East Bengal

শেষ মুহূর্তে গোল হজম, টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট ইস্টবেঙ্গলের, সেই একই রোগ ডোবাল অস্কারের দলকে

শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে নিশ্চিত তিন পয়েন্ট যুবভারতীর মাঠে ফেলে এল ইস্টবেঙ্গল। কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে। পাঁচ ম্যাচ আট পয়েন্ট হল ইস্টবেঙ্গলের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৭
football

এজ়েজারির গোল করার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত।

ইস্টবেঙ্গল ১ (ইউসেফ)
কেরল ব্লাস্টার্স ১ (আজসল)

Advertisement

সংযুক্তি সময়ের খেলা চলার সময়েই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা তিন পয়েন্টের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। সেই স্বপ্ন সফল হতে দিলেন না লাল-হলুদ জার্সিধারী ফুটবলারেরাই! রক্ষণের ভুলে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে নিশ্চিত তিন পয়েন্ট যুবভারতীর মাঠে ফেলে এল ইস্টবেঙ্গল। কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে। পাঁচ ম্যাচ আট পয়েন্ট হল ইস্টবেঙ্গলের। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইউসেফ এজ়েজারি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করেন কেরলের আজসল।

টানা তিনটি ম্যাচে সাত পয়েন্ট নষ্ট করল ইস্টবেঙ্গল। ১৩ ম্যাচের লিগে এই সাত পয়েন্ট অনেকটাই পিছনে ফেলে দিতে পারে তাদের। বিশেষ করে আগের চারটি ম্যাচেই হারা কেরলের বিরুদ্ধে কী করে অস্কার ব্রুজ়োর দল ড্র করল, তা ভেবেই বিস্মিত হতে হয়। গোটা ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের থেকে কেরলের আক্রমণ এবং সক্রিয়তা ছিল বেশি। ম্যাচের আগের দিন অস্কার অনেক ভাল ভাল কথা বলেছিলেন ফুটবলার এবং দল সম্পর্কে। নিজের কৃতিত্বের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তবে সে সব যে ফুটবলারদের কানে ঢোকেনি তা এই ম্যাচ থেকেই পরিষ্কার। সহজ সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন ইউসেফরা।

ম্যাচের শুরু থেকে কেরলকে চাপে রাখার চেষ্টা করছিল ইস্টবেঙ্গল। তাদের খেলা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল গোটা দল তিন পয়েন্ট পেতে মরিয়া হয়ে নেমেছে। তবে কেরলও ছাড়েনি। ফাইনাল থার্ডে গিয়ে তারা চাপে রাখার চেষ্টা করছিল ইস্টবেঙ্গলকে।

১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডান দিকে বল পেয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। বক্সে ঢুকে তিনি নিজে গোলে শট নেওয়ার বদলে পাস দেন বক্সে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসেফ বল পায়ে লাগানোর আগেই কেরলের এক ফুটবলার তাঁকে ফেলে দেন। রেফারি হরিশ কুণ্ডু সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে ইউসেফ গোল করতে ভুল করেননি।

গোল খেয়ে আরও ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের। সেখানে তারা ঝিমিয়ে পড়ল। উল্টে তেড়েফুঁড়ে বার বার আক্রমণে উঠছিল কেরল। মাঝে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটা সুযোগ তৈরি করেছিলেন বিপিন সিংহ। তা কাজে লাগাতে পারেননি ইউসেফ।

এ দিন শুরু থেকে অস্কার নামিয়েছিলেন সাউল ক্রেসপোকে। তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলার মধ্যে সেই ঝাঁজটাই দেখা গেল না যা দরকার ছিল এই ম্যাচে। ইউসেফ এমন একটি সুযোগ নষ্ট করলেন যা চোখে দেখা যায় না। বক্সের বাইরে থাকা আসা ক্রসে স্রেফ পা ঠেকালেই চলত। সেটাই পারলেন না তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ফাইনাল থার্ডে এসে বার বার আটকে যাচ্ছিল তাদের আক্রমণ। কেরলের ফুটবলারদের প্রশংসা প্রাপ্য। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের দোষও কম নয়। দু’দিকে খেলা ছড়িয়ে দিয়ে যেখানে আক্রমণ করা উচিত ছিল, সেখানে তাঁরা বার বার কেরলের পায়ের জঙ্গলে আটকে যাচ্ছিলেন।

সংযুক্তি সময়ে প্রায় হালই ছেড়ে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যেন ভেবে নিয়েছিল, তিন পয়েন্ট পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। সেটাই কাল হল। একটি কর্নার থেকে ফাঁকায় হেড করে সমতা ফেরালেন আজসল। লাল-হলুদের অন্তত চার-পাঁচজন ফুটবলার সামনে ছিলেন। কেউ আজসলকে খেয়ালই করেননি! ফাঁকায় গোল করে ইস্টবেঙ্গল মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন