ইডেনে বাড়ছে দর্শকাসন। —ফাইল চিত্র
একটা টিকিট হবে? ইডেনে ‘বড়’ ম্যাচের আগে বরাবরের এই হাহাকার হয়তো কিছুটা কমবে। কারণ, ৬৭ হাজার থেকে ইডেনের দর্শক আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫ হাজার।
যদি ১৮ হাজার দর্শকাসন বাড়ে, তা হলে বড় ম্যাচ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইডেন পাল্লা দিতে পারবে অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সঙ্গে। এখন যেকোনও বড় প্রতিযোগিতার ফাইনাল অহমদাবাদেই হয়। ২০২৩-এর বিশ্বকাপ ফাইনাল সেখানে হয়েছে। আগামী রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও মোদী স্টেডিয়ামেই হবে। যদিও এর পরেও অহমদাবাদ (১ লক্ষ ৩২ হাজার দর্শকাসন) অনেকটাই এগিয়ে থাকবে ৮৫ হাজারের ইডেনের থেকে। বিশ্বক্রিকেটের বিচারে মাঝে থাকবে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (১ লক্ষ দর্শকাসন)।
ইডেনকে আধুনিক করার জন্য এবং দর্শকাসন বাড়ানোর জন্য সিএবি ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডেকেছে। যে সংস্থা দায়িত্ব পাবে, তাদের কাজ শুরু করার দেড় বছরের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। মনে করা হচ্ছে, এই বছরের আইপিএল শেষ হলেই ইডেন সংস্কারের কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ, সব পরিকল্পনা মাফিক চললে ২০২৭ সালের মধ্যেই নতুন সাজে দেখা যেতে পারে ইডেনকে।
শুধু ক্রিকেট নয়, ইডেনে খেলাধুলো ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই হবে সংস্কারের কাজ। দরপত্রে বলা হয়েছে, যুগোপযোগী বিশ্বমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। বলা হয়েছে, ‘মাল্টি-পারপাস স্পোর্টস’-এর সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আনুমানিক খরচ হবে ২৫০ কোটি টাকা।
ইডেনের গ্যালারির চারটি ব্লক বি, সি, কে, এল এবং ক্লাব হাউস অক্ষত থাকছে। গ্যালারির বাকি অংশে আসন বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য, ইডেনের ক্লাব হাউসকে কয়েক বছর আগেই নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।
ইডেন সংস্কারের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৪ মার্চ। মোট দু’টি ভাগে দরপত্র জমা দিতে হবে। একটি টেকনিক্যাল প্রস্তাব, দ্বিতীয়টি আর্থিক প্রস্তাব। যারা দরপত্র জমা দেবে, ১৬ মার্চ তাদের টেকনিক্যাল প্রস্তাব বিবেচনার জন্য খোলা হবে। এখানে মোট ৭০ নম্বর রয়েছে। পরের ধাপ, অর্থাৎ আর্থিক প্রস্তাবের জন্য বিবেচিত হতে হলে অন্তত ৪৯ নম্বর পেতেই হবে। অর্থাৎ, যে সংস্থা টেকনিক্যাল প্রস্তাবে ৪৯ নম্বর পাবে, শুধু তাদের দেওয়া আর্থিক প্রস্তাবই বিবেচনা করা হবে। মনে করা হচ্ছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কাজ শুরু হবে আইপিএলের পর।
বড় কোনও সংস্থায় অন্তত তিনটি এই ধরনের সংস্কারের কাজ করার অভিজ্ঞতা যাদের থাকবে, তারাই দরপত্র জমা দিতে পারবে। প্রতিটি সংস্কারের কাজ ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হতে হবে। যাদের খেলাধুলোর পরিসরে এই ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
হাওড়ার ডুমুরজলায় সেন্টার অফ এক্সেলেন্স তৈরির কাজও শুরু হবে। এর জন্যও দরপত্র চাওয়া হয়েছে। মোট ৮.৯৪ একর জায়গায় এই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স তৈরি হবে। মোট ৬টি ইন্ডোর পিচ থাকবে। আউটডোর পিচ থাকবে ১২টি। এছাড়াও কোচিং এবং ভিডিয়ো অ্যানালিসিসের জন্য আলাদা ঘর থাকবে। জিমন্যাসিয়াম, ড্রেসিং রুম, রিহ্যাব রুম, সুইমিং পুল, স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টার রাখা হচ্ছে। দু’হাজার আসনের একটি স্টেডিয়ামও হবে। সেখানে ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা থাকবে। এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে থাকার জন্য ৪০টি ডবল বেড এবং ১২টি সিঙ্গল বেড ঘর থাকবে। এর জন্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা খরচ হবে।