রহমানুল্লাহ গুরবাজ়। —ফাইল চিত্র।
ক্রিকেট মাঠে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান মুখোমুখি হওয়া মানেই উত্তেজনা। দু’দেশের মানুষের কাছেই এই ম্যাচ অনেকটা মর্যাদার লড়াই। বিশেষ করে আফগানেরা পাকিস্তানের কাছে হার মেনে নিতে পারেন না। ২০২২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে হারও মানতে পারেননি তাঁরা। আফগান ক্রিকেটপ্রেমীদের কয়েক জন চরম সিদ্ধান্ত নেন। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ়।
একটি পডকাস্টে সেই ঘটনা নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন, ‘‘আমার মতে ২০২২-এর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে হারটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সবচেয়ে কষ্ট দিয়েছিল। প্রচন্ড হতাশ হয়েছিলেন তাঁরা। ম্যাচের পর অনেককে কাঁদতে দেখেছিলাম। শুধু তাই নয়, কয়েক জন আত্মহত্যাও করেছিলেন। আসলে আমাদের দেশের মানুষ খুব আবেগপ্রবণ। আমরা ওদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই মাঠে নামি। ম্যাচ হারলে আমাদেরও কষ্ট হয়।’’
২০২২ সালের সেই ম্যাচ নিয়ে গুরবাজ় আরও বলেছেন, ‘‘ওই ম্যাচটা আমার এখনও পরিষ্কার মনে রয়েছে। খুব দুঃখের স্মৃতি। এখনও শারজার স্টেডিয়ামে ঢুকলে সেই হারের কথা মনে পড়ে। সে দিনের হারটা আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল। এখনও ভাবি, কী করে ম্যাচটা আমরা হারলাম! অবশ্যই আমাদের জেতা উচিত ছিল। আমাদের বোলিং ভাল হলেও ব্যাটিং ভাল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা আমরা হেরে গিয়েছিলাম।’’
সে বার এশিয়া কাপে সুপার সিক্সের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করেছিল ৬ উইকেটে ১২৯ রান। জবাবে ১৯.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩১ রান করে পাকিস্তান। ১ উইকেটে হেরে যান গুরবাজ়েরা।
২০২২-এর হার যেমন ভুলতে পারেননি, তেমনই গুরবাজ়ের মনে গেঁথে রয়েছে ২০২৩ সালের একটি ম্যাচ। সে বার এক দিনের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। সেই ম্যাচ নিয়ে আফগান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার বলেছেন, ‘‘আমরা ক্রিকেটার। আমরা আফগানিস্তানের মানুষদের জন্য খেলি। সমর্থকদের খুশির উপরই আমাদের খুশি নির্ভর করে। ওঁদের যদি জিজ্ঞেস করেন, সবচেয়ে স্মরণীয় জয় কোনটা, ওঁরা ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচের কথাই বলবেন। একজন ক্রিকেটার হিসাবে অন্য কোনও ক্রিকেটারের প্রতি আমার কোনও বিদ্বেষ নেই। তবে আমাদের সমর্থকেরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় ছাড়া কিছু বোঝেন না।’’
২০২৩ সালে এক দিনের বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান করে ৭ উইকেটে ২৮২ রান। জবাবে ৪৯ ওভারে ২ উইকেটে ২৮৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেন আফগানেরা। এখনও আফগানদের কাছে এটাই ক্রিকেটের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়।