(বাঁ দিক থেকে) মানব সুতার, প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার এবং হর্ষ দুবে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট এবং এক দিনের দলে চার জন নতুন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচকেরা। তিন জন টেস্ট দলে। তিন জন এক দিনের দলে। দু’জন সুযোগ পেয়েছেন দু’টি দলেই। প্রত্যেকে এই প্রথম ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। মানব সুতার, প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার এবং হর্ষ দুবেকে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তা ছাড়া গত কয়েক বছরে একসঙ্গে চার জন নতুন ক্রিকেটার সুযোগও পাননি ভারতীয় দলে।
মানব সুতার
টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন মানব। গুজরাত টাইটান্সের হয়ে আইপিএল খেলেন। ২৩ বছরের মানব বাঁহাতি স্পিনার এবং ব্যাটার। বোলিং অলরাউন্ডার। খবর পেয়েই বাবা জগদীশ সুতারকে ফোন করেন মানব। আনন্দে ভাল করে কথাও বলতে পারেননি। জগদীশ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমার ছেলে খুব কঠিন মনের। কিন্তু ভারতীয় দলে ডাক পেয়ে ভীষণ আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েছে। কথা বলতে পারছে না ঠিক মতো। আমাদের গোটা জীবনের স্বপ্ন সফল হল। মানব খুব পরিশ্রম করেছে। ওর জন্য আমি খুব খুশি।’’
ক্রিকেটের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে ১১ বছর বয়সে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন জগদীশ। মানবদের বাড়ি ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গঙ্গানগরে। জগদীশ একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ব্যাটার হোক। কিন্তু কোচ ধীরজ শর্মা বোলার তৈরি করেছেন মানবকে। ব্যাটের হাতও বেশ ভাল। এর আগে ২০২৩ সালে এক দিনের বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবির থেকে নেট বোলার হিসাবে ডাক পেয়েছিলেন মানব। তখন থেকেই ভারতের হয়ে খেলার কথা ভাবতে শুরু করেন। গত বছর আইপিএলে গুজরাতের হয়ে একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। ২০২৫ সালে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েও খেলার সুযোগ হয়নি। হতাশ হয়েছিলেন। পাশে ছিলেন ধীরজ। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রিয় ছাত্র এক দিন ভারতীয় দলে ডাক পাবেনই।
প্রিন্স যাদব
লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে আইপিএলে নজর কেড়েছেন। ঘরোয়া সাদা বলের ক্রিকেটেও ভাল পারফর্ম করেছেন। তারই পুরস্কার পেয়েছেন প্রিন্স। বীরেন্দ্র সহবাগের নজফগড় থেকে উঠে আসা জোরে বোলারকে নিয়ে আশাবাদী প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও। আইপিএলে বিরাট কোহলির পরামর্শ নিয়ে তাঁকেই আউট করেছেন। ১২ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন প্রিন্স। ২৪ বছরের ক্রিকেটারকে ভারতীয় জোরে বোলিং আক্রমণের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে। শুধু গতি দিয়েই ব্যাটারদের পরাস্ত করতে পারেন। তাঁকে আপাতত সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য ভাবা হচ্ছে।
গুরনুর ব্রার
দু’টি দলেই সুযোগ পেয়েছেন পঞ্জাবের ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির জোরে বোলার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দু’মরসুম ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। দেশের অন্যতম সেরা প্রতিশ্রুতিমান বোলার বলা হচ্ছে তাঁকে। ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়। পরের বছর পঞ্জাব কিংসের হয়ে আইপিএলে। গত রঞ্জি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলেছেন শুভমন গিলের সঙ্গে। ২৫ বছরের ক্রিকেটারের ব্যাটের হাত খারাপ নয়। শেষ দিকে নেমে দ্রুত কিছু রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে।
হর্ষ দুবে
দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত নাম হর্ষ। তাঁকেও দু’টি দলে রেখেছেন নির্বাচকেরা। বিদর্ভের স্পিনার গত রঞ্জি ট্রফিতে ৬৯টি উইকেট নেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে গত মরসুম থেকে খেলছেন ২৩ বছরের বাঁহাতি স্পিনার। ব্যাটও করতে পারেন ভাল। গত মরসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে আইপিএলের প্রথম ম্যাচ খেলেন। ম্যাচের আগে বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন কোহলির উইকেট নেবেন। বাবাকে দেওয়া কথা রেখে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন হর্ষ।
১০ বছর বয়সের আগে ক্রিকেট খেলা কী, জানতেন না। বাবার সঙ্গে স্কুলের বই কিনতে গিয়ে একটি মাঠে কয়েক জনকে খেলতে দেখেন। সেই থেকে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ। তাঁর বাবা আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান। মূলত মায়ের কাছেই বড় হওয়া। নিজের ক্রিকেটার হওয়ার পিছনে স্কুল শিক্ষিকা মায়ের অবদানের কথা এক বাক্যে স্বীকার করেন হর্ষ।