IPL 2026

৫ বোলার: আইপিএলের হাত ধরে যাঁদের প্রত্যাবর্তন হতে পারে ভারতীয় দলে

পাঁচ বোলারের তিন জনের বয়স ৩৫। এক জনের ৩২। এক জন ২৫ বছরের। আগামী দু’বছরে সাদা বলের তিনটি বড় প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এ বারের আইপিএল তাঁদের প্রত্যাবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪০
picture of cricket

(বাঁ দিকে) মহম্মদ শামি এবং আইপিএল ট্রফি (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগামী দু’বছরে সাদা বলের ক্রিকেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। ২০২৭ সালে এক দিনের বিশ্বকাপ। ২০২৮ সালে অলিম্পিক্স এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটারদের জন্য এ বারের আইপিএলের পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলের পর এক দিনের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের বেছে নেবেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর।

Advertisement

দেশের হয়ে যাঁরা সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত, তাঁদের জন্য আইপিএল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি লিগের পারফরম্যান্স বিবেচ্য হবে। যাঁরা জাতীয় দলে জায়গা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জন্য জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হতে পারে আইপিএল। এক সময় নিয়মিত ছিলেন, অথচ এখন জাতীয় দলের কাছাকাছিও নেই, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কম নয়। অন্তত পাঁচ জন বোলারের নাম রয়েছে এই তালিকায়। তাঁরা হলেন মহম্মদ শামি, যুজবেন্দ্র চহাল, মুকেশ কুমার, রবি বিশ্নোই, হর্ষল পটেল।

মহম্মদ শামি

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতীয় দলে আর জায়গা হয়নি শামির। একটা সময় ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন। বিশেষ করে টেস্ট এবং এক দিনের ক্রিকেটে শামিকে ছাড়া ভারতীয় দল ভাবাই যেত না। গত এক দিনের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালেই আইপিএলে বেগনি টুপি জেতেন। সে বছর ক্রিকেটজীবনের সম্ভবত সেরা ফর্মে ছিলেন তিনি। তার পর ধীরে ধীরে ভারতীয় দল থেকে দূরে চলে গিয়েছেন। যদিও তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

জসপ্রীত বুমরাহ চোটের জন্য গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারেননি। শামি হতাশ করেননি। বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন। সাফল্য পাচ্ছেন। তা-ও জাতীয় নির্বাচকদের খুশি করতে পারছেন না। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশ শামিকে টেস্ট দলে ফেরানোর দাবি তুলেছেন। তাতেও কান দেননি প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর।

শামি এ বার আইপিএল খেলবেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে। নতুন দলের হয়ে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে হবে ৩৫ বছরের জোরে বোলারকে। আইপিএলে খেলেন বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারেরা। নজর কাড়তে পারলে শামিকে উপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে। ঢুকে পড়তে পারেন আগামী বছরের এক দিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়। গত বিশ্বকাপের সেরা বোলারের জন্য এ বারের আইপিএল তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হতে পারে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ।

যুজবেন্দ্র চহাল

মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বাধীন টি-টোয়েন্টি দলের অন্যতম ভরসা ছিল ‘কুলচা’ জুটি। কুলদীপ যাদব এবং চহালকে একসঙ্গে এই নামে ডাকা হত। দেশের হয়ে ১৫০টির বেশি সাদা বলের ম্যাচ খেলেছেন ৩৫ বছরের লেগ স্পিনার। বছর তিনেক আগেও ভারতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন। তার পর কয়েক বার ডাক পেলেও খেলার সুযোগ পাননি।

দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসাবে বিবেচনা করা হয় চহালকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। আইপিএলেও চহালের চাহিদা বেশ ভাল। গত বারের মতো এ বারও খেলবেন পঞ্জাব কিংসের হয়ে। ভারতীয় শিবিরে তাঁকে আবার পাকা জায়গা ফিরিয়ে দিতে পারে আইপিএলের পারফরম্যান্স।

মুকেশ কুমার

গম্ভীর-আগরকর জমানায় শামির মতোই ভারতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন মুকেশ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে তিন ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুকেশের। সব মিলিয়ে এক বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন। খেলেছেন ৩টি টেস্ট, ৬টি এক দিনের ম্যাচ এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। প্রায় নিয়মিত হয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় শিবিরে। ধারাবাহিকতার অভাব এবং চোট সমস্যায় পিছিয়ে পড়েছেন মুকেশ।

এ বারের আইপিএল ৩২ বছরের মুকেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খেলবেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। দলের জোরে বোলিং আক্রমণের অন্যতম মুখ বাংলার ক্রিকেটার। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করতে পারেন। না-হলে আরও পিছিয়ে পড়তে হবে মুকেশকে।

রবি বিশ্নোই

২৫ বছরের লেগ স্পিনারও ভারতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে একাধিক ক্রিকেটারের চোটের কারণে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সুযোগ পান। দু’টি ম্যাচ খেলেন। বিশাখাত্তনমে ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৯ রান। বল হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, বলাই যায়। ১৫ জনের দলের একাধিক সদস্য চোট পেলে ডাক পড়ে বিশ্নোইয়ের। অর্থাৎ কোচ-নির্বাচকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় তিনি নেই। বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন না।

দেশের হয়ে একটি এক দিনের ম্যাচ এবং ৪৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা বিশ্নোই এক সময় ভারতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন। চহালের আগে তাঁর কথা ভাবা হত। পরে ধারাবাহিকতার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশ্নোই আইপিএল খেলবেন রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে। ভাল পারফরম্যান্স করলে বিশ্নোইয়ের নামও উঠে যেতে পারে নির্বাচকদের খাতায়।

হর্ষল পটেল

আইপিএলে দু’বার বেগনি টুপি জিতেছেন হর্ষল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত ৩৫ বছরের জোরে বোলার। ১৩-১৪ মাস ভারতের টি-টোয়েন্টি দলেও নিয়মিত ছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর আর সুযোগ পাননি। হর্ষলও ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি। ছিটকে গিয়েছেন ভারতীয় দল থেকে। তিন বছরের বেশি ভারতীয় দলের বাইরে গুজরাতের ক্রিকেটার।

অলিম্পিক্স এবং আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলে জায়গা ফিরে পেতে আইপিএলকে পাখির চোখ করতে পারেন হর্ষলও। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

শামি, চহাল, হর্ষলের বয়স ৩৫। মুকেশের ৩২। বিশ্নোইয়ের ২৫। বিশ্নোইয়ের ক্রিকেটজীবনে দীর্ঘ সময় বাকি। বাকিরা প্রায় সকলেই শেষ দিকে। ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এ বারের আইপিএলে গুরুত্ব তাঁদের কাছে আরও বেশি। আগামী দু’বছরে সাদা বলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার কথা ধরলে এটাই হয়তো তাঁদের সামনে প্রত্যাবর্তনের শেষ বড় সুযোগ। আইপিএলে নজর থাকে অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীর। এই প্রতিযোগিতায় ভাল পারফর্ম করলে চাপ বাড়বে কোচ, নির্বাচকদের উপর।

Advertisement
আরও পড়ুন