মধ্যমণি: ‘দীপক জ্যোতি’ পাওয়ার পরে ভাইচুং। রয়েছেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিকাশ পাঁজি। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।
লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েকদিন থেকেই চলছে চর্চা। সেই বিষয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়াও। ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘দীপক জ্যোতি’ সম্মান পাওয়ার পরে ভাইচুং জানিয়ে দিলেন ক্লাব ও লগ্নিকারী সংস্থার মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে, তবেই দল ফের সাফল্যের সরণিতে ফিরবে।
ইস্টবেঙ্গলে রবিবার পালিত হল ক্লাবের নবরূপকার দীপক (পল্টু) দাসের ২৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরেও ‘দীপক জ্যোতি’ সম্মানে সম্মানিত করা হল সমাজের নানা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। সম্মাননা জ্ঞাপনের পাশাপাশি দীপক দাসের স্মরণে তাঁকে নিয়ে একটি পুস্তিকাও উদ্বোধন করেন ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলাররা। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে হাজির করানো হয় দীপক দাসকেও। সেখানে দেখা যায় তিনি একটি গাড়ি থেকে নেমে নবরূপে সজ্জিত ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ঘুরে দেখছেন।
ভাইচুংয়ের হাতে স্মারক তুলে দেন ক্লাবের তিন প্রাক্তন ফুটবলার বিকাশ পাঁজি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। তার পরেই ভাইচুং বলে দেন, “আমি ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে। ভাস্করদা এবং পল্টুদা না থাকলে আমি হয়তো এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারতাম না। ১৭ বছর বয়সে ভাস্করদা আমাকে সিকিম থেকে নিয়ে আসেন। ক্লাবে আসার পরে আমার দেখভাল করেছেন পল্টুদা।”
এর পরেই কর্পোরেটের ঝাঁ-চকচকে মোড়ক কী ভাবে ফুটবলারদের থেকে ক্লাবের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে, সেই বিষয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন ইস্টবেঙ্গলের বহু যুদ্ধের নায়ক। “ক্লাবের সদস্য থেকে সমর্থকদের হাতে দল পরিচালনার দায়িত্ব থাকা উচিত। শুধুমাত্র ব্যবসার স্বার্থে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান চালানো উচিত নয়। ইস্টবেঙ্গলের যে দলটি আইএসএলে খেলছে, তার সঙ্গে ক্লাব তাঁবুর যেন এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই দূরত্ব কমিয়ে ইস্টবেঙ্গলের নামাঙ্কিত ছাতার তলায় আনতে হবে,” বক্তব্য ভাইচুংয়ের।
সোমবার আইএসএলে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচের প্রসঙ্গে ভাইচুং বলেছেন, “সব ম্যাচ নক-আউট ভেবে খেলতে হবে। আইএসএলের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক পয়েন্টও খোয়ানো চলবে না।”
ভাইচুং ছাড়াও ‘দীপক জ্যোতি’ সম্মান পেলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চিকিৎসক রাজা ধর, শিক্ষাবিদ ডঃ সমিত রায়, আইজীবী জয়ন্ত মিত্র। ইস্টবেঙ্গলের মেয়েদের সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজ়,অ্যাথলেটিক্স দল এবং খো খো দলকে সংবর্ধিত করা হয়।