মাঠে বৈভব সূর্যবংশীর (বাঁ দিকে) সঙ্গে কথা বিরাট কোহলির। ছবি: এক্স।
বৈভব সূর্যবংশীর কাছে এর থেকে বড় শেখার মঞ্চ হতে পারত না। গ্যালারিতে বসে সে দেখল, আইপিএলের ফাইনালের মতো ম্যাচে কী ভাবে রান তাড়া করতে হয়। কী ভাবে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। কী ভাবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হয়। গ্যালারিতে বসে থাকা বৈভবকে এই শিক্ষা দিলেন বিরাট কোহলি। শুধু নিজের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নয়, খেলা শেষে বৈভবকে সাফল্যের মন্ত্র শিখিয়ে দিলেন তিনি।
খেলা শেষে মাঠের ধারে তখন উল্লাস করছেন বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটারেরা। সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যেরাও। কোহলির সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিল বৈভব। পরনে নীল রঙের টি-শার্ট। নতুন চুলের ছাঁট। দল সফল না হলেও কমলা টুপি, প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট, সবচেয়ে বেশি ছক্কা, উদীয়মান ক্রিকেটারের মতো বেশ কয়েকটি পুরস্কার নিতে এসেছিল সে। আর সেখানে এসেই বৈভব পেয়ে গেল কোহলির মন্ত্র।
হঠাৎই দেখা যায়, কোহলি বৈভবের কাছে গিয়ে কিছু বলছেন। বৈভবের গলা জড়িয়ে কথা বলছিলেন তিনি। ঠিক কী বলেছেন তা বোঝা না গেলেও কোহলির শরীরী ভাষা ও হাতের ইশারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, বৈভবকে মনঃসংযোগ ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁকে ঠান্ডা মাথায় খেলতে বলছেন। বৈভবও কোহলির কথা মন দিয়ে শুনছিল। কয়েক মিনিটের কথোপকথনে সাফল্যের মন্ত্র পেল সে। কী ভাবে দীর্ঘ দিন ভারতের হয়ে খেলা সম্ভব, সেই শিক্ষা পেল ১৫ বছরের ছেলে।
এ বারের আইপিএলে অনেকটাই পরিণত দেখিয়েছে বৈভবকে। প্রতিটি বলে ছক্কা মারার চেষ্টা সে করেনি। বল দেখে খেলেছে। প্রয়োজনে কয়েকটি বলে সময় নিয়েছে। কোনও দিন নিজের জন্য খেলেনি। একটি শতরানের পাশাপাশি তিনটি ম্যাচে ৯০-এর ঘরে আউট হয়েছে সে। দলের কথা ভেবে খেলতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সকলকে ছাপিয়ে কমলা টুপি পেয়েছে বৈভব।
চলতি আইপিএলে ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছে বৈভব। ৪৮.৫০ গড় ও ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছে রাজস্থানের এই ওপেনার। একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ৭২টি ছক্কা মেরেছে বৈভব, যা আইপিএলের একটি মরসুমে সর্বাধিক। দ্রুততম ১০০০ রানের রেকর্ডও করেছে বৈভব। এই অল্প বয়সেই তারকা হয়ে উঠেছে সে। এখন থেকেই তাকে ভারতীয় দলে নেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞেরা। তার মাঝেই এ বার কোহলির পরামর্শ পেল বৈভব। পেল সাফল্যের মন্ত্র।