বিশ্বকাপ হাতে গৌতম গম্ভীর (বাঁ দিকে) এবং সূর্যকুমার যাদব। — ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল পারফরম্যান্স করে জিতেছে ভারত। ম্যাচের আগে গোটা দলকে তাতিয়ে দিয়েছিল গৌতম গম্ভীরের একটি ভাষণ। ফাঁস করেছেন সূর্যকুমার যাদব। তিনি জানিয়েছেন, ট্রফি জেতার পর প্রাণ খুলে হেসেছেন ভারতের কোচ। কেন শেষ মুহূর্তে হোটেল বদল করা হয়েছিল, সেই রহস্যও ফাঁস করেছেন ভারতের অধিনায়ক।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সূর্য বলেছেন, “ফাইনালের আগে সেরা ভাষণ ছিল গৌতি ভাইয়ের। ট্রফিটা আমাদের সামনে রেখে বলেছিল, ‘এটাই সাজঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বাকি সব ভুলে যাও। কত রান করলে লোকে ভুলে যাবে। কিন্তু এই ট্রফিটা মনে রাখবে। আমরা দল হিসাবে কতগুলো বিশ্বকাপ জিতেছি সেটাই আসল। আমরা ১০০টা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের ম্যাচ জিততে পারি। কেউ মনে রাখবে না’। ওই কথাগুলোই আমাদের তাতিয়ে দিয়েছিল।”
গম্ভীরের সেই মন্তব্যে তেতে গিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। ট্রফিজয়ের পর ভারতীয় কোচের সব আবেগ বেরিয়ে এসেছিল। সূর্য বলেছেন, “প্রথম চারটে ম্যাচে ওকে হাসার সুযোগই দিইনি। তার পর এই দলের খেলা দেখে গম্ভীর খুব খুশি হয়েছিল। আমার মনে হয় না ভারতের অন্য কোনও দল এ ভাবে আগে ব্যাট করেছে। টি-টোয়েন্টিতে ২৫০, ২৫৬ তুলেছে। ফাইনালের পর গম্ভীর বেশি হেসেছিল।”
ফাইনাল খেলতে ভারতীয় দল অহমদাবাদের পৌঁছনোর পর শোনা যায়, আচমকাই হোটেল বদলানো হয়েছে। যে হোটেলে থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল, সেখানে থাকছে না দল। সত্যিই কি এটা কুসংস্কার ছিল? সূর্য বলেছেন, “আমরা তখন ওয়াংখেড়েতে সেমিফাইনাল খেলার জন্য বিমানে ছিলাম। হঠাৎই দলের একজন হোটেল বদলানোর কথা বলল। আগে নাকি অনেক দল এ কাজ করেছে। আসলে ট্রফি জেতার জন্য আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছিলাম না। যখন অন্য একটা হোটেলে থেকে একটা দল জিতেছে তখন আমরাও সেটা করতে পারি। এই ভেবেই হোটেল বদলানো হয়েছিল।”
২০২৩-এর ফাইনাল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর অনেকেই অহমদাবাদকে ভারতের পয়া মাঠ বলতে রাজি ছিলেন না। সে প্রসঙ্গে সূর্যের জবাব, “অনেকেই বলছিল আমরা নাকি অহমদাবাদে জিতি না। এখন দেখুন। আমরা একই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জিতলাম। এখন তো আর কোনও সমস্যা নেই।”
সূর্য মেনে নিয়েছেন, বিশ্বকাপে একটি ধাক্কা তাঁদের দরকার ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওই হার তাঁদের চোখ খুলে দিয়েছিল। ভারতের অধিনায়কের কথায়, “এই দল নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ ছিল না। তবে ওই হার আমাদের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়। ফিরে আসার কোনও জায়গা ছিল না। আমাদের কাছে জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচ ছিল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। তার পর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। আমরা প্রতিটা ম্যাচ নকআউট ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছি।”