(বাঁ দিক থেকে) বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পাণ্ড্য, বাবর আজ়ম এবং উসমান তারিক। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ক্রিকেট মাঠে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া মানে শুধু একটি ম্যাচ নয়, জড়িয়ে থাকে রাজনীতিও। ম্যাচের ফলাফলের প্রভাব পড়ে দু’দেশেই। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যে ভাবে দুই দেশের ম্যাচে রাজনীতি ঢুকে পড়েছিল, তা সাম্প্রতিক কালে বিরল। ভারত-ম্যাচ বয়কট করা, পরে আইসিসি-র চাপে আট দিনেই অবস্থান বদল, বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা— সব মিলিয়ে এই ম্যাচের আগে যত ভাবে সম্ভব খবরে থাকার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। রবিবার যে ম্যাচ হতে চলেছে, সেখানেও নাটকের খামতি থাকার কথা নয়।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাতিল করার পরেই ভারতের প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন মহল থেকে চাপের ফলে সিদ্ধান্ত বদলেছে ঠিকই। কিন্তু রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। পাকিস্তান নিজেরাও জানত, ভারত-ম্যাচ না খেললে তাদের যে ক্ষতি হবে তা পূরণ করা কার্যত অসম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদল অবশ্যম্ভাবী ছিল।
গত বছর এশিয়া কাপে তিন বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। কোনও বারই দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। রবিবার করমর্দন দেখা যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা বল ঠেলেছেন ভারতের কোর্টে। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কোনও উত্তর দেননি। তিনি ধৈর্য ধরতে বলেছেন। ফলে করমর্দন হবে কি না, তা জানার জন্য আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
আপাতত রাজনীতি সরিয়ে রেখে দুই দেশই ক্রিকেট মাঠে লড়াই করার জন্য তৈরি হচ্ছে। ভারত এবং পাকিস্তান, দুই দেশকেই প্রাথমিক একটা ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই দেশই চাইবে পুরনো ভুল না করতে। ফলে অনুশীলনে দুই দেশের ক্রিকেটারদেরই দেখা গিয়েছে নিজেদের নিংড়ে দিতে।
ভারতীয় দলে যে সব ক্রিকেটার রয়েছেন, তা পাকিস্তানকে ভয় পাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট। তবে ভারত যে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে এমনটাও নয়। কিছু কিছু বিষয়ে তাদেরও চিন্তা থাকছে। যেমন, অভিষেক শর্মা খেলতে পারবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি খেলতে না পারলে ভরসা রাখতে হবে সেই সঞ্জু স্যামসনের উপরেই, যিনি কবে আবার ফর্মে ফিরবেন কেউ জানেন না।
কলম্বোর ঘূর্ণি পিচের কথা মাথায় রেখে দলে অতিরিক্ত স্পিনার আনতে পারে ভারত। হয়তো খেলানো হতে পারে কুলদীপ যাদবকে। রিঙ্কু সিংহের জায়গায় আসতে পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তবে ম্যাচের আগের দিন যে পিচ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে মনে হয়েছে এই পিচে রান উঠবে।
মিডল অর্ডার নিয়েও চিন্তা থাকবে ভারতের। ওপেনারেরা আচমকা ব্যর্থ হলে কী ভাবে পরিস্থিতি সামলান তিলক বর্মা, সূর্যকুমার, শিবম দুবেরা, তা দেখার। শিবম প্রতি ম্যাচে জায়গা পাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। কোন ম্যাচে ভাল খেলবেন, কোন ম্যাচে খারাপ তা কেউ জানেন না। খারাপ শটে আউট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে মারাত্মক।
আরও একটি বিষয় ভারতের বিপক্ষে যাচ্ছে। তা হল কলম্বোর আবহাওয়া। মুম্বইয়ে গরমের মধ্যে খেলার পর দিল্লিতে গিয়ে খেলেছে তারা। দিল্লির তাপমাত্রা বেশ কম ছিল। সেখান থেকে আবার কলম্বোর গরমে খেলতে যেতে হচ্ছে তাদের। বার বার আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ক্রিকেটারদের শরীরের উপর পড়ে কি না, সে দিকে নজর থাকবে।
পাকিস্তানের হাতে উসমান তারিক, সাইম আয়ুব, আবরার আহমেদ, শাদাব খান এবং মহম্মদ নওয়াজ়— পাঁচ জন স্পিনার রয়েছেন। যে কেউ নিজের দক্ষতায় ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। পাকিস্তানকে হারাতে গেলে তাদের স্পিনারদের সামলাতে হবে ভারতকে।
একটি বিষয় অবশ্য কারও হাতে নেই। তা হল কলম্বোর আবহাওয়া। ম্যাচের আগে এবং মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমর্থক থেকে সম্প্রচারকারী সংস্থা, কেউই চাইবেন না এই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাক। ম্যাচের মাঝে বৃষ্টি হলে দুই দলকেই কৌশল বদলাতে হবে। সেখানেও কে কাকে টেক্কা দেন, সেটা দেখার।