বিরাট কোহলি (বাঁ দিকে) ও রোহিত শর্মা। —ফাইল চিত্র।
ভারতীয় দলের হয়ে এখনও কোনও ফরম্যাটে অভিষেক হয়নি তাঁর। এমনকি, এ বারের আইপিএলের আগে তাঁর নাম খুব একটা শোনা যায়নি। এ বার নজর কেড়েছেন প্রিন্স যাদব। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ভাল বল করছেন তিনি। এখন থেকেই পরের বছরের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার সঙ্গে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য প্রিন্সের।
লখনউ সুপার জায়ান্টস প্রিন্সের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সেখানে তিনি বলেন, “বিরাট ও রোহিত ভাইয়ের সঙ্গে ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ খেলতে চাই। ওঁদের বিশ্বকাপ জেতাতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। এটাই আমার লক্ষ্য।”
ভারতীয় দল থেকে এখনও দূরে রয়েছেন প্রিন্স। কিন্তু আইপিএলে ভাল খেলে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার উদাহরণ কম নেই। প্রিন্সও সেটা জানেন। তিনিও চান, নিজের যোগ্যতায় বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিতে। এ বারের আইপিএলের পর ভারতের সাদা বলের ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেতে পারেন প্রিন্স। তবে এক দিনের দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে তাঁর আগে আরও অনেকে রয়েছেন। তার পরেও স্বপ্ন দেখা ছাড়ছেন না এই ডানহাতি পেসার।
এ বারের আইপিএলে ৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন প্রিন্স। বেগনি টুপির তালিকায় ছ’নম্বরে রয়েছেন তিনি। ওভার প্রতি ৮.০৬ রান দিয়েছেন তিনি। মহম্মদ শামি, মহসিন খানকে টপকে লখনউয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক তিনি।
বীরেন্দ্র সহবাগের নজফগড়ের কাছেই প্রিন্সের গ্রাম দরিয়াপুর খুর্দ। আর পাঁচটা ছেলের মতো বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামের মাঠে খেলতেন। নিছক আনন্দে। বাবাকে লুকিয়ে খেলতে হত তাঁকে। রেল পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বাবা ক্রিকেট পছন্দ করতেন না। তিনি চাইতেন, ছেলে পড়াশোনা করে বড় হয়ে ভাল চাকরি করুক। জানতে পারলেই প্রিন্সের পিঠে পড়ত মার! তা হলে? একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে প্রিন্স বলেছেন, ‘‘খেলার জন্য বাবার কাছে একটা সময় পর্যন্ত প্রচুর মার খেয়েছি। খেলাধুলো বাবা পছন্দ করতেন না। তাই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি কখনও। বন্ধুদের সঙ্গে এমনিই টেনিস বলে খেলতাম গ্রামে। মনের আনন্দে খেলতাম। যেমন সব বাচ্চারা খেলে। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত এ ভাবেই চলেছে।’’
কী করে বদলাল পরিস্থিতি? এ বার অবাক করলেন প্রিন্স। লখনউয়ের বোলার বললেন, ‘‘বদলায়নি তো। এখনও বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস বলে খেলি। গত বার আইপিএলের পর বাড়ি ফিরেও গ্রামে চুটিয়ে টেনিস বলে খেলেছি। একটা জিনিস অবশ্য বদলেছে। এখন খেললেও বাবার কাছে আর মার খেতে হয় না।’’
পরিবারের মূল আয়ের মাধ্যম এখন চাষাবাদ। গম চাষের টাকায় চলে প্রিন্সদের সংসার। ক্রিকেট থেকে বিরতি পেলে চাষের কাজে হাত লাগান প্রিন্স। তিনি বলেছেন, ‘‘বাড়িতে থাকলে জমিতে চলে যাই। চাষের কাজ করতে আমার ভালই লাগে। আইপিএল খেলতে আসার আগেও তো গম চাষ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।’’
দিল্লির হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন ২০২৪ সাল থেকে। আইপিএলে তিনি ঋষভ পন্থের দলের প্রথম একাদশের নিয়মিত সদস্য। এখনও টেনিস বলে খেলেন? প্রিন্সের জবাব, ‘‘সকলের কথা বলতে পারব না। আমার উপকার হয়। টেনিস বলে খেললে হাতের গতি বাড়ে। কারণ টেনিস বলে জোরে বল করলে প্রচুর চাপ পড়ে। বলে বেশ ভাল গতি না থাকলে ইয়র্কার দেওয়া যায় না। টেনিস বলে খেলায় আমার বলের গতি অনেক বেড়েছে।’’
প্রিন্স এখন বিসিসিআইয়েরও সুনজরে। ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের জন্য যে তরুণ জোরে বোলারদের আলাদা করে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে প্রিন্সের নাম। এখন দেখার, তাঁর স্বপ্নপূরণ হয় কি না।