বেন স্টোকস। ছবি: রয়টার্স।
ক্রিকেটজীবন আরও দুর্বিষহ হতে চলেছে বেন স্টোকসের কাছে। পানশালায় আবার মারামারি করার পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসর নিতে পারেন তিনি। অথবা অবসর নিতে বাধ্য করানো হতে পারে বোর্ডের তরফে। লর্ডসে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ভাবে সঙ্কটের মধ্যে চলে গিয়েছে স্টোকসের ক্রিকেটজীবন।
স্টোকস এবং সতীর্থ গাস অ্যাটকিনসনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড বোর্ড (ইসিবি)। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বিষয় আগামী দিনে দেখা যেতে পারে। স্টোকসকে অবসর নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে ইসিবি। তিনি পদত্যাগ না করলে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল না বেরোনো পর্যন্ত স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনকে নিলম্বিত করা হতে পারে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে দিয়ে বাড়তি তদন্ত করানো হতে পারে।
যা-ই হোক না কেন, ইংল্যান্ডের নেতৃস্থানীয়রা বিপদের মুখে রয়েছে। এই ঘটনায় বোর্ড থেকে কোচিং স্টাফ, সকলের মুখ পুড়েছে। কয়েক মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপান এবং হতাশাজনক ফল এখনও টাটকা। তার মধ্যে স্টোকসের দলীয় নিয়ম ভাঙা এবং পানশালার মারামারির ঘটনাকে হালকা ভাবে দেখছেন না বোর্ডকর্তারা।
স্টোকসের হাতেও কতগুলি বিকল্প রয়েছে। নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে সাধারণ ক্রিকেটার হিসাবে খেলতে পারেন। অথবা নেতৃত্ব ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোর্ডের সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নিতে পারেন। ক্রিকেট থেকে কিছু দিনের বিরতি নিয়ে আবার ফিরতে পারেন।
অবসর নেওয়া চরমতম পদক্ষেপ হবে। স্টোকস সেটাই বেছে নিলে ১৫ বছরের ক্রিকেটজীবনের অবসান হবে। ইংল্যান্ডের আধুনিক ক্রিকেটের মুখ তিনি। নতুন কাউকে মুখ হিসাবে হাজির করাতে সময় লাগবে ইংল্যান্ডের।
২০১৭-য় ব্রিস্টলে ঠিক এ ভাবেই এক পানশালায় মারপিট করেছিলেন স্টোকস। এর পর অ্যাশেজ় থেকে বাদ পড়েছিলেন। ২০২১-এ মানসিক সমস্যার কারণে বিরতি নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কালে তাঁর খেলা দেখে মনে করা হয়েছিল তিনি বদলে গিয়েছেন। সোমবার রাতের ঘটনা বুঝিয়েছে, স্টোকস বদলাননি।