। তাঁর প্রশংসা করেছেন ডেন স্টেন।
রাজস্থানের ইনিংসের ১৬তম ওভারে ধ্রুব জুরেলকে একটি ইয়র্কার দেন অশোক। বলটি কোনও রকমে সামলান জুরেল। সেই বলটির গতি ছিল ১৫৪.২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। অশোক গতিতে টপকে গেলেন অনরিখ নোখিয়াকে। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার একটি বল করেছেন ১৫০.৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে। অশোকের ওই বলের আগে এ বারের আইপিএলে সেটাই ছিল দ্রুততম বল। এ বারের দ্রুততম বলের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে কার্তিক ত্যাগীর ১৪৯.৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির একটি বল। চতুর্থ স্থানে আর এক প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাডার ১৪৯.১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির একটি বল।
আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় বোলারদের দ্রুততম বলের তালিকায় অশোকের ১৫৪.২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির বলটি চলে এসেছে তৃতীয় স্থানে। এক নম্বরে রয়েছে ২০২২ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে উমরান মালিকের করা ১৫৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির বল। দ্বিতীয় স্থানে ২০২৪ সালে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ময়ঙ্ক যাদবের করা ১৫৬.৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির বল।
শনিবার রাজস্থানের বিরুদ্ধে অশোকের সার্বিক পারফরম্যান্সও খারাপ নয়। ৪ ওভারে ৩৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। তাঁকে নিয়ে গুজরাত অধিনায়ক শুভমন গিল বলেছেন, ‘‘অশোক ভীষণ পরিশ্রমী ছেলে। সব সময় উন্নতি করার চেষ্টা করে। দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার অশোক। মাস দুয়েক আগে প্রস্তুতি শিবিরে ওর সঙ্গে প্রথম আলাপ হয়। তখনই ওর বোলিং দেখে ভাল লেগেছিল।
গত নিলামে অশোককে ৯০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছেন গুজরাত কর্তৃপক্ষ। জয়পুরের কাছে রামপুরে গ্রামের ছেলে অশোক। তাঁর বাবা নাথুলাল শর্মা নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক। অশোক ছোট থেকে দাদা অক্ষয় শর্মার সঙ্গে খেলত। অক্ষয়ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার ছিলেন। কিন্তু নাথুলাল দু’ছেলের খেলার খরচ টানতে পারছিলেন না একটা সময়। তখন ভাইয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন সফল করতে খেলা ছেড়ে দেন অক্ষয়। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে অশোক নিজেও ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবে ছিলেন বছর তিনেক আগে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেন। দাদা এবং বাবার উৎসাহই তাঁকে আইপিএলের ২২ গজ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।