তিলক বর্মার (ডান দিকে) সঙ্গে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা হার্দিক পাণ্ড্যের। ছবি: পিটিআই।
প্রথম ২২ বলে ১৯ রান। পরের ২৩ বলে ৮২। প্রথম গিয়ার থেকে এক লাফে সপ্তম গিয়ারে উঠে পড়েছিলেন তিলক বর্মা। ৪৫ বলে করেছেন অপরাজিত ১০১ রান। আইপিএলে নিজের প্রথম শতরান করে দলকে জিতিয়েছেন তিলক। চার ম্যাচে হারের পর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে জয়ে ফিরেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই শতরানের নেপথ্যে রয়েছে হার্দিক পাণ্ড্যের মন্ত্র। ম্যাচ শেষে তা ফাঁস করলেন তিলক।
মুম্বইয়ের ইনিংসে দ্বিতীয় স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটের সময় দেখা যায়, হার্দিক উত্তেজিত ভঙ্গিতে তিলককে কিছু একটা বলছেন। তার পর ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন মুম্বইয়ের বাঁহাতি ব্যাটার। কী বলেছিলেন হার্দিক? খেলা শেষে তিলক বলেন, “হার্দিক ভাই চিৎকার করে বলছিল, ‘তুই পারবি। তুই করে দেখাবি।’ আমি ওকে বলি, দয়া করে একটু শান্ত হও। আমি ম্যাচে মনঃসংযোগ করতে চাই। চিন্তা কোরো না। আমি ঠিক পারব।”
হার্দিক জানিয়েছেন, তিনি শুধু তিলককে বল দেখে শট মারতে বলেছিলেন। বাকিটা তিলক নিজেই করেছেন। খেলা শেষে মুম্বইয়ের অধিনায়ক বলেন, “তিলকের যা প্রতিভা তাতে আমার চিন্তার কিছু ছিল না। তাই ওকে বলেছিলাম, বল দেখে শট মারতে। এই ইনিংস যেমন তিলকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনই গোটা দলের জন্যও জরুরি ছিল।”
শুরুতে কেন ধীরে খেলছিলেন তিলক? তিনি জানিয়েছেন, পিচে থিতু হতে চেয়েছিলেন। তিলক বলেন, “প্রথম ২০ বলে একটু সময় নিয়েছিলাম। থিতু হতে চেয়েছিলাম। যখন পিচ বুঝে গেলাম, তখন নিজের উপর ভরসা রেখেছি। নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি।”
টানা চার হারে মুম্বইয়ের মনোবল তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই ইনিংস খুব জরুরি ছিল বলে মনে করেন তিলক। তিনি বলেন, “দলের এই জয় খুব জরুরি ছিল। তাই নিজেকে শান্ত রেখেছি। আমি সব দিকে শট মারতে পারি। কিন্তু চাপের মধ্যে জরুরি হল, নিজের উপর ভরসা রাখা। সেটাই এ দিন করেছি। নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।”
গুজরাতের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৯ রান করে মুম্বই। তিলকের ১০১ বাদে একমাত্র নমন ধীর করেন ৪৫ রান। জবাবে ১৫.৫ ওভারে মাত্র ১০০ রানে অল আউট হয়ে যায় গুজরাত। বল হাতে ৪ উইকেট নেন অশ্বনী কুমার। ৯৯ রানে ম্যাচ জেতে মুম্বই।