IPL 2026

‘শ্রেয়সকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক,’ দু’বছর পর ভুলস্বীকার কেকেআরের তখনকার কোচ পণ্ডিতের

চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত মনে করেন শ্রেয়স আয়ার, ফিল সল্টদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেকেআরের পক্ষে যায়নি। কোচ হিসাবে তাঁর খারাপই লেগেছিল কেকেআর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৪
picture of cricket

শ্রেয়স আয়ার। ছবি: পিটিআই।

শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার পরও শ্রেয়সকে দলে রাখেননি কেকেআর কর্তৃপক্ষ। ট্রফি দেওয়া অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়া যে বড় ভুল হয়েছিল, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বেঙ্কি মাইসোরেরা। শ্রেয়সকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যাঁরা নিয়েছিলেন, তাঁদের অন্যতম দলের প্রাক্তন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত।

Advertisement

‘রেভস্পোর্টজ়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন পণ্ডিত। ক্রিকেটপ্রেমীদের বিস্মিত করা সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ওকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা দুর্ভাগ্যজনক। শ্রেয়স দুর্দান্ত ক্রিকেটার। অধিনায়ক হয়ে কেকেআরকে ট্রফি দিয়েছে। ও যেভাবে দল পরিচালনা করত, সেটাও প্রশংসনীয়। কিন্তু কখনও কখনও কিছু পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর কৌশল এই রকম খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। কেকেআরের কোচ হিসাবে নিশ্চিত ভাবে এই সিদ্ধান্তটা আমার খারাপই লেগেছিল। এটা বলতে পারি, ওকে ইচ্ছাকৃত বাদ দেওয়া হয়নি। দু’পক্ষের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল না। শুধু শ্রেয়স নয়, ফিল সল্ট এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও আমার একই মতামত। ওই সিদ্ধান্তগুলো আমাদের পক্ষে আসেনি।’’ কেকেআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? পণ্ডিত বলেছেন, ‘‘সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শাহরুখ খান, জুহি চাওলা, জয় মেহতা বা বেঙ্কি মাইসোর, সকলের কাছ থেকে খুব সহযোগিতা পেয়েছি।’’

পণ্ডিত মনে করেন, ভারতীয় দলে শ্রেয়সের পাকা জায়গা পাওয়া উচিত। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দলের জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা এখন খুব তীব্র। সে জন্যই শ্রেয়সের জায়গা এখনও পাকা হয়নি। ভারতের হয়ে শ্রেয়সের পারফরম্যান্স বেশ ভাল। দুর্ভাগ্যবশত ওকে বাদ পড়তে হয়েছে। তবে এ রকম পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। দল নির্বাচনের সময় তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখার কথা ভাবা হয়। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের দারুণ সব প্রতিভা রয়েছে। দলে সকলকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়।’’ পণ্ডিত আরও বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা খুব তীব্র। সমান যোগ্যতাসম্পন্ন একাধিক খেলোয়াড় রয়েছে। তবে একটা কথা বলব, শ্রেয়স পঞ্জাব কিংসকেও দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিচ্ছে। ওর ব্যাটিংয়েও পরিণতির ছাপ স্পষ্ট। অত্যন্ত নির্ভিক ক্রিকেটার। ম্যাচ জেতার দিকেই নজর থাকে ওর। পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা ভাবে না।’’

পণ্ডিত মনে করেন, শ্রেয়সের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে থাকা উচিত ছিল। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘শ্রেয়সের বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়াটা হতাশাজনক। ও যদি আর একটা সুযোগ পায়, তা হলে খুশিই হব। দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের। সব সময় সমালোচনার পক্ষে নই আমি। অতীতেও এমন হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে পদ্মাকর শিভালকরের কথা বলতে পারি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি বিষাণ সিংহ বেদী থাকায়। এগুলো খেলার অংশ। মনে হয়, শ্রেয়স এগুলো বোঝে। এখন যে ভাবে ক্রিকেট খেলছে তাতে মনে হচ্ছে, বাদ পড়া নিয়ে আর ভাবছে না। দলে ফেরাই ওর লক্ষ্য। দলে ফিরতে কতটা আন্তরিক, তার ছাপ দেখা যাচ্ছে ওর পারফরম্যান্সে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন