মহড়া: গোয়ার সালভাদর মাঠে ওড়িশা ম্যাচের প্রস্তুতিতে অ্যান্টন, ডেভিডরা। সোমবার। সৌজন্য ইস্টবেঙ্গল
গোয়ার মাটিতেই ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হেরে। ডার্বিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারানোর আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সেই গোয়াতেই আজ, মঙ্গলবার ওড়িশা এফসিকে হারিয়ে আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই মশালবাহিনীর।
আইএসএলে এই মরসুমে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচই জিতেছে ওড়িশা এফসি। পয়েন্ট টেবলে ১৩তম স্থানে রয়েছেন রহিম আলিরা। তবুও স্বস্তি নেই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। আক্রমণের প্রধান ভরসা মিগুয়েল ফিগুয়েরা নির্বাসিত। মাঝমাঠের মহম্মদ রশিদ এবং রক্ষণের আনোয়ার আলি সদ্য চোটমুক্ত হয়েছেন। তাই প্রতিপক্ষ যত দুর্বলই হোক, উদ্বেগ দূর হচ্ছে না কোচ অস্কার ব্রুসোর।
গোয়ায় সোমবার বিকেলে রশিদ ও আনোয়ার পুরোদমেই অনুশীলন করেছেন। তবে ওড়িশার বিরুদ্ধে দুই তারকাকে শুরু থেকে খেলাবেন কি না ম্যাচের দিন সকালেই সিদ্ধান্ত নেবেন অস্কার। গোয়া রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেছিলেন, ‘‘এই মরসুমে আমাদের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ওড়িশা এফসি-র বিরুদ্ধে। জিতলে ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে যাব। এই ম্যাচের উপরেই নির্ভর করবে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করতে পারব কি না।’’ যোগ করেছেন, ‘‘ওড়িশা আগের ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে। তাই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে হবে।’’
আইএসএলে এখনও পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০বার। ওড়িশা জিতেছে আটটি ম্যাচে। ইস্টবেঙ্গলের জয় মাত্র একটিতে ম্যাচেই। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। দুই দল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। জেরি মাওহমিংথাঙ্গা ও হুগো বুমোসের গোলে ওড়িশা ২-১ জিতেছিল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন লাল চুংনুঙ্গা। এ বার অবশ্য পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গিয়েছে। শক্তির বিচারে অনেক এগিয়ে মশালবাহিনী। ওড়িশা পয়েন্ট টেবলের ১৩ নম্বরে থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের কাঁটা হতে পারেন এক বঙ্গ স্ট্রাইকার। তিনি, রহিম আলি। আগের ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ওড়িশা হারলেও গোল করেছিলেন তিনি। রহিম বলেছেন, ‘‘খেলার উন্নতির লক্ষ্যে আমরা অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করছি। সতীর্থদের অনুপ্রাণিতও করছি। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। তাই আমাদের একে অপরেরপাশে দাঁড়াতে হবে।’’
আইএসএলের পয়েন্ট টেবলের শীর্ষ স্থানে থাকা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের নয় ম্যাচে ২০ পয়েন্ট। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে এফসি গোয়া (১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট), মুম্বই সিটি এফসি (১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট), জামশেদপুর এফসি (১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট) এবং বেঙ্গালুরু এফসি (১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট)। আট ম্যাচ থেকে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার গোয়ার বিরুদ্ধে জিতলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসার সুযোগ থাকবে মশালবাহিনীর সামনে।
বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ২৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেছিলেন মিগুয়েল। ৬৬ মিনিট দশ জনে খেলেও ৩-৩ ড্র করেছিল পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গল। এই কারণেই ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে রেফারিং নিয়ে চিন্তিত অস্কার। কলকাতা ছাড়ার আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রথম ছয়-সাতটি ম্যাচে আমার মনে হয়েছিল সিদ্ধান্তগুলি মোটামুটি ঠিকই ছিল। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে কিছু সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য হয়নি।’’ যোগ করেছেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য, সংযম বজায় রাখা। এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। বিশেষ করে গত মরসুমে যখন অনুভব করেছিলাম অনেক সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গিয়েছিল। এ বার প্রথম ছয়-সাতটি ম্যাচে বিষয়টা তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। কোনও দলই বিশেষ সুবিধা পায়নি। কিন্তু তার পরে পরিস্থিতি বদলে যায়।’’ এই কারণেই মশালবাহিনীর রণকৌশল হল দ্রুত গোল করে এগিয়ে যাওয়া। সোমবার অনুশীলনে তিনি সব চেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন সেট-পিস থেকে গোল করার মহড়ায়। সালভাদরের মাঠ খুব একটা ভাল নয় বলে ম্যাচ অনুশীলন করানোর ঝুঁকি নেননি ইস্টবেঙ্গলের স্পেনীয় চাণক্য।
বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ইউসেফ এজ়েজ্জারি গোল না পেলেও পরিবর্ত হিসেবে নেমে কোচের আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন অ্যান্টন সোজ়বার্গ। সংযুক্ত সময়ে (৯০+৭ মিনিট) করা তাঁর গোলেই ইস্টবেঙ্গল নিশ্চিত হার বাঁচিয়েছিল। ওড়িশার বিরুদ্ধে শুধু গোল নয়, শুরু থেকেই খেলতে মরিয়া তিনি। বলেছেন, ‘‘স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করার দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। আমি এখন শুধু সামনের দিকে তাকাতে চাই। আশা করছি, ওড়িশার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই খেলব। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ।’’ এর পরেই যোগ করলেন, ‘‘শুরু থেকেই খেলি বা পরিবর্ত হিসেবে নামি, আমার লক্ষ্য থাকে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। দলকে জিততে সাহায্য করা।’’
অ্যান্টনের আশাই পূর্ণ হতে চলেছে। তাঁকে রেখেই প্রথম একাদশ গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল অস্কারের।
মঙ্গলবার আইএসএলে: ইস্টবেঙ্গল বনাম ওড়িশা এফসি (সন্ধে ৭.৩০, সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে)।