Ranji Trophy Final

ঢুঁসো মারায় বোর্ডের শাস্তি পাচ্ছেন পরশ, রঞ্জি ফাইনালে কর্নাটকের বিরুদ্ধে ৫০০ পেরিয়ে গেল জম্মু ও কাশ্মীরের রান

প্রথম বার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠলেও জম্মু ও কাশ্মীরের পারফরম্যান্স দেখে তা বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫০০ পেরিয়ে গেল তাদের রান। ঢুঁসো মারায় বোর্ডের থেকে শাস্তি পাচ্ছেন জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫২
cricket

জম্মু ও কাশ্মীরকে টানলেন কানহাইয়া (বাঁ দিকে) এবং পরশ। ছবি: পিটিআই।

প্রথম বার রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে উঠলেও জম্মু ও কাশ্মীরের পারফরম্যান্স দেখে তা একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫০০ পেরিয়ে গেল তাদের রান। হাতে এখনও চার উইকেট। ফলে ফাইনালের শুরুতেই ব্যাকফুটে কর্নাটক, যারা খেলছে ঘরের মাঠে। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫২৭/৬ তুলেছে জম্মু ও কাশ্মীর। মন্দ আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই খেলা শেষ করে দিতে হয়। তবে ঢুঁসো মারায় বোর্ডের থেকে শাস্তি পেয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা।

Advertisement

প্রথম দিনই শতরান করে অপরাজিত ছিলেন শুভম পুন্ডির। তিনি এ দিন ১২১ রানে আউট হন। বাকি কেউ শতরান করতে পারেননি ঠিকই। তবে প্রত্যেকে বড় রান করে নিজেদের মতো অবদান রেখেছেন।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ৪৮ মিনিট সাফল্য পায়নি কর্নাটক। জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটারেরা চেষ্টা করছিলেন নতুন বল পুরনো করে দেওয়ার। বিদ্যাধর পাতিলের বলে শুভমের শট পৌঁছোয় অনীশের হাতে। ১২৪ রানের জুটি শেষ হয়। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার আব্দুল সামাদের সঙ্গে যোগ দেন পরশ। অর্ধশতরানের পর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে ফিরে যান সামাদ (৬১)।

জম্মু ও কাশ্মীরের স্কোর যখন ৩০৭/৪, তখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল কর্নাটক। তবে পরশ এবং কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানের জুটি তাদের কাজ আরও কঠিন করে দেয়। ৩২ ওভারে ১১০ রানের জুটি গড়েন দু’জনে। প্রায় নতুন বলে ভাল বোলিং করছিলেন প্রসিদ্ধ। তবে পরশ এবং কানহাইয়ার আগ্রাসী ইনিংস তাঁর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। প্রসিদ্ধের বল খেলতে পরশের সমস্যা হলেও কানহাইয়া রান রেট নীচে নামতে দেননি। অনায়াসে ৪০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় জম্মু ও কাশ্মীর।

কানহাইয়া ফেরার পর জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংস টানতে থাকেন পরশ। একটি বল পরশের হেলমেটে লেগে স্টাম্পে লাগলেও বেল পড়েনি। তবে শ্রেয়স গোপালের একটি বলে রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে উইকেট খোয়ান পরশ।

তিনি ফেরার পর আবার সুযোগ এসেছিল কর্নাটকের সামনে। সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। পুরনো বলে কর্নাটকের কাজ কঠিন করে দেন সাহিল লোতরা এবং আবিদ মুস্তাক। কর্নাটকের বোলারদের ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে তাঁরা রান করতে থাকেন। দিনের শেষে ৫৬ রানের জুটি হয়ে গিয়েছে তাঁদের। পরিস্থিতি যা, তাতে বৃহস্পতিবার শুরুতেই জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংস শেষ করতে না পারলে ন্যূনতম লড়াই করার জায়গাও থাকবে না কর্নাটকের সামনে।

এ দিকে, কর্নাটকের বোলার কেভি অনীশকে ঢুঁসো মারায় বোর্ডের শাস্তি পাচ্ছেন পরশ। তাঁর ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। ম্যাচের পর পরশ বলেছেন, “খুব বড় ব্যাপার নয়। উত্তেজনার মুহূর্তে ওই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এ রকম দু’-এক বার হতেই পারে, বিশেষ করে ফাইনালের মতো ম্যাচে। সমস্যা সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

ঘটনাটি ঘটে জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারে। সতীর্থ কানহাইয়ার সঙ্গে ব্যাট করছিলেন পরশ। বল করছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাঁর একটি বল খেলার পরেই দেখা যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা অনীশের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন পরশ। তাঁদের মধ্যে কিছু কথা হয়। তার পরেই দেখা যায়, অনীশকে ঢুঁসো মারেন পরশ। তবে দুই ক্রিকেটারই হেলমেট পরে থাকায় মাথায় চোট লাগেনি। পরে বোঝা যায়, পরশকে স্লেজ করায় মেজাজ হারান জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক।

আচমকা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যান অনীশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন মায়াঙ্ক। তিনি পারসকে প্রশ্ন করেন, কেন ঢুঁসো মারলেন তিনি। তাতে পরশ আরও কিছু বলেন। ঘটনাস্থলে এ বার আসেন রাহুল। তাঁর সঙ্গেও বচসায় জড়ান পরশ। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে আসেন আম্পায়ারেরা। তাঁরা কথা বলেন পারসের সঙ্গে। কিছু ক্ষণ পর দেখা যায়, হাতের ইশারায় অনীশের কাছে ক্ষমা চাইছেন পরশ। কিন্তু তা মানতে চাননি অনীশ। তিনি বার বার হাতের ইশারায় দেখান, ঢুঁসো মেরে ভাল করেননি পরশ।

Advertisement
আরও পড়ুন