বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: সমাজমাধ্যম।
ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার সে কথা আবার জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। বৃহস্পতিবার তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিছু দিন আগেই বাংলাদেশের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, আর্থিক ক্ষতি এড়াতে দু’দেশের ম্যাচ হওয়া খুবই জরুরি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে একটা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটা খেলব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “খেলাধুলোয় রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমরা যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। আমার মনে হয়, এটা সঠিক এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত।’’
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০.১৩ নাগাদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন নজরুল। তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনও রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণ ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটা খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।”
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা বলেছিলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। আমাদের লভ্যাংশও কমে যাবে। এই রকম ক্ষতি আমরা চাইনি।” এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ায় এমনিতেই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। বিশ্বকাপে যোগ দিলে যে টাকা তারা পেত, সেটা আর পাবে না। তার পর যদি আবার ভারত-পাক ম্যাচ না হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতি হয় তা হলে গোদের উপর বিষফোড়ার মতো অবস্থা হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আর এক কর্তা বলেছিলেন, “ভারত-পাক ম্যাচ না হলে আইসিসির অর্থভান্ডারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে সকলের মতো তো আমরাও ভাগীদার। ধরুন, কেনিয়া বা উগান্ডা এক-দু’লক্ষ ডলার পেলেই খুশি। কিন্তু আমাদের দেশের ক্রিকেটে যে পরিকাঠামো, অত কম টাকায় চালানো যাবে না। টাকা কমে গেলে আমরা কী ভাবে দেশের ক্রিকেট চালাব?” ওই কর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আয়ের প্রধান উৎস আইসিসি। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এখন তেমন আয় নেই। সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পনসর থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে গোটা বছরের ক্রিকেট চালানো কঠিন। তাই চিন্তা বাড়ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।