মুস্তাফিজ়ুর রহমান। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশ মেনে নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত রবিবার নেওয়া হল বিসিবির ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের সভায়। প্রথমে খবর দেয় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’। পরে সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বিসিবি পরিচালকদের বেশির ভাগই কঠোর পদক্ষেপ না করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সরকারের হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্ত বদলেছেন তাঁরা। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বোর্ডের বৈঠকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের পর বৈঠকে বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য জয় শাহের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে (আইসিসি) চিঠি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই হওয়ার কথা ভারতে। সূচি অনুযায়ী তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়। একটি মুম্বইয়ে।
বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ শনিবার তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে বলেছি, বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যেখানে ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না।” তিনি আরও লেখেন, “বাংলাদেশ বোর্ডকে বলেছি, তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখে। বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশও আমি দিয়েছি।”
তাঁর এই বক্তব্যের পরও বিসিবির পরিচালকদের অধিকাংশ কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে সরকারের হস্তক্ষেপের পর তাঁরা মত পরিবর্তন করেন। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন ‘প্রথম আলো’কে বলেছেন, ‘‘সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।’’ এর পর বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির প্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’’
শনিবার আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর বাদ পড়ার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। বাংলাদেশের অন্তবর্তিকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে দেন। বিসিবি কর্তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এর পর সেই নির্দেশ উপেক্ষা করার উপায় কার্যত ছিল না বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তাদের। তাঁদের অনেকে প্রথমে কঠোর অবস্থানের পক্ষে না থাকলেও সরকারের বিরোধিতা করার কথাও ভাবেননি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আগেই জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে তারাও চাপ তৈরি করবে আইসিসির উপর। প্রতিযোগিতার এক মাস আগে হঠাৎ করে সব আয়োজন নতুন করে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের এক কর্তা।