বেন স্টোকস। —ফাইল চিত্র।
ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ডামাডোল চলছে। পানশালায় মারামারির জেরে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের দলে নেওয়া হয়নি বেন স্টোকসকে। চার বছর পর অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় জো রুটকে। হতাশ করেছেন রুট। নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ২৫৩ রানে হেরেছে তারা। এই হারের পরেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। আবার স্টোকসকে নেতৃত্বে ফেরানো হয়েছে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড একটি বিবৃতিতে বলেছে, “স্টোকস ও অ্যাটকিনসন বোর্ডের কিছু নিয়ম ভেঙেছে। ফলে দু’জনকেই লিখিত ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে পানশালায় যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে দায়ী করা যায় না। ওরা গণ্ডগোল শুরু করেনি। ঘটনাচক্রে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিল। তার জন্য দু’জনকে সতর্ক করা হয়েছে। আর কোনও শাস্তির প্রয়োজন নেই।” বোর্ড জানিয়েছে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের দলে স্টোকস অধিনায়ক হিসাবে ফিরেছেন। ফেরানো হয়েছে অ্যাটকিনসনকেও।
লর্ডসে প্রথম টেস্টে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারানোর পরে মধ্যরাতে এক পানশালায় গিয়েছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। সেখানেই এক রাগবি খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁদের বিবাদের খবর পাওয়া যায়। সেই সময় ওই রাগবি খেলোয়াড় অ্যাটকিনসনকে ঘুষি মারতে যান। সেটি লাগে স্টোকসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির মুখে। তাঁর মুখে সেলাই পড়ে। সেই ঘটনারই তদন্ত করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
শুরুতে মনে হয়েছিল, কড়া শাস্তি পাবেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। এমন জল্পনাও শুরু হয়েছিল যে, স্টোকস অবসরের কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু তদন্তের পর ইংল্যান্ড বোর্ড জানিয়ে দিল, শাস্তি দেওয়ার মতো কোনও অপরাধ করেননি স্টোকসেরা। তাই সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
তবে তড়িঘড়ি স্টোকসদের ফেরানোর নেপথ্যে অন্য কারণ দেখছেন অনেকে। সেটি হল, দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের হার। রুটের অধিনায়কত্ব প্রভাব ফেলেনি। অধিনায়ক হিসাবে এটি তাঁর ২৭তম টেস্ট হার। লজ্জার নজির গড়েছেন তিনি। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট হারের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে তিনি। শীর্ষে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ ২৯টি টেস্টে হেরেছেন। এই হারের ফলে সিরিজ়ে লিড হাতছাড়া হয়েছে। তৃতীয় টেস্টে জিতে সিরিজ় জিততে চাইছে ইংল্যান্ড। নইলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার কোনও সুযোগই আর থাকবে না। তাই হয়তো আবার স্টোকসকে ফেরাল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।