শেন ওয়ার্ন। —ফাইল চিত্র।
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে দুষলেন তাঁর ছেলে জ্যাকসন। ময়নাতদন্তের পর তাইল্যান্ডে ওয়ার্নের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলা হয়েছিল। চার বছর পর জ্যাকসনের দাবি, সরকারের নির্দেশে নেওয়া কোভিড টিকার জন্যই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে।
একটি পডকাস্টে জ্যাকসনকে প্রশ্ন করা হয়, ওয়ার্নের মৃত্যুর নেপথ্যে কি কোভিড টিকার ভূমিকা ছিল? তিনি বলেছেন, ‘‘আমি নিশ্চিত, বাবার মৃত্যুর কারণ কোভিড টিকাই। এখন এটা কোনও বিতর্কিত বিষয় নয়। বাবার আগে থেকে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলেও কোভিড টিকাই সেই সমস্যাটাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। খবরটা পাওয়ার পর আমার প্রথমেই মনে হয়েছিল, বাবার মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী। কোভিড টিকার জন্যই বাবার মৃত্যু হয়েছে। টিকা নেওয়ার নির্দেশ সরকার দিয়েছিল।’’
২০২২ সালে তাইল্যান্ড হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওয়ার্নের। তাঁর মৃত্যু ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তাইল্যান্ডের পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছিল বলেও অভিযোগ ওঠে সে সময়। এমনকি তাঁর শরীরে ভায়াগ্রার (যৌন উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতি মিলেছিল বলেও জানা গিয়েছিল। জ্যাকসন মনে করেন, আসল কারণ করোনার টিকাই। তাঁর মতে, সরকারি নিয়মের কারণে কিছুটা বাধ্য হয়েই তিন-চারটি টিকা নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন স্পিনার।
ওয়ার্নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের প্রশাসনের ব্যবস্থায়। তা নিয়ে জ্যাকসন বলেছেন, ‘‘মনে হয়েছিল স্মরণ সভায় মুখ খুলি। সরকার এবং কোভিড টিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছিল, ওই পরিস্থিতিতে মুখ না খোলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনলাইনে রয়েছে। চাইলে যে কেউ দেখতে পারেন। বাবা তখন ভালই ছিলেন। দেখতেও আগের চেয়ে অনেক ঝরঝরে লাগছিল। হ্যাঁ, বাবা ধূমপান, মদ্যপান করতেন। কিন্তু সে সময়ের কত মানুষই তো বাবার চেয়ে বেশি ধূমপান বা মদ্যপান করেও ভালই রয়েছেন।’’
ওয়ার্নকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৪৫টি টেস্ট খেলে ৭০৮টি উইকেট নিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। ওয়ার্নের মৃত্যু স্তম্ভিত করে দিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্বকে।