FIFA World Cup 2026

নেমারের ছেলেকে চিনতে পারল না পুলিশ! অনুপ্রবেশকারী ভেবে মাঠে নামতে বাধা, দেখেই ছুটলেন ব্রাজ়িলের তারকা

ব্রাজ়িল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর মাঠে নামার চেষ্টা করে নেমারের ছেলে দাভি লুকা। কিন্তু মাঠে নামার আগেই তারে আটকে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৫:৩৪
football

খেলা শেষে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস নেমারের। ছবি: এক্স।

বাবার সঙ্গে দেশের জয় উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিল দাভি লুকা। তাই ব্রাজ়িল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর গ্যালারি থেকে মাঠে নামতে যায় সে। তখনই বিপত্তি। তাকে অনুপ্রবেশকারী ভেবে আটকে দেন পুলিশকর্মীরা। এ দৃশ্য দেখে সেখানে ছুটে যান নেমার নিজেই। তিনি বলার পর অবশ্য দাভিকে মাঠে নামতে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

Advertisement

৯৮১ দিন পর ব্রাজ়িলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন নেমার। স্বভাবতই তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও হাজির ছিলেন মাঠে। খেলা শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসের পর গ্যালারির কাছে যান নেমার। সেখানে তখন বসে দাভি। বাবাকে দেখেই সে গ্যালারি থেকে মাঠে নামার চেষ্টা করে।

কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা দাভিকে চিনতে পারেননি। তাঁরা ভাবেন কোনও কিশোর জোর করে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। তাই দাভিকে আটকে দেন তাঁরা। তা দেখে নেমার সে দিকে ছোটেন। তিনি পুলিশকর্মীদের বলার পর অবশ্য দাভিকে ছেড়ে দেন তাঁরা। মাঠে নেমে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ১৪ বছরের দাভি। বোনদের সঙ্গেও উল্লাসে মাততে দেখা যায় তাকে।

মাঠে ছিলেন নেমারের বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্ডি। নেমারের আরও দুই সন্তান মেভি ও মেলও মাঠে ছিল। তাদের কোলে নিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় নেমারকে। ব্রাজ়িলের তারকার চার সন্তান। প্রথম বান্ধবী ক্যারোলিনা ডান্টাসের ছেলে দাভি। ২০১১ সালে তার জন্ম। তার পর ২০২৩ সালে ব্রুনা জন্ম দেন মেভিকে। ব্রুনার সঙ্গে সম্পর্কে থাকতে থাকতেই আমান্ডা কিম্বারলি নামের এক মডেলের সঙ্গে সম্পর্ক হয় নেমারের। তাঁদের সন্তান হেলেনা। ২০২৪ সালে তার জন্ম। সে মায়ের কাছেই থাকে। ২০২৫ সালে ব্রুনা জন্ম দেন মেলকে। চলতি বছরই ব্রুনা জানিয়েছেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। অর্থাৎ, পঞ্চম সন্তান আসতে চলেছে নেমারের ঘরে।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বারের বিশ্বকাপে নেমার খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। বিশ্বকাপের আগে চোটে অনেক দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তার পরেও নেমারকে বিশ্বকাপের দলে রেখেছেন ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। তিনি জানেন, ১৬ বছর ধরে ব্রাজ়িলের হয়ে ১২৯ ম্যাচ খেলা নেমারকে প্রয়োজন পড়বে তাঁর। তবে নেমারকে খেলানো নিয়ে তাড়াহুড়ো করেননি আনচেলোত্তি। ধীরে ধীরে তাঁকে ম্যাচফিট করে তুলছেন কোচ।

স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ছিলেন না নেমার। কিন্তু পরিবর্ত ফুটবলারদের তালিকায় তাঁর নাম দেখে একটা ইঙ্গিত মিলেছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটের মাথায় দেখা যায়, বেঞ্চ থেকে বেরিয়ে ওয়ার্ম আপ করছেন নেমার। তখনই চিৎকার শুরু করে দেন ব্রাজ়িলের সমর্থকেরা। শেষে ৭৬ মিনিটের মাথায় পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামেন নেমার। মায়ামির স্টেডিয়ামে তখন চিৎকারে কান পাতা দায়। ৯৮১ দিন পর মাঠে নেমে খুব বেশি কিছু করতে হয়নি নেমারকে। তখন দল ৩-০ গোলে এগিয়ে। ফলে চাপ পড়েনি তাঁর উপর। হাসতে হাসতে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউটে গিয়েছে ব্রাজ়িল।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কিন্তু খেলা শেষে দেখা যায় নেমারের আবেগ। সতীর্থেরা যখন তাঁকে এসে জড়িয়ে ধরছেন, গ্যালারিতে তাঁর নাম ধরে চিৎকার হচ্ছে, তখন দেখা গেল, জার্সিতে মুখ লুকিয়ে কাঁদছেন নেমার। এত দিন পর দেশের জার্সিতে নেমে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজ়িলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৯ গোল করা ফুটবলার। মাঠে ছিলেন নেমারের পরিবারের সদস্যেরাও। খেলা শেষে তাঁরা মাঠে নেমে আসেন। পরিবারের সঙ্গে দলের জয়ের উল্লাসে মাতেন নেমার।

Advertisement
আরও পড়ুন