(বাঁ দিকে) ইরানের ফুটবল দল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে জটিলতা বাড়তে শুরু করেছে। আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয় ইরান। তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি মেক্সিকোয় সরিয়ে দেওয়ার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করল ইরানের ফুটবল সংস্থা। বিশ্বকাপের বেশি ম্যাচ আয়োজন করতে রাজি মেক্সিকোও।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো সঙ্কট ফুটবল বিশ্বকাপে। ভারতে ক্রিকেটার, কর্তা, সমর্থকদের নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে, এই দাবিতে লিটন দাসদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফুটবলারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আমেরিকা থেকে ম্যাচ সরিয়ে দেওয়ার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করল ইরানের ফুটবল সংস্থা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না। তিনি ঘুরিয়ে ইরানের ফুটবল দলকে আমেরিকায় যেতে বারণ করেছেন। বিষয়টা উদ্বেগের। আমরা ফিফার সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের ম্যাচগুলো আমেরিকা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’’ তাজ নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করেননি। মেক্সিকোয় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি ইরানের খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলস এবং সিয়াটেলে।
কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’’ জবাবে ইরানের ফুটবল দলের তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, ‘‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর নিয়ন্ত্রক ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের জাতীয় দল তার শক্তি এবং সাহসী ফুটবলারদের সুবাদে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে। সে কারণে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। ইচ্ছা হলেই কেউ ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’’
অন্য দিকে, ইরানের প্রস্তাব লুফে নিয়েছে মেক্সিকো। সে দেশের প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাম বলেছেন, ‘‘আমাদের কোনও সমস্যা নেই। ইরানের সব ম্যাচ আয়োজন করতে আমরা প্রস্তুত। বিশ্বকাপের উদ্যোক্তারা ম্যাচে কেন্দ্র পরিবর্তন করতে রাজি হলেই আমরা সব ব্যবস্থা করে ফেলব।’’
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ সামরিক হামলা চালাচ্ছে ইরানে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ফুটবল বিশ্বকাপের উপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।