FIFA World Cup 2026

বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ম্যাচ সেরার ভিন্ন পুরস্কার! কেন আলাদা ব্যবস্থা ফিফার?

২০২২ সালের বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপে ট্রফিতে থাকা মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো হাত দিয়ে ঢেকে দেন। সে জন্য তাঁকে জরিমানা দিতে হয়। তবু এমবাপে লোগো দেখাতে রাজি হননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ২৩:১৬
Picture of Football

মহম্মদ সালাহ। ছবি: রয়টার্স।

বিশ্বকাপ ফুটবলে ম্যাচের সেরা ফুটবলারদের যে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ বৈষম্যের। মহম্মদ সালাহ, আশরফ হাকিমিদের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী ফুটবলারদের ম্যাচের সেরার পুরস্কার হিসাবে যে ট্রফি দেওয়া হচ্ছে, তা নাকি বাকিদের থেকে আলাদা।

Advertisement

বিষয়টা বৈষম্যের নয়। মুসলিম ফুটবলারদের ধর্মীয় ভাবাবেগে যাতে কোনও আঘাত না লাগে, সেই জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে ফিফা। ম্যাচের সেরা ফুটবলারদের যে ট্রফি দেওয়া হচ্ছে, তার স্পনসর মিশেলব আল্ট্রা নামের একটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা। ট্রফিতে সংস্থাটির নাম লেখা রয়েছে। ট্রফি পাওয়ার পর ফুটবলারেরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, তার পিছনেও থাকছে ওই সংস্থার নাম। লিয়োনেল মেসি, ভিনিসিয়াস জুনিয়র বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের দেওয়া ট্রফিতে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থাটির নাম রয়েছে। তাঁরা ছবিও তুলেছেন ওই সংস্থাটির নাম পিছনে রেখে।

ঠিক এই কারণেই মুলসিম ফুটবলারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হয়েছে ফিফাকে। ইসলাম ধর্মে মদ নিষিদ্ধ। অনেক ফুটবলারই ধর্মীয় এই অনুশাসন কঠোর ভাবে মেনে চলেন। তাই মুসলিম ফুটবলারেরা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলে যে ট্রফি দেওয়া হচ্ছে, তাতে থাকছে না মদ প্রস্তুতকারক সংস্থাটির নাম বা লোগো। তাঁরা যে জায়গায় ছবি তুলছেন, তার পিছনেও লেখা থাকছে না সংস্থাটির নাম। বকি সব কিছু একই থাকছে।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন মিশরের ফুটবলার মোহামেদ এল শেনায়ি। সে বারও পুরস্কারের স্পনসর ছিল একটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা। ট্রফিতে ওই সংস্থার নাম এবং লোগো থাকায় তা নিতে অস্বীকার করেন শেনায়ি। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। ২০২২ সালেও কিলিয়ান এমবাপে ট্রফিতে থাকা মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। সে জন্য তাঁকে জরিমানাও দিতে হয়। তবু এমবাপে লোগো দেখাতে রাজি হননি। বেশ কয়েক জন মুসলিম ফুটবলারও ট্রফিতে থাকা লোগো ঢেকে দেন হাত দিয়ে। মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ওঠে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে প্রথম থেকেই সতর্ক ছিল ফিফা। তাই এ বার আলাদা ট্রফির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন