—প্রতীকী চিত্র।
ম্যাচ শুরু হতে তখনও প্রায় মিনিট দশেক বাকি। কিশোর ভারতীর খাঁ খাঁ করা গ্যালারিতে চোখে পড়ল দুই সাদা-কালো সমর্থক হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে বসে রয়েছেন। সেই ছবিটা ম্যাচের পরেও বদলাল না। শক্তিশালী বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে লড়াই করেও ১-২ হারতে হল মহমেডান স্পোর্টিংকে। টানা চার ম্যাচে হেরে অবনমনের সামনে মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর ছেলেরা।
শেষ ম্যাচে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ০-২ হারতে হয়েছিল বেঙ্গালুরুকে। ফলে প্রথম একাদশে ভারতীয় তারকাকে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর কোচ রেনেডি সিংহ। প্রথম থেকেই রায়ান উইলিয়ামস, সুনীল ও আশিক কুরুনিয়ন— এই ত্রিফলায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় মহমেডানের রক্ষণের। ১৭ মিনিটের মাথায় ডান দিক থেকে রায়ানের মাইনাসে ভারসাম্য রেখে বল জালে জড়াতে পারেননি ফানাই। দু’মিনিট পরে ফের তাঁর শট মহমেডানের গোলরক্ষক পদম ছেত্রীকে পরাস্ত করলেও গোললাইনের সামনে থেকে বল বিপন্মুক্ত করেন সাজ্জাদ হুসেন। তবে সুনীলদের গোলের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ২২ মিনিটে চলতি আইএসএলের প্রথম গোলটি করেন রায়ান। ৪২ মিনিটে দুরপাল্লার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আশিক।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ দেখা যায় মহমেডানের খেলায়। ৫১ মিনিটে আদিসন সিংহের নেওয়া ক্রস রাহুল ভেকের মাথায় লেগে যায় মহীতোষ রায়ের কাছে। তিনি গোল করতে ভুল করেননি। ৬৫ মিনিটে লালথানকিমার শট ক্রসবারে লাগে। খেলার একেবারে শেষে তাঁর নেওয়া শট ফের ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু। এ দিকে শুক্রবার প্রয়াত হয়েছেন মহমেডানের প্রাক্তন ফুটবলার সৈয়দ হাবিবুল হাসান। তাঁর প্রয়াণে ফুটবলজগতে শোকের ছায়া।
আইএসএলের অন্য ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সকে ০-১ গোলে হারিয়েছে চেন্নাইয়িন এফসি। একমাত্র গোলটি করেছেন ইমরান খান।
মহমেডান: পদম ছেত্রী, সাজ্জাদ হুসেন প্যারে (হীরা মণ্ডল), দীনেশ মেইতেই, গৌরব বোরা, জোসেফ লালমুয়ানওয়ামা, তাংভা রাগুই (লালগাইসাকা), মহীতোষ রায়, অমরজিৎ সিংহ কিয়াম, লালথানকিমা, আদিসন সিংহ, ইসরাফিল দেওয়ান (ফারদিন)।