FIFA World Cup 2026

নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে বেলজিয়াম, দ্বিতীয় রাউন্ডে সালাহর মিশরও, মিলিমিটারে আটকে ইরানের স্বপ্ন

নিউ জ়িল্যান্ডকে একপেশে লড়াইয়ে ৫-১ ব্যবধানে হারাল বেলজিয়াম। গোল পেলেন কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকু। ছিটকে গেল কিউয়িরা। ইরানের সঙ্গে ড্র করে নকআউটে মহম্মদ সালাহর মিশর। আশায় থাকল গ্রুপে তৃতীয় ইরান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১০:৫২
Picture of Football

গোলের পর কেভিন ডি ব্রুইন। ছবি: রয়টার্স।

বেলজিয়াম- ৫

Advertisement

নিউ জ়িল্যান্ড – ১

বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নিউ জ়িল্যান্ড। ৫-১ ব্যবধানে দিতে গ্রুপ ‘জি’র এক নম্বর দল হিসাবে নকআউটে পৌঁছোলেন কেভিন ডি ব্রুইনেরা।

ম্যাচের প্রথম থেকে দাপট ছিল বেলজিয়ামের। তবে প্রথম গোল পেতে লেগে যায় ২৮ মিনিটে। কর্নার থেকে বল পেয়ে জটলা থেকে গোল করেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসা। তিনিই ৫০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ত্রোসাই। মাঝ মাঠ থেকে ডি ব্রুইন বল বাড়ান হান্স ফানাকানেকে। তিনি পাস দেন বক্সে থাকা ত্রোসাকে। তাঁর শট আটকে দেন নিউ জ়িল্যান্ডের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন ত্রোসা। ৬৬ মিনিটে বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল ডি ব্রুইনের। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমায় নিউ জ়িল্যান্ড। এই গোল বেলজিয়াম রক্ষণের ভুলের ফসল। কর্নার থেকে আসা বল ঠিক মতো ক্লিয়ার করতে পারেননি বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারেরা। বক্সের বাইরে বল পেয়ে এলিজা জাস্ট শক্তিশালী শটে গোল করেন। তার পরও বেলজিয়ামের দাপট অব্যাহত ছিল। ৮৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে নড়ার সুযোগ না দিয়েই হেডে গোল করেন রোমেলু লুকাকু। তাঁকে বক্সে বল বাড়ান পরিবর্ত হিসাবে নামা নিকোলাস রাসকিন। খেলার শেষ মুহূর্তে বেলজিয়ামকে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস। এই হারে গ্রুপে চার নম্বরে শেষ করে বিদায় নিল কিউয়িরা।

ইরান-মিশর ড্র

মহম্মদ সালাহদের রুখে দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান। দু’দলের সামনেই সুযোগ থাকায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলে তারা। ৫ মিনিটেই মাহমুদ সাবের এগিয়ে দেন মিশরকে। এই গোল বিশ্বকাপে মিশরের দ্রুততম। পরের মিনিটেই গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ইরানের মেহেদি তারেমি। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি এশিয়ার অন্যতম সেরা দলকে। ১৪ মিনিটে গোল করেন রামিন রেজ়াইন। শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ইরান। সংযুক্ত সময় গোলও করে ফেলে তারা। ইরানের ফুটবলারেরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেও অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় গোলটি। কয়েক মিলিমিটারের জন্য অফসাইড হয়।

রেফারি অবশ্য প্রথমে গোল দিয়েছিলেন। মিশরের গোলরক্ষকের একটি সেভের পর আলগা বল পেয়ে শুজায়ে খলিলজ়াদেহ গোল করেন। ইরানের ফুটবলারেরা মেতেও ওঠেন। দীর্ঘ ‘ভার’ পর্যালোচনার পর খলিলজ়া্দেহকে কয়েক মিলিমিটারের জন্য অফসাইড ঘোষণা করা হয়। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং ইরানের নিশ্চিত জয় হাতছাড়াহয়। এই ম্যাচ ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’ রানার্স হয়ে নকআউটে চলে গেল মিশর। অপেক্ষায় থাকল তৃতীয় স্থানে শেষ করা ইরান।

নকআউটে স্পেন, বিদায় উরুগুয়ের

উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে গেল স্পেন। গ্রুপে শেষ ম্যাচ হেরে ছিটকে গেল দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে প্রথম ম্যাচেই আটকে দিয়েছিল কাবো ভার্দে। সেই ধাক্কা সামলে পর পর দু’ম্যাচ জিতল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের আগে চার দলের সামনেই সম্ভাবনা ছিল। সুবিধাজনক জায়গায় ছিলেন লামিনে ইয়ামালেরা। উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করলেও তাঁরা রাউন্ড অফ ৩২-এ চলে যেতেন। তবে ড্রয়ের কথা ভেবে খেলতে নামেননি ইউরোপ চ্যাম্পিয়নেরা। লামিনেকেও শুরু থেকে খেলিয়েছে স্পেন। উরুগুয়েকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দল সাজান স্পেন কোচ। ৪২ মিনিটে উরুগুয়ের গোলরক্ষকের ভুলে এগিয়ে যায় স্পেন। আলেক্স বায়েনার গোলমুখী দুর্বল শট ধরতে পারেননি উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসরেলা। বল তাঁর হাত ফস্কে গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়িয়ে যায়। স্পেন নিজেদের সেরা খেলা খেলতে না পারলেও দাপট তাদেরই বেশি ছিল।

দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে উরুগুয়েকে জিততেই হত। তা-ও দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেও সফল হয়নি উরুগুয়ে। শেষ বেলায় মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখেন আগস্টিন কাবানি। ম্যাচ হেরে বিদায় নিল উরুগুয়ে। পয়েন্টের হিসাবে তাদের পক্ষে তৃতীয় স্থানে শেষ করা প্রথম আট দলের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা নেই। গত বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গিয়েছিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।

আর্জেন্টিনার সামনে কাবো ভার্দে

প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কাবো ভার্দে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ম্যাচের আগে গোলরক্ষক ভোজ়িনহা বলেছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন নকআউট খেলা। কাবো ভার্দের দেড় লাখ বাসিন্দার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল। সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও ঢাল হয়ে ওঠেন ভোজ়িনহা। অন্তত তিন বার দলের পতন রুখেছেন ৪০ বছরের গোলরক্ষক। পরের ম্যাচে কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

নরওয়েকে হারাল ফ্রান্স

উসমান দেম্বেলে- কিলিয়ান এমবাপে জুটির দাপটে দাঁড়াতেই পারল না আর্লিং হালান্ডহীন নরওয়ে। ম্যাচের ফল ফ্রান্সের পক্ষে ৪-১। চারটি গোলই হল ৩২ মিনিটের মধ্যে। তার মধ্যেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করলেন দেম্বেলে।

নরওয়েকে প্রথমেই কোণঠাসা করে দেওয়াই ছিল দিদিয়ের দেশঁর দলের লক্ষ্য। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে ফ্রান্স। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে দ্রুত আক্রমণে উঠছিল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। ২৫ সেকেন্ডেই এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে ফল আসে দ্রুতই। ৭ মিনিটেই ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। এমবাপের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করেন দেম্বেলে। ২০ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলও এমবাপে-দেম্বেলে যুগলবন্দির ফল। মাঝমাঠে বল ধরে দেম্বেলেকে বল বাড়ান এমবাপে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নরওয়ের তিন জন ডিফেন্ডারের বাধা টপকে গোল করেন দেম্বেলে। নরওয়ের গোলরক্ষক চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন প্যারিস সঁ জরমঁ তারকা। এ বার বক্সের ভিতরে অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে নরওয়ের গোল রক্ষককে পরাস্ত করেন দেম্বেলে। আর্জেন্টিনার লিয়োনেস মেসি, কানাডার জোনাথন ডেভিডের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসাবে এ বারের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন ফরাসি তারকা।

সেনেগালের কাছে বিধ্বস্ত ইরাক

ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এ তৃতীয় স্থানে শেষ করল সেনেগাল। নকআউটে তাদের যাওয়া নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর। ১৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ইরাকের রেবিন সুলাকা। গোল করার কাছাকাছি জায়গায় চলে যাওয়া সাদিয়ো মানেকে ফাউল করায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে তার আগেই ৪ মিনিটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। ৫৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল ইসমাইলা সারের। ইরাকের রক্ষণ ভাগের ভুল কাজে লাগান তিনি। ৫৯ মিনিটে তৃতীয় গোল পরিবর্ত হিসাবে নামা পাপে গেয়ের। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গেয়ে। ৮২ মিনিটে পঞ্চম গোল ইলিমান এনদিয়ায়ের।

Advertisement
আরও পড়ুন