অর্ধশতরানের পর কোহলি। ছবি: সমাজমাধ্যম।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সাই সুদর্শনের শতরান দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, ম্যাচটি কঠিন হতে চলেছে বেঙ্গালুরুর কাছে। কিন্তু বিরাট কোহলি যে দলের হয়ে রান তাড়া করতে নামেন তাদের সামনে কোনও লক্ষ্যই কঠিন নয়। শুক্রবারও আইপিএলে সেটা দেখা গেল। কোহলির অর্ধশতরানে ভর করে গুজরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিল আরসিবি। পয়েন্ট তালিকায় উঠে এল দুইয়ে। প্রথমে ব্যাট করে গুজরাত তোলে ২০৫/৩। জবাবে আরসিবি তোলে ২০৬/৫। এ দিনই বেঙ্গালুরুতে শেষ ‘হোম ম্যাচ’ ছিল আরসিবি-র। তারা শেষ দু’টি ‘হোম ম্যাচ’ খেলবে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে।
ফিল সল্টের চোট থাকায় এ দিন বেঙ্গালুরু সুযোগ দিয়েছিল জেকব বেথেলকে। তিনি ওপেন করতে নেমেছিলেন কোহলির সঙ্গে। কিন্তু তিনটি চার মেরে শুরুটা ভাল করলেও ১৪ রানের বেশি করতে পারলেন না। এর পর চিন্নাস্বামী জুড়ে শুধুই দেবদত্ত পডিক্কল এবং কোহলির আগ্রাসন। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে তুললেন ১১৭ রান। ওখানেই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে গেল।
পডিক্কল বেশি আগ্রাসী ছিলেন। গুজরাতের বোলারদের কোনও রেয়াত না করে তিনি শুরু থেকে চালিয়ে খেলতে থাকেন। ২টি চার এবং ৬টি ছয়ের সাহায্যে ২৭ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। কম যাননি কোহলিও। তিনি ৮টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ৪৪ বলে ৮১ রান করেন।
সুদর্শনের পাল্টা হিসাবে কোহলির সামনেও শতরান করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ১৪তম ওভারে জেসন হোল্ডারের একটি বল পুল করতে গিয়ে প্লেড-অন হয়ে যান। ব্যাটের কানায় বল লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়। আউট হওয়ার পর ক্রিজ়ে নিজের শটের প্রতি ক্ষোভপ্রকাশ করেন কোহলি। সাজঘরে ফেরার সময়েও কোহলিকে বিরক্তিতে অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। তবে চিন্নাস্বামী নায়ককে সম্মান জানাতে ভোলেনি। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে কোহলিকে সম্মান জানায়। তার মধ্যে ছিলেন কোহলির স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাও। কোহলিও পাল্টা ব্যাট তুলে অভিবাদন জানান।
কিছুটা চিন্তার মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল এর পরেই। দরকার না থাকা সত্ত্বেও আগ্রাসী খেলতে গিয়ে উইকেট হারান পাটীদার (৮) এবং জিতেশ শর্মা (১০)। তবে মাথা ঠান্ডা রেখে বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে দেন টিম ডেভিড (অপরাজিত ১০) এবং ক্রুণাল পাণ্ড্য (অপরাজিত ২৩)।
গুজরাতের আসল শক্তি তাদের প্রথম তিন ব্যাটার— সুদর্শন, শুভমন গিল এবং জস বাটলার। গত মরসুমেও এই তিন জনের ব্যাটের উপরেই নির্ভর করেছে দল। এ দিনও সেটাই দেখা যায়। ওপেনিং জুটিতেই গুজরাত তোলে ১২৮ রান। তবে সেই জুটিতে শুভমনের ভূমিকা বিশেষ ছিল না। গোড়া থেকে আগ্রাসী খেলেন সুদর্শনই। শুভমন স্রেফ একটা দিক ধরে রাখার দিকে মন দেন।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চলতি মরসুমে কোনও জুটি আরসিবি-কে এতটা শাসন করেনি। এই নিয়ে আট বার শতরানের জুটি হয়ে গেল সুদর্শন-শুভমন জুটির। ক্রমশ আইপিএলের অন্যতম সেরা জুটি হয়ে ওঠার দিকে এগোচ্ছেন তাঁরা। ২৪ বলে ৩২ করে আউট হন শুভমন। একটা সময় বড় শট খেলতে পারছিলেন না। সেটা করতে গিয়েই সুযশ শর্মার মন্থরগতির বলের ফাঁদে পা দেন তিনি।
১৫তম ওভারে শতরান করেন সুদর্শন। সুযশকে চার মেরে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছন তিনি। তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি ইনিংস। পরের ওভারেই জশ হেজ়লউড ফেরান সুদর্শনকে। সেই সঙ্গে রানের গতিও কমে যায়। একসময় গুজরাতকে দেখে মনে হচ্ছিল হেসেখেলে ২৫০-র কাছাকাছি রান তুলবে তারা। কিন্তু সুদর্শন এবং বাটলার (২৫) আউট হওয়ার পর রানের গতি অনেকটাই কমে যায়। ১৭-১৯ ওভারে ওঠে মাত্র ১৭ রান। শেষ ওভারে রাসিখ সালাম এবং ক্রুণাল পাণ্ড্যের চোটের কারণে ইনিংস শেষ হতে কিছুটা দেরি হয়। গুজরাতের হয়ে ক্রিজ়ে অপরাজিত থাকেন ওয়াশিংটন সুন্দর (১৯) এবং জেসন হোল্ডার (২৩)। তবে মাঝের দিকে বেশি রান না তোলার খেসারত দিতে হল গুজরাতকে।