কেকেআরের ২৫ কোটির ক্রিকেটার ক্যামেরন গ্রিন। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলে প্রতিটি দলই কমপক্ষে তিনটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। পারফরম্যান্সের বিচারে লিগ তালিকায় কেউ উপরের দিকে, কেউ নীচের দিকে। প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে লিগ জেতার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আইপিএলে প্রতিটি দলই নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটার কিনতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী কেউই খেলতে পারছেন না। আইপিএলের মাঝপথ আসার আগেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, পুরো টাকা জলে গেল কি না।
ঋষভ পন্থ (২৭ কোটি) এবং শ্রেয়স আয়ারকে (২৬.৭৫ কোটি) বাদ দিলে বাকি ১০ জন সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের মিলিত মূল্য ১২৫.২০ কোটি টাকা। সেই তালিকায় রবি বিশ্নোই (৭.২০ কোটি) খারাপ খেলছেন না। তাঁকেও যদি বাদ দেওয়া যায়, তা হলে মিলিত মূল্য এসে দাঁড়ায় ১১৮ কোটি টাকায়। এই টাকা খরচের পরেও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারেরা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারছেন না।
তালিকায় সকলের আগে থাকবে তাঁর নাম। কেকেআর তহবিল উজাড় করে দিয়েছিল তাঁকে নিতে। আন্দ্রে রাসেলের উত্তরসূরি হিসাবে ভাবা হচ্ছিল। যা খেলেছেন তাতে রাসেলের উত্তরসূরি তো দূর, এখনও ২০ শতাংশও হতে পারেননি। এমনিতেই প্রথম তিন ম্যাচে বল করেননি। চতুর্থ ম্যাচে বল করে দু’ওভারে ২৮ রান হজম করে একটি উইকেট নিলেন। চার ম্যাচে অবদান ৫৬ রান। তার থেকে একটু বেশি প্রত্যাশা থাকাই স্বাভাবিক।
বহু কোটি খরচ করে চেন্নাইয়ে সফল হওয়া ক্রিকেটারকে কিনেছিল কেকেআর। ফিটনেস সমস্যায় তিনি এখনও খেলতেই পারেননি। কবে আসবেন তারও কোনও ঠিক নেই। পাতিরানা না থাকায় কেকেআরের বোলিং বেশ দুর্বল। ডেথ ওভারে বল করার বা উইকেট নেওয়ার সুযোগ্য বোলার পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। এখনও দলের হয়ে দু’অঙ্কের রান পেরোতে পারেননি। ভবিষ্যৎ প্রতিভা তুলে আনার লক্ষ্যে দুই তরুণ তুর্কির উপরে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে চেন্নাই। একজন কার্তিক, অপরজন প্রশান্ত। কেউই এখনও প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেননি।
এত দিনে তিনটি ম্যাচে খেলেছেন কার্তিক। তার মধ্যে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ৪৩ রান করলেও দল হেরেছিল। তার পর থেকে এমন কিছু করে দেখাতে পারেননি যে জন্য শিরোনামে আসবেন। তরুণ তুর্কি হতাশ করছেন প্রতিটি ম্যাচেই।
আইপিএল জয়ী বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে অনেক দাম দিয়ে কিনেছে হায়দরাবাদ। কিন্তু দলের কম্বিনেশনের কারণে মাত্র একটিই ম্যাচ খেলেছেন। করেছেন ১৪ রান। লিভিংস্টোন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দরকারে বলও করতে পারেন। তাঁকে বসিয়ে রেখে হায়দরাবাদ ভুল করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আইপিএল শুরুর আগেই বোর্ডের নির্দেশে কেকেআর ছেড়ে দিয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনা নিয়ে অনেক জল বয়েছে। মুস্তাফিজুরের জায়গায় আসা ব্লেসিং মুজ়ারাবানি মোটামুটি খারাপ বল করছেন না। তবে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত তিনি ম্যাচ খেলতে পারেননি। লখনউ নিয়েছে তাঁকে। ইংলিশকে ঠাঁই দিতে গেলে মিচেল মার্শ বা এডেন মার্করামের মধ্যে কাউকে বসাতে হবে। সেই ঝুঁকি এখনও লখনউ নেয়নি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফর্ম করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরকে প্রথম বার রঞ্জি জিতিয়েছেন। কিন্তু আইপিএলে এখনও নিজের পায়ের তলায় জমি খুঁজে পাননি। অনেক দাম দিলেও দিল্লি এখনও তাঁর উপরে ভরসা দেখাতে পারেনি।
তালিকায় একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি নজর কেড়েছেন। ভারতীয় দলের হয়ে খেলে আবার বাদও পড়েছেন। তিন ম্যাচে সাত উইকেট নেওয়া বিশ্নোই গোটা প্রতিযোগিতায় এ রকমই খেললে আবার জাতীয় দলের দরজা খুলতে পারে।
তিনিও দলের কম্বিনেশনের কারণে খেলতে পারছেন না। এখনও একটিও ম্যাচে খেলেননি।