ICC T20 World Cup 2026

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইডেন গার্ডেন্সে ব‍্যাটে-বলে আইপিএলের ট্রেলার দেখিয়ে গেলেন কেকেআরের তিন! অ‍্যালেন-সেইফার্ট-রাচিন

দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই বড় প্রতিযোগিতায় চোকার্স। এ বার সুপার এইট পর্যন্ত অপরাজিত থাকা প্রোটিয়ারা সেমিফাইনালে উড়ে গেল ১২.৫ ওভারেই! উড়িয়ে দিলেন কেকেআরের তিন ক্রিকেটার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৩
picture of cricket

(বাঁ দিক থেকে) রাচিন রবীন্দ্র, ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্ট। ছবি: কেকেআর।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ত্রিমূর্তির রুদ্রমূর্তিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স দেখল শাহরুখ খানের নতুন দলের ঝলক। আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু আইপিএল। তার ২৪ দিন আগেই দামামা বাজিয়ে দিলেন ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট এবং রাচিন রবীন্দ্র। আইপিএলের গত নিলামেই তিন কিউয়ি ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছেন বেঙ্কি মাইসারোরা। অ্যালেনকে ২ কোটি টাকা, সেইফার্টকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং রাচিনকে ২ কোটি টাকায় কিনেছিলেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। সকলকেই তাঁদের ন্যূনতম দামে কিনেছিল কেকেআর। কারণ আইপিএলের বাকি দলগুলি তাঁদের নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি!

Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই বড় প্রতিযোগিতায় চোকার্স। এ বারও সেই তকমা সঙ্গী করেই জোহানেসবার্গ ফিরবে শুকরি কনরাডের দল। সুপার এইট পর্যন্ত অপরাজিত থাকা প্রোটিয়ারা সেমিফাইনালে উড়ে গেল ১২.৫ ওভারেই! উড়িয়ে দিলেন কেকেআরের দুই ব্যাটার। ১৭০ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই মার, মার এবং মার শুরু করলেন নিউ জ়িল্যান্ডের দুই ওপেনার অ্যালেন এবং সেইফার্ট। তাঁদের আগ্রাসী মেজাজের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারেরা। এত দিন নিয়ন্ত্রণ বোলিং করে আসা লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাডা, কেশব মহারাজদের দিশাহারা করে দিলেন তাঁরা। প্রোটিয়া বোলারেরা লাইন-লেংথ গুলিয়ে ফেললেন। ধারাভাষ্যকার হিসাবে দলের বিপর্যয় দেখলেন টেম্বা বাভুমা। অথচ ইডেনের এই ২২ গজেই কয়েক মাস আগে লাল বলের ক্রিকেটে শুভমন গিলের দলকে নাকানিচোবানি খাইয়েছিল তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথম উইকেটের জুটিতে ৯.১ ওভারে ১১৭ রান তোলেন সেইফার্ট এবং অ্যালেন। সেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করেন। ৭টি চার এবং ২টি ছয় এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। আরও আগ্রাসী ছিলেন অ্যালেন। তিনিও সতীর্থের মতোই ৩৩ বল খেলেন। অথচ করেন ১০০ রান। তাঁকে আউটই করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮টি চার এবং ১০টি ছক্কায় ইডেন মাতিয়ে নিউ জ়িল্যান্ডকে দ্বিতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে দিলেন অ্যালেন।

এ দিন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তৃতীয় দ্রুততম শতরানের নজির গড়লেন অ্যালেন। সবচেয়ে কম ২৭ বলে শতরান রয়েছে এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের। সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে নজির গড়েন তিনি। দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান তুরস্কের মহম্মদ ফাহাদের। ২৯ বলে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে শতরান রয়েছে তাঁর। নামিবিয়ার জ্যান নিকোল লফটি-ইটন ৩৩ বলে নেপালের বিরুদ্ধে শতরান করেন। জ়িম্বাবোয়ের সিকন্দর রাজাও গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩ বলে শতরান করেন। বুধবার ইডেনে লফটি-ইটন এবং রাজার নজির ছুঁলেন অ্যালেন। ৩৩ বলের ইনিংসে আরও একটি নজির গড়েছেন কেকেআরের কিউয়ি ক্রিকেটার। আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে ২০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম শতরানের নজির গড়েছেন তিনি।

সেইফআর্ট আউট হওয়ার পর রাচিন যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন নিউ জ়িল্যান্ডের জয় নিশ্চিত। ব্যাট হাতে ১১ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রাচিন। তার আগে বল হাতে ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডারই এ দিন নিউ জ়িল্যান্ডের সফলতম বোলার। অর্থাৎ, নিউ জ়িল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল কেকেআরের তিন ক্রিকেটারের দাপটে। ইডেনে তাঁদের এ দিনের পারফরম্যান্স কেকেআর সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই। আইপিএলে সেই চাপ সামলাতে হবে তিন জনকেই। এ দিন ম্যাচের পর সমাজমাধ্যমে কেকেআর লিখেছে, “বেগনি জার্সিতে দ্রুত দেখব। আগামী গ্রীষ্মে ইডেনে যা ঘটতে চলেছে, তার সাক্ষী থাকলাম আমরা।”

৩৩ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর ম্যাচের সেরা পুরস্কার অ্যালেন ছাড়া কাউকে দেওয়া যেত না। দেওয়া হয়ওনি। ম্যাচের পর তিনি বললেন, ‘‘আমার লক্ষ্য ছিল খুব সাধারণ। দলের জন্য পারফর্ম করা আর দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। আমি আর সেইফার্ট দলকে একটা ভাল শুরু দিতে চেয়েছিলাম। যাতে প্রথম থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোণঠাসা করে দেওয়া যায়। সে ভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি।’’ অ্যালেন প্রশংসা করলেন সাইফার্টেরও। বললেন, ‘‘শুরুটা ও-ই ভাল করেছিল। ওকে তাই বেশি বল খেলার সুযোগ দিচ্ছিলাম। ২২ গজের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম। এই ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই আমরা সোজা ব্যাটে খেলার চেষ্টা করেছি।’’

অ্যালেন জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ় খেলে তাঁরা লাভবান হয়েছেন। এখানকার আবহাওয়া এবং পিচের সঙ্গে ভাল ভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছেন। বিশ্বকাপে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

Advertisement
আরও পড়ুন