গোলের পর উল্লাস লিয়োনেল মেসির। ছবি: রয়টার্স।
একেই বলে সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মতো খেলা। যে আক্রমণ তৈরি হয়েছিল মেসির পায়ে, তা শেষও হল মেসির পায়েই। বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থের উদ্দেশে পাস বাড়িয়েছিলেন। সেই বল যায় ম্যাকঅ্যালিস্টারের কাছে। তাঁর জোরালো শট কোনও রকমে বাঁচান লুকা। কিন্তু ফিরতি বল আসে মেসির পায়ে। ডান পায়ে গোল করে দলকে ২-০ এগিয়ে দিলেন তিনি।
৫৫ মিনিটের মাথায় আক্রমণে জোড়া বদল করলেন স্কালোনি। লাউতারো মার্তিনেজ় ও থিয়াগো আলমাডার বদলে নিকোলাস গঞ্জালেজ় ও ইউলিয়ান আলভারেজ়কে নামালেন তিনি। আক্রমণে যাতে মেসির উপর চাপ কমে, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। স্কালোনি চাইছেন, যত ক্ষণ সম্ভব মেসিকে মাঠে রাখতে। এখনও খুব একটা ক্লান্ত দেখাচ্ছে না তাঁকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর কয়েক মিনিট পর প্রতি আক্রমণ থেকে ভাল সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্তে অনেকটা ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন ডি পল। বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। ডি পল নিজেই শট মারতে পারতেন। কিন্তু মেসিকে খোঁজার চেষ্টা করেন। তাঁর পাস ভাল হয়নি। ফলে গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
গোল খাওয়ার পর শোধ করার মরিয়া চেষ্টা করেছে আলজেরিয়া। কিন্তু প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে মেসিকে দেখে মনে হয়নি, খেলতে কোনও সমস্যা হচ্ছে। পুরো ৯০ মিনিট কি খেলবেন তিনি? কোচ স্কালোনির পরিকল্পনা বোঝা যাবে দ্বিতীয়ার্ধে।
এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। তারা জানে, আলজেরিয়া গোল করার চেষ্টা করবে। তাই খেলার গতি কমিয়ে আলজেরিয়াকে সুযোগ কম দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তবে পায়ে বল পেলে দেখা যাচ্ছে মেসির সেই চোরা গতি।
মেসি জানেন, প্রতিপক্ষ কোচ পেটকোভিচ তাঁকে নজরে রাখবেন। তাই এক জায়গায় থাকছেন না তিনি। কখনও নীচে নেমে খেলা তৈরি করছেন। আবার কখনও উপরে উঠছেন। ফাঁকা জায়গায় থাকছেন তিনি। তাতে সতীর্থদের সুবিধা হচ্ছে, মেসিকে খুঁজে নিতে।
বেশি ক্ষণ পায়ে বল রাখছেন না আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। ওয়ান টাচ ফুটবল খেলছেন তাঁরা। বল পেলে সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে দিচ্ছেন। তাতে খেলার গতি বাড়ছে। প্রতিপক্ষ সুযোগ পাচ্ছে না বলের দখল নেওয়ার।
মেসির জন্য দু’জন ডিফেন্ডারকে রেখেছিলেন আলজেরিয়ার কোচ। তাই বেশি ক্ষণ পায়ে বল রাখতে সমস্যা হচ্ছিল। তারও ওষুধ বার করলেন মেসি। মাঝমাঠে বল ধরে খানিকটা দৌড়ালেন। বক্সে ঢোকার চেষ্টাও করলেন না। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করলেন। লুকা বলে হাত লাগালেও আটকাতে পারলেন না। ১৭ মিনিটে ১-০ গোলে এগোল আর্জেন্টিনা।
শুরু থেকেই দুই দল মাঝমাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। খাতায়-কলমে শক্তিশালী দল হলেও আর্জেন্টিনা পুরোপুরি মাঝমাঠের দখল নিতে পারেনি। বেশ কয়েক বার তাদের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছে আলজেরিয়া। দেখে মনে হচ্ছে, এখনও থিতু হতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপের চাপ কি নিজেদের উপর চাপিয়ে নিচ্ছে তারা?
ডিফেন্ডারদের থেকেও বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে ভার প্রযুক্তির দায়িত্বে থাকা দলকে। ১০ মিনিটের মধ্যেই দু’দল এক বার করে গোল করে ফেলেছিল। আর্জেন্টিনার হয়ে বল জালে জড়ান মেসি। কিন্তু দু’বার অফসাইডে গোল বাতিল হয়। অর্থাৎ, ভার-এর দলকে তৎপর থাকতে হচ্ছে।
আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের নাম লুকা জ়িদান। বাবার নাম জিনেদিন জ়িদান। ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। কিন্তু লুকা মায়ের দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছিল, মেসি কি শুরু থেকে খেলবেন? তার জবাব দিয়ে দিলেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। মেসিকে শুরু থেকেই নামিয়ে দিলেন তিনি। স্কালোনি চান, শুরুতেই গোল তুলে নিতে। আর তার জন্য মেসির উপরেই ভরসা রেখেছেন তিনি।