বিরাট কোহলি। ছবি: পিটিআই।
প্রায় দশ মাস পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। অথচ গোটা ম্যাচে খেলা দেখে এক বারও মনে হয়নি যে তিনি এত দিন এই ফরম্যাটে খেলেননি। শনিবার আইপিএলের প্রথম ম্যাচে এতটাই সাবলীল লেগেছে বিরাট কোহলির খেলা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থেকে বেঙ্গালুরুকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। ম্যাচের পর কোহলি স্বীকার করে নিয়েছেন, এখন যে বিরতি পান তাতে আসলে শরীর অনেক বেশি তরতাজা থাকে। তিনি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই আইপিএলে খেলতে এসেছেন।
১৬তম ওভারে হর্ষল পটেলের চার বলে ১৮ রান নিয়ে দলকে জেতানোর পর কোহলিকে দেখা গেল হাত আকাশের দিকে তুলতে। গ্যালারিতে বসে থাকা স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার দিকে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দিলেন। পাল্টা চুমু দিলেন অনুষ্কাও। এর পর রজত পাটিদারকে জড়িয়ে ধরলেন কোহলি। পাতিদার না থাকলে রান তাড়া করা আরও কঠিন হত।
কোহলি বলেন, “আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পেরে খুব ভাল লাগছে। এক বছর আগে এই মাঠেই শেষ বার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলাম। তবে সাম্প্রতিক কালে এক দিনের সিরিজ়ে যে ভাবে খেলেছি সেটা আমাকে ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। যে ধরনের শর্ট খেলি না, সেই শট খেলার চেষ্টা করিনি। আমি জানি যতক্ষণ আমার ছন্দ রয়েছে এবং যত ক্ষণ নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি, তত ক্ষণ সব ঠিকঠাকই হবে। আজ আরও এক বার মাঠে নেমে সেটা দেখাতে পেরেছি।”
ভারতের হয়ে এখন একটি ফরম্যাটেই খেলেন কোহলি। তাতে কি অসুবিধা হয় না? ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের জবাব, “গত ১৫ বছর ধরে যে ধরনের সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং যতগুলো ম্যাচ আমরা খেলেছি, তাতে সব সময় বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার একটা ঝুঁকি থাকতই। তাই এখন এই বিরতিগুলো আমাকে প্রচন্ড সাহায্য করে। আমি তরতাজা থাকি, উত্তেজিত থাকি। মাঠে ফিরলে সব সময় ১২০% দেওয়ার চেষ্টা করি। কম প্রস্তুতি নিয়ে কখনও খেলতে নামি না। আসলে এই বিরতিগুলো আমাকে মানসিকভাবে তরতাজা রাখে। যত ক্ষণ আপনি শারীরিকভাবে ফিট থাকছেন এবং মানসিক ভাবে তরতাজা থাকছেন, তত ক্ষণ সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং দলের জন্য আপনি অবদানও রাখতে পারবেন। ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই তো আমার কাজ। আমি কখনও জায়গা ধরে রাখতে চাই না। সব সময় ভাল খেলতে চাই এবং দলের হয়ে অবদান রাখতে চাই।”
হায়দরাবাদের অধিনায়ক ঈশান কিশন স্বীকার করে নিয়েছেন, কোহলিকে আউট করা দরকার ছিল। সেটা পারেননি বলেই তাঁদের হারতে হয়েছে। ঈশান বলেন, “বিপক্ষের ব্যাটারেরা দারুণ খেলেছে। বিশেষ করে বিরাট ভাই। ওর উইকেট নেওয়া দরকার ছিল। আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। প্রথম ম্যাচে এ ধরনের ভুল মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।”
এ দিনের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বেঙ্গালুরুর দেবদত্ত পাড়িক্কল। শুরু থেকে যে আগ্রাসী ব্যাটিং তিনি করেছেন তা বেঙ্গালুর কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। সতীর্থের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোহলি। বলেছেন, “অসাধারণ একটা ইনিংস দেখলাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাল খেলেছে। আমি চেয়েছিলাম পাওয়ার প্লে-তে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে। কিন্তু ওকে ও ভাবে খেলতে দেখার পর নিজে কিছুটা গুটিয়ে গিয়ে ওকে যতটা সম্ভব খেলার সুযোগ করে দিয়েছি। ও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপক্ষের হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নিয়েছে। একটা শটের কথা এখন আমার মনে পড়ছে। স্লোয়ার বলে মিড-অনের ওপর দিয়ে একটা ছক্কা মারল। তার পরেই ওকে আমি বললাম, এ ভাবেই চালিয়ে যাও। অসাধারণ বল মারছো। চেষ্টা করো বিপক্ষের হাত থেকে ম্যাচটা কেড়ে নিতে।”